বুধবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৮

বন্দরে বন্ধ হয়নি কোচিং বাণিজ্য

সোমবার, ১ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৫৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বন্দরে বন্ধ হয়নি শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য। বন্দরের চর ইসলামপুরের সামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, বন্দর গালস স্কুল এন্ড কলেজ, বন্দর বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, ঢাকেশ^রী মিলস স্কুল এন্ড কলেজসহ বন্দরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য রমরমা আকারে চলছে। সরকারের শিক্ষা নীতিমালা অমান্য করে ও নীতিমালার আলোকে শাস্তির বিধানকে তোয়াক্কা না করে কোচিং বাণিজ্য দেদাচ্ছে চালাচ্ছে তারা। সম্প্রতি কোচিং বানিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তা বন্ধ হয়নি। শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হচ্ছে শিক্ষকদের কাছে কোচিং করতে। নয়তো পরীক্ষায় নাম্বার কম দেয়াসহ নানা ধরণের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোচিং ফি এমন অভিযোগ করেছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এতে করে শিক্ষার্থীরা নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এবং শিক্ষার মান থেকে পিছিয়ে পড়ছে। স্কুলের আশপাশ এলাকায় শিক্ষকরা ঘর ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্যে মেতে উঠেছে।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাইকারটেক ব্রীজের পাশে ফারজানাদের বাড়িতে প্লাট বাসা ভাড়া নিয়ে এমপিওভ’ক্ত শিক্ষক মোয়াজ্জেম কোচিং করারন। বাড়ির মালিক ফারজানার মা বলেন, মোয়াজ্জেম স্যার বাসা ভাড়া নিয়ে ছাত্র-ছাত্রী পড়ান। শিক্ষক ণিশিত জোয়ারদার চর ইসলামপুরে হাকিম আলী প্রধানের বাড়িতে মুরগী পালনের খামারে নোংরা পরিবেশে টুল বসিয়ে স্কুলের মতো কোচিং করান। কোচিংয়ে আসা ৭ম শ্রেনীন ছাত্র রিয়াদ বলেন, আমি নিশিত স্যারের কাছে কোচিং করতে এই খামারে এসেছি। নুরুল ইসলামের বাড়িতে বিভিন্ন ঘর ভাড়া নিয়ে মাহফুজ, মাসুম, দেলোয়ার স্যার কোচিং বানিজ্য করছেন। কোচিংয়ে আসা ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র জানায়, দেলোয়ার স্যার তাদের কাছ থেকে ৫শ’ টাকা করে কোচিং ফি নিয়ে থাকেন। এ ব্যপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এরশাদ জানান, আমি কোচিং বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমি এর ব্যবস্থা নিতে পারব। এ ব্যপারে সামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মঈন উদ্দিন কোচিং বানিজ্যের কথা স্বীকার করে বলেন, আমার বাড়িতে যে শিক্ষক কোচিং করাতেন তা আমি বন্ধ করে দিয়েছি এবং আরো যারা করেন, তাদের কোচিং বানিজ্য বন্ধ করার জন্য নোটিশ করবো। এ ব্যপারে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিন্টু বেপারী বলেন, সরকার কোচিং বানিজ্য নিষিদ্ধ করেছে তবে অনেক অভিভাবক আছেন যারা কোচিং করানোর পক্ষে। তবু আমি তদন্ত করে কোচি বানিজ্য বন্ধ করার পদক্ষেপ নেব। এ ব্যপারে বন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আ.ক,ম নুরুল আমিন বলেন, আমি প্রতিটি স্কুলে নোটিশ দিয়েছি কোচিং না করানোর জন্য। তবে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে আমি কোচিং বানিজ্য বন্ধ করার পদক্ষেপ নেব। এ ব্যপারে জেলা শিক্ষা অফিসার শরীফুর ইসলাম বলেন, কোচিং বানিজ্য বন্ধের জন্য সরকার শাস্তির বিধান রেখেছে। যেহেতু বিষয়টি আমি জেনেছি এ বিষয়ে আমি সরকার ভাবমূর্তি উজ্জলের জন্য কঠোর হস্তে কোচিং বানিজ্য বন্ধ করব।

সব খবর
শিক্ষাঙ্গন বিভাগের সর্বশেষ