মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২০

বাজারে শিশু খাদ্যপণ্যের সংকট, আকাশচুম্বী দাম

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২০, ১৮:৫২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট ও ভোগ্যপণ্য আমদানি। যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। সকল প্রকার আমদানি বন্ধ হওয়ায় বাইরের দেশগুলো থেকে আসা সকল শিশুখাদ্যপণ্যের আমদানিও বন্ধ রয়েছে। ফলে বাজারে শিশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। যার সুযোগ নিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। সাধারণের তুলনায় দ্বিগুণ, তিনগুণ মূল্যে বিক্রি করছে এ সকল পণ্য। ফলে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা।

শনিবার (২১ মার্চ) সকালে নগরীর প্রধান পাইকারি ও খুচরা বাজার দিগুবাবুর বাজার ও কালিরবাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানাগুলোতে নেই বিদেশী শিশু খাদ্যপণ্য। যে সকল দোকানগুলোতে আছে তাতে আকাশচুম্বী দাম। ফলে অনেকেই নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন দেশীয় শিশু খাদ্যপণ্যের দিকে। তবে চাহিদা বাড়ায় দেশীয় শিশু খাদ্যপণ্যগুলোও বিক্রি হচ্ছে কিছুটা বেশি দামে।

বাজারের সর্বশেষ তথ্যমতে, বিদেশী নেসলে কোম্পানির লেকটোজেন দুধ ৬৫০ গ্রাম ১ হাজার ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, ১ কেজি ৮০০ গ্রাম পরিমাণের দুধ ২ হাজার ৭০০ টাকা এবং আড়াই কেজির দাম ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। যা স্বভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ। একই কোম্পানির ‘নিডো’ ১৮০০ গ্রাম ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহেও ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেছে। স্যারোলেক্স ১ কেজি ১০০ গ্রাম ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নেসলে কোম্পানির ন্যান দুধের কৌটা ৩ হাজার ৩০০ টাকা। যা কিছুদিন আগেও ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অন্যদিকে পিডিয়া শিওর ৯০০ গ্রাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। যা গত সপ্তাহেও ১ হাজার ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

কালিরবাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারী দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়। তবে চাহিদা অনুযায়ী নেই পণ্য। অনেক ঘুরাঘুরির পর সুমন ট্রেডার্স নামে একটি দোকানে দেখা মিলল বিদেশী শিশু খাদ্যপণ্য। তবে দামশুনে চোখ কপালে উঠার উপক্রম।

ক্রেতাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শিশু খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে তার চেয়েও বেশি।

এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা মো. কাউসার বলেন, ‘বিদেশী পণ্য আমদানি একদম বন্ধ। কারো কাছেই এ সকল পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের কাছে আছে তারাও চাড়া দামে সাপ্লাই দিচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকে না।’

অভিভাবক মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুজির পরও কোথাও পাচ্ছিলাম না। শেষে একজন অভিভাবক একটি পাইকারি দোকানের নাম বললেন, সেখানেও অনেক ভিড়। কষ্ট হয়েছে তবে শেষ পর্যন্ত একটা আড়াই কেজির কৌটা পেয়েছি। তবে দাম অনেক বেশি। প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনতে হলো। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে তো আর বাচ্চাদের খাওয়ানো যাবে না। আবার শুনলাম দেশী পণ্যগুলোর দামও কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।’

উদ্যোক্তা মাফরোজা আইভীর দুই সন্তান। দুই মেয়ের মধ্যে ছোট মেয়ে এখনো শিশু খাদ্যপণ্য খেয়ে অভ্যস্ত। শিশুখাদ্যের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত তিনি। মাফরোজা আইভী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘১০দিন আগেও ‘লেকটোজেন-১’ এক কেজি ৮০০ গ্রাম কিনেছি ২ হাজার টাকায় এখন সেটার দাম ২ হাজার ৭০০ টাকা। বাচ্চাকে তো আর না খাইয়ে রাখা যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে কিনতেই হচ্ছে। তার উপর বাজার শিশু খাদ্যপণ্য নেই। কিছুদিন পর নাকি আর পাওয়াই যাবে না। এভাবে কতদিন চলবে আল্লাহ জানে।’

১নং রেল গেট সংলগ্ন পাইকারি বাজারের মো. সফিউল্লাহ ট্রেডাসের বিক্রেতা বলেন, ‘মার্কেটে কারো কাছে এই পণ্যগুলো নেই। সাপ্লাইয়ারা এইসব পণ্য আর দিচ্ছে না। আমাদের কাছে কিছু পণ্য মজুদ ছিল সেগুলোই বিক্রি করছি। আর বাজারের নিয়ম এটাই যে, চাহিদা বেশি থাকলে দাম বৃদ্ধি পাবেই।’

এদিকে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি রোধে প্রশাসনের নজরদারির বিকল্প দেখছেন না ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, অসাধু কিছু ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের দায়সারা ভাবের কারণেই বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে এ পর্যন্ত একাধিক দোকানে অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে কোথাও অস্বাভাবিক কিছু পাইনি এবং অধিক মূল্য রাখার বিষয়টিও দেখা যায়নি। তারা আমদানিকারকদের দেয়া মূল্য ট্যাগ অনুযায়ী বিক্রি করছে। তবে কেউ যদি কোনো দোকানের বিষয়ে অভিযোগ করে এবং অধিক মূল্য রাখার প্রমাণ দেয় বা রশিদ দেখাতে পারে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া আমাদের অভিযান নিয়মিত চলছে।’

সব খবর
অর্থনীতি বিভাগের সর্বশেষ