মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, ২০১৯

বন্দরে স্কুল কমিটির সদস্য ভুলুর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০১৯, ২২:১৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বন্দরের হাজী সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আমির হোসেন ভুলুর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, সেচ্ছাচারিতাসহ অশ্লীল আচরণের অভিযোগ উঠেছে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়কে কুক্ষিগত করার চেষ্টা, বিদ্যালয়ের ভেতর শিক্ষার্থীদের সামনে ধুমপান করাসহ আরো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এদিকে ম্যানেজিং কমিটির এই সদস্য বিগত বেশ কয়েকটি কমিটির মিটিংয়ে তাকে না ডাকাতে আদালতে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হুমায়ূন কবির মৃধা জানান, তাকে নানা অভিযোগে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে ধুমপান করার বিষয়ে বলতে গিয়ে তার অশ্লীল কথা সহ্য করতে হয়েছে। কারণ এখানে চাকুরি করি।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মহিউদ্দিন ভাই দীর্ঘ দিন যাবত বিদ্যালয়ের সাথে জড়িত। সভা চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষকের রুমে আমির হোসেন ভুলুর বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে কথা উঠলে সভাপতি হুমায়ন কবির মৃধা, সদস্য আলমগীর, শিক্ষক প্রতিনিধি আ. হালিমের সামনে অপর সদস্য মহিউদ্দিন (৬০) কে মারধর করে। গত বছরের ৯ ই এপ্রিল কিল-ঘুষি মারে ও অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে। মহিউদ্দিন বাদী হয়ে বন্দর থানায় জিডি নং-৪০০ দায়ের করেন। বিদ্যালয়ের সুনাম রর্ক্ষাথে পরবর্তীতে আর কোন পদক্ষেপ নেননি বলে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ন কবির মৃধা জানান।

তিনি আরো বলেন, আমির হোসেন ভুলুর আচরণ অনেক খারাপ। বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীদের সাথে অশোভন আচরণ করত। যে কারণে সভা করে সর্বসম্মতিক্রমে রেজিলেশন করে ভুলুর বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে দেয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড হতে অনুমোদন হয়ে এখনো আসেনি। আর যে বিষয়ে ভুলু আদালতে মামলা করেছে তা কোন শিক্ষিত লোক হলে পারতো না। কারণ শিক্ষিত লোকের বিবেক আছে। আমার ও প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে যে কথা মামলার আর্জিতে প্রকাশ করেছে, তার বিন্দু পরিমান প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতিসহ বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ ছেড়ে বন্দর ছেড়ে আজীবনের জন্য চলে যাব। গত ১০ বছর আমি সভাপতির দায়িত্বে। যদি কোন শিক্ষক বা ছাত্ররাও বলতে পারে যে স্কুলের টাকায় এক কাপ চা খাই তাহলে ভুলুর আর্জি আমি মেনে নিব। আমার জীবনে একটি সিগারেট সেবন করে দেখিনি। আর ভুলু বিদ্যালয়ে যেভাবে আসতো বা আচরণ করতো তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আমির হোসেন ভুলুকে ম্যানেজিং কমিটি থেকে বাদ দিয়েছি। তাকে এ বিষয়ে রেজিস্ট্রি ডাকে পত্র পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকম নুরুল আমিন বলেন, একজন নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির সদস্যকে বাদ দেয়া যায় না। তার ব্যাপারে বোর্ডে কাগজ পাঠাতে হয়। বাদ দিলে বোর্ড সিদ্ধান্ত দিবে। তবে আমির হোসেন ভুলুর ব্যাপারে অপরাধমূলক কর্মকান্ড ছিল বলে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমাকে জানিয়েছে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ