মঙ্গলবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮

বর্ষিয়ান নেতা শফিউদ্দিন আহমেদের সংবর্ধনায় মন্ত্রী আসছেন

বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৪২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বর্ষিয়ান শ্রমিক নেতা শফিউদ্দিন আহমেদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি নারায়ণগঞ্জে আসছেন। শুক্রবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক আন্দোলনের এক দিকপাল হচ্ছেন শ্রমিক নেতা শফিউদ্দিন আহমেদ। বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরোর সদস্য। তিনি ছিলেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। বাংলাদেশ সমবায় শিল্প, বন্দর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিলস সহ অসংখ্য শ্রমিক সংগঠন-প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছেন, গড়ে তুলেছেন। আজকের সময়ের অনেক রাজনৈতিক নেতৃবন্দের তিনিই ছিলেন রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু।

শফিউদ্দিন আহমেদের বয়স আটাত্তর। দুই বছরের মত হল বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। বয়সজনিত কারণ তো আছেই, এছাড়াও নানান রোগে আক্রান্ত। বাসায় বসেই রাজনীতির খোঁজ খবর রাখেন। পত্রিকা পড়তে কষ্ট হয় তবুও নিয়মিত পত্রিকা পড়েন। অবসর কাটাতে এখন আর বইয়ে মনোযোগ রাখতে পারেন না। বাসায় ছেলে-ছেলের বৌ এবং নাতিদের সঙ্গেই তার সময় কাটে। পার্টির লোকজন-শুভানুধ্যায়ারী আসেন, তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালবাসেন।

মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার অর্ন্তগত ধানকুনিয়া গ্রামে ১৯৩৯ সালের ২ জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন শফি উদ্দিন আহমেদ। সাড়ে ৩ বছর বয়সেই ১৯৪৩ সালে মা মনোয়ারা বেগমকে হারান। ধানকুনিয়া থেকে ৬ বছর বয়সে বাবার চাকরীসূত্রেই নারায়ণগঞ্জে আসা। বাবা রুস্তম আলী ১৯৪৪ সালে লক্ষীনারায়ণ কটন মিলস-এ চাকরীতে যুক্ত হন। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে নারায়ণগঞ্জ আই.ই.টি স্কুলে ভর্তি হন। পরবর্তীতে বার একাডেমী স্কুলে পড়ালেখা করেন। আর্থিক সংকটের কারণে মেট্টিক/এসএসসি পাশের পর আর পড়ালেখা করতে পারেন নি।১৯৬০ সালে লক্ষীনারায়ণ কটন মিলের ওয়ার হাউজে চাকুরী জীবন শুরু করেন। তারপর ১৯৬৪ সালের প্রথম দিকে ঢাকার নবাবপুওে ‘পাক ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড’ এ নতুন চাকরী শুরু করেন।

১৯৬৭ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সংগঠক বন্ধু আবুল হাসেম এর প্রভাবেই সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালে ওয়াপদার খনন সংস্থায় পার্টি ও ট্রেড ইউরিয়ন গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন।১৯৭১ সালের দিকে নারায়ণগঞ্জে প্রতিরোধ আন্দোলনে শতশত মানুষের সাথে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত রাজপথে ছিলেন শফিউদ্দিন আহমেদ। শারীরিক অসুস্থতা এবং পারিবারিক অস্বচ্ছলতায় দায়িত্ব পালনের জন্যে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করতে না পারাটাই জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ বলে মনে করেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে শফিউদ্দিন আহমেদ নতুন উদ্যমে পার্টির কাজ শুরু করেন।

১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ওয়ার্কার্স পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শ্রমিক সংগঠন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৩ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে পার্টি কংগ্রেসে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য এবং পার্টির অডিটর নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালের নারায়ণগঞ্জে গামের্ন্টস শ্রমিকরা মজুরী ও দাবির প্রেক্ষিতে যে আন্দোলন গড়ে উঠে তিনি ছিলেন তার অন্যতম পুরোধা নেতা। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাক্তি জীবনে তিনি ৫ ছেলে, ১ মেয়ের জনক।

শফিউদ্দিন আহমেদ একজন বর্ষিয়ান শ্রমিক নেতা। তিনি জীবনব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি সংগ্রামে নিবেদিত আছেন। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের প্রাজ্ঞতাকে ধারণ করতে ওয়ার্কার্স পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।

এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা।

 

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ