মঙ্গলবার ০২ মার্চ, ২০২১

বন্দরে জাপা নেতার বিরুদ্ধে মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ

বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৪৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার একটি বাড়িতে ভাঙচুর ও বাড়ির লোকজনকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে জাতীয় তরুণ পার্টির জেলা সভাপতি মাইনুদ্দিন মানু ও তার সমর্থক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী পরিবারের লোকজন এখনও নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

মারধরের শিকার বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের কলাবাগ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুনের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত মঙ্গলবার দুপুরে কয়েক দফায় মাইনুদ্দিন মানু ও তার লোকজন বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তাদের মারধর ও বাড়িতে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনায় মাইনুদ্দিন মানু ও তার দুই ছেলেসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামুনের মা উম্মে হানি বেগম।

বিবাদীরা হলেন: বন্দর রেললাইন সংলগ্ন কলাবাগ এলাকার বাসিন্দা ও জেলা জাতীয় তরুণ পার্টির সভাপতি মাইনুদ্দিন মানু (৫৫), তার ছেলে নয়ন (২৫) ও নাফিজ (১৯), মাইনুদ্দিন মানুর ভাই সেলিম (৫০), একই এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে শফি (৫০), শফির ছেলে শুভ (২৫) এবং বাদীর বড় ছেলে ওমর ফারুককে। তবে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে তাকে মারধরের পাল্টা অভিযোগ করেছেন জাপা নেতা মাইনুদ্দিন মানু।

ভুক্তভোগী বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাগ এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বাড়ির পাশের ৫ শতাংশের একটি জমি নিয়ে বড় ভাই ওমর ফারুকের সাথে তাদের বিরোধ চলছে। বিরোধের মিমাংসা হওয়ার আগেই ওই জমি মাইনুদ্দিন মানুর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন ওমর ফারুক। ওই জমিতে গত মঙ্গলবার বালু ফেলে ভরাট করছিলেন মাইনুদ্দিন মানুর লোকজন। এতে বাধা দিলে মাইনুদ্দিন মানু ও তার লোকজন বাঁশ, লাঠিসোটা দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় আব্দুল্লাহ আল মামুন, তার ভাই হাজী তসলিম ও বৃদ্ধা মা উম্মে হানি বেগম আহত হন। এরপর কয়েকশ’ লোকজন বাড়ি ঘেরাও করে হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙচুর চালায়। বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে মাইনুদ্দিন মানুসহ সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে বলেও অভিযোগ আব্দুল্লাহ আল মামুনের।

বুধবার সকালে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির চারপাশের অ্যালুমিনিয়ামের গ্লাসগুলো চূর্ণবিচুর্ণ অবস্থায় পাওয়া যায়। মামুন প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘প্রথমে মারধর করার পর মাইনুদ্দিন মানুর অনুসারী সন্ত্রাসী বাহিনী কয়েকশ’ লোক বাড়ির সামনে এসে ঘেরাও করে। তারা বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। আমার মাকেও বাঁশ দিয়ে বেধরক পিটিয়েছে। বাড়িতে আমরা অবরুদ্ধ ছিলাম। রাত সাড়ে দশটার দিকে আমার মা পালিয়ে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। এর আগে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরেও কয়েকবার কল করেন। পুলিশ আসলেও মিমাংসা না করেই তারা চলে যান। এরপর থেকেই আমরা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। বাড়ির থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছি। কেননা তাদের লোকজন বাইরে মহড়া দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।’

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের মাথার ব্যান্ডেজ দেখিয়ে পাল্টা অভিযোগ করে জাতীয় তরুণ পার্টির জেলা সভাপতি মাইনুদ্দিন মানু প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ওই জমি আমি মামুনের বড় ভাই ফারুকের কাছ থেকে কিনেছি। আমার জমিতেই ড্রেজারের কিছু ওয়েস্টেজ পড়েছিল। সেটা নিয়েই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করেছে। আমি থানায় এ বিষয়ে লিখিত জানিয়েছি। বাকিটা পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’

ভাঙচুরের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাকে মারধরের খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক প্রায় ২০০ শতাধিক লোক এলাকায় মানববন্ধন ও মিছিল করেছে। তবে কেউই ভাঙচুর করেনি।’

তবে এ বিষয়ে জানতে আব্দুল্লাহ আল মামুনের বড় ভাই ওমর ফারুকের বাসায় গেলে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে তিনি প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ওই জমি আমি পৈত্রিক সূত্রে পাইনি। আমি সেটা কিনেছি। কেনা জমি আমি বিক্রি করে দিয়েছি। এটা নিয়ে গতকাল দুপুরে হৈ-চৈ হয়েছে। মানু সাহেবের উপরে হাত তুলছে। এটা নিয়ে তার লোকজন ভাঙচুর করেছে।’

তবে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তার (ফারুক) সকল জমি তিনি বিক্রি করে ফেলেছেন। পারিবারিকভাবে ভাগ করার পর ওই জমিতে আমাদের অন্য দুই ভাইয়েরও ভাগ রয়েছে। কিন্তু আমাদের না জানিয়েই তিনি জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। মাইনুদ্দিন মানু চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালী হওয়ায় তার কাছেই বিক্রি করেছে। যাতে সে তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে দিয়ে সহজেই দখল নিতে পারেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘উভয়পক্ষই থানায় অভিযোগ করেছেন। উভয়েরই মারধর ও হামলার অভিযোগ। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কেউ যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তাহলে তাকে সে বিষয়টি জানাতে হবে।’

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ