সোমবার ১৪ জুন, ২০২১

বাজেটে শ্রমজীবীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি শ্রমিক ফ্রন্টের

শনিবার, ২৯ মে ২০২১, ১১:৫৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: করোনায়কর্মহীন শ্রমিকদের খাদ্য, চিকিৎসা ও অর্থ সহায়তায় এবং শ্রমিকদের জন্য আর্মি রেটে রেশন,আবাসন, চিকিৎসা, সর্বজনীন পেনশন চালু করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ মে)বিকাল ৫টায় কেন্দ্রীয় দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসাবে শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এই সমাবেশ ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রমিক ফ্রন্টেরনারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেনগার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টনারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি এম এ মিল্টন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণসম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, দপ্তর সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টরূপগঞ্জ উপজেলার সংগঠক মো. সোহেল, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলের সংগঠক আনোয়ার হোসেন খান।

সমাবেশে বক্তারাবলেন, করোনার সংক্রমণে সাধারণ জীবনযাত্রা যখন স্থবির সেই সময়ও জীবনের ঝুঁকি নিয়েশ্রমিকরা উৎপাদনের চাকা সচল রাখায় করোনা দুর্যোগকালীন সময়েও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিপেয়েছে, জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ১৯০৯ ডলার যা গত দুই বছরেবৃদ্ধি পেয়ে ২২২৭ ডলার হয়েছে। অথচ দেশের সম্পদ বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কারিগরশ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পাওয়ার পরিবর্তে কমেছে কমপক্ষে ২০ শতাংশ। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানবলছে আয় কমে যাওয়ায় প্রায় ৫২ শতাংশ পরিবার প্রতিদিনের খাদ্য ব্যয়ের পরিমাণ কমিয়েছে।বিশ্ব ব্যাংক বলছে, করোনায় বাংলাদেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যাদের দৈনিক আয় ১.৯ডলারের কম তাদের সংখ্যা ১২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২২ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ করোনাকালেদেশের সম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈষম্যের মাত্রা বেড়েছে। কয়েক হাজার মানুষ কোটিপতি হওয়ারবিপরীতে কোটি-কোটি মানুষ দরিদ্র থেকে অতি দরিদ্রে পরিণত হচ্ছে। এই শ্রমজীবী দরিদ্রমানুষেরা রাষ্ট্রের খরচের অধিকাংশ জোগান দেয়। গতবছর দেশের মোট রাজস্ব আয়ের ৫০শতাংশের বেশি এসেছে ভ্যাট আর আমদানি শুল্ক থেকে যার দায় চূড়ান্তভাবে ভোক্তা অর্থাৎসংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের উপর পরে।

বক্তারা আরও বলেন, করোনা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমজীবীদের জন্য বিশেষত মোট শ্রম শক্তির ৮৫ শতাংশপর্যটন, হোটেল- রেষ্টুরেন্ট, নির্মাণ, তাঁত, পাদুকা, কুলি, পরিবহন, হালকাযানবাহনচালকসহ অপ্রাতিষ্ঠানিতক খাতের শ্রমিক এবং বিদেশ প্রত্যাগত শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেকর্মসংস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা ও অর্থ সহায়তার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ করার পাশাপাশিসমস্ত শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দদিয়ে শ্রমিকদের জন্য আর্মি রেটে রেশন, শ্রমিকঘন অঞ্চলে চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমেবিনামূল্যে চিকিৎসা এবং সার্বজনীন পেনশন চালু করার দাবি জানাচ্ছি।

সব খবর
সংগঠন সংবাদ বিভাগের সর্বশেষ