বৃহস্পতিবার ২৩ জানুয়ারি, ২০২০

বাউল শিল্পী শরিয়ত বয়াতির পাশে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৩৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার বাউল শিল্পী শরিয়ত বয়াতির মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, বাসদের জেলা সমন্বয়কারী নিখিল দাস, সিপিবির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, শিল্পী অমল আকাশ, খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক ফারুক মহসিন, নারী সংহতি আন্দোলনের সদস্য সচিব পপি রাণী সরকার, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান রিচার্ড প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদ।

রফিউর রাব্বি বলেন, ‘গানের পক্ষে-বিপক্ষে অনেক হাদিস রয়েছে। প্রতিটা দেশেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। এমনকি সৌদি আরবেও জাতীয় সংগীত রয়েছে। গান নিষিদ্ধ হলে তো এটা হতো না। কিন্তু সেই গানের পক্ষে কথা বলায় শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেফতার করা হলো। এটা সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়।’

নিখিল দাস বলেন, ‘একটা স্বাধীন দেশে সকলে সকলে মতামত ব্যক্ত করতে পারবেন। এমনটাই রয়েছে সংবিধানে। সেখানে শরিয়ত বয়াতিও কথা বলেছেন। তাই এই কথার বিষয়ে আলোচনা হতে পারতো, বিতর্ক হতে পারতো। কিন্তু তাকে গ্রেফতার করা হলো। শরিয়ত বয়াতির মতো একজন লোকজ গানের শিল্পীকে গ্রেফতার করা বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির উপর একটা বড় আঘাত। পুরো একটা রাষ্ট্রযন্ত্র মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে দাড়িয়েছে। হেফাজত, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ একত্রে চলছে।’

তরিকুল সুজন বলেন, ‘শরিয়ত সরকার তো কথা বলেছেন। এর আগে বাউলদের জোর করে মসজিদে নিয়ে গিয়ে দাড়ি-চুল কেটে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। কেবল বাউলরাই নয় এদেশে নারী-শিশুরাও নিরাপত্তাহীন। কথা বলার অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এ সমস্যা কেবল বাউলদের নয় সব মানুষের একই সমস্যা।’

ফারুক মহসিন বলেন, ‘এই সরকার দাড়ি-টুপিওয়ালাদের সুবিধা দিতে ব্যস্ত। তেতুল হুজুরদের প্ররোচনায় চলছে সরকার। অনতিবিলম্বে বাউল শিল্পী শরিয়ত বয়াতিকে মুক্তি দিতে হবে।’

এ সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ‘কালো আইন’ উল্লেখ করে এই আইন বাতিলের দাবি তোলেন বক্তারা।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ