বুধবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড নিয়ে অনিয়ম, ভোগান্তি

বৃহস্পতিবার, ৭ জুন ২০১৮, ২১:৩৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় বয়ষ্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড প্রদানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বয়ষ্ক ও প্রতিবন্ধীরা।

বৃহস্পতিবার (৭জুন) সরজমিনে গিয়ে সদর উপজলার সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে চোখে পড়ে অনৈতিকতার মারাত্মক কিছু চিত্র। জানা যায় অসহায় মানুষের কষ্টের কিছু ঘটনা।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ ছালেম। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ পক্ষাঘাত (প্যারলাইসিস) হয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে আছেন। ছয় সন্তান থাকার পরেও মোঃ ছালেম ও তার স্ত্রীর পাশে এখন কেউ নাই। অন্যের কাছ থেকে চেয়ে খাওয়াই এখন তাদের জীবিত থাকার শেষ উপায়। ছালেমের স্ত্রী গত ছয়মাস যাবৎ উপজেলার সমাজ সেবা কেন্দ্রের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, একটা কার্ড তৈরীর জন্য। চার বার তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেওয়া হয়। কিন্তু আশানুরূপ কোন জবাব তিনি এখনও পাননি। বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় তিনি সমাজ সেবা অধিদপ্তরে আসেন। তাকে বসে থাকতে বলা হয়। পরে ১ টা বাজে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় আপনি পরে আবার আইসেন। আজকে কাজ হবে না।

এইরূপ ভাবেই কার্ডের টাকা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে উপজেলার আরও অনেক বাসিন্দাদের। কারও সাথে করা হচ্ছে দূর্ব্যবহার। আবার কাউকে ভাতা নিতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা তাদের অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে। এমনি ভাবে অপেক্ষা করছেন আফসানা। বয়স বেশি না, কেবল ৭ বছর। এই বয়সের অন্যান্য বাচ্চাদের মত খেলাধুলা কিংবা ইচ্ছামত চলাফেরা করতে পারে না সে। দুই পা থাকা স্বত্তেও হাঁটতে পারে না। দাদার কোলে করে এসেছে সে। সকাল ৮ টা থেকে বসে আছেন দাদার সাথে। ভাতার টাকা নিয়ে বাসায় ফিরবে। দুপুর ১ টার সময় তাকে জানানো হয় এখানে টাকা দেওয়া হয় না। অন্য কক্ষে টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে সে টাকা গ্রহন করে। টাকা নেওয়ার পূর্বে আফসানা প্রতিবেদককে বলে, এ টাকা দিয়া দাদু ঈদের জামা কিনা দিব। টাকা নিয়া বাসায় যাব।

সূত্রমতে, সমাজসেবা কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতির কারণে স্থানীয়দের ভাতা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিভিন্ন মাঠকর্মীদের অন্যায় ভাবে ভাতা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে এসেছেন আশি বছর বয়সের বৃদ্ধা হোসনে আরা বেগম। তিনি বলেন, দুই বছর ধরে আমার টাকা আমারে দেয় না। দুই বছর ধইরা ওই আপারে বলতাছি। কোন কাজ হয় নাই। বলে ‘উপজেলায় যাইতে’। আজকা আমার ভাইরে নিয়া আসছি। একবার কার্ড হয়, আর নাকি আমারে দিব না বইলা দিছে। রাইগা (রেগে) আমার ভাতার কার্ড ছিরা (ছিড়া) ফেলছে।

হাসনে আরা বেগমের ভাই মোঃ হেমায়েত চৌধুরী বলেন, আমার বোনের সাথে এমন করছে এটা আমার আগে জানা ছিল। উপজেলায় আসবে, এখন আমারে এসব বলছে। এখানকার উপজেলার সমাজ সেবা কার্যালয়ের সমাজকর্মী আইরিন ওনার সাথে কথা বললাম। ওনি নাকি কিছু করতে পারে না। অথচ সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ওনার অধীনে কাজ করে জাহানারা বেগম। এই মহিলা একদিন রাগ কইরা আমার বোনের ভাতার কার্ডটা ছিরা (ছিড়া) ফেলছে। আমার বোনের বরাদ্দকৃত টাকা তারা কি করে এখন?

এসকল অনৈতিকতা নিয়ে কথা বলার জন্য উপজেলার সমাজ সেবা কর্মকতা মোঃ ফিরোজ এর সাথে যোগাযোগ করতে গেলে দেখা যায় তিনি সেখানে নেই। তখন ঘড়ির কাটায় দুপুর ১ টা। সময়সীমা ১০ থেকে সাড়ে ৩ টা হলেও তাকে ওই সময় তার চেয়ারে পাওয়া যায়নি। ওই কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, স্যার এই সময়ে থাকেন না। দেখা করতে হলে সকালে আসতে হবে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ