বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

বন্দরে কঠোর নিরাপত্তায় চলতো ক্যাসিনো, কাস্টমসের অভিযান

সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:২৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বন্দরের দক্ষিন লক্ষনখোলা এলাকার একটি ব্যাটারি ফ্যাক্টরি ও একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনো সামগ্রী উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় ডংজিন লংজারভিটি ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড নামক ব্যাটারি কারখানা ও চার তলা একটি বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ১টি ক্যাসিনো খেলার ইলেকট্রিক মাহাজং মেশিন ও বিভিন্ন ক্যাসিনো সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান ও শামীমা আক্তারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ক্যাসিনো খেলার সামগ্রী তথা মাহাজং মেশিন প্রতিষ্ঠান দুটির উৎপাদিত পণ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলেও তারা কেন এরূপ জুয়া খেলার মেশিন আমদানি করেছে এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান দুটির আমদানিকৃত পণ্য চালানের (মাহাজং) বি/ই পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, তারা অপেক্ষাকৃত কম মূল্য ঘোষণায় শুল্কায়ন সম্পন্ন করে পণ্য খালাস করেছেন। এক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ফাঁকি হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশে মাহাজং আমদানির বেশ কিছু পণ্য চালান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কর্তৃক শনাক্ত করা হয়েছে। এরূপ আমদানির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন বাণিজ্যিক আমদানিকারক কর্তৃক ক্যাসিনো খেলার সামগ্রী তথা মাহাজং আমদানির বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্দরের দক্ষিন লক্ষনখোলা এলাকার চার তলা ভবনের ওই বাড়িটির মালিক শাহীন মিয়া। চার তলা ভবনের চতুর্থ তলায় বাড়িওয়ালা থাকলেও বাকি ফ্ল্যাটগুলোতে ডংজিন লংজারভিটি ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডে কর্মরত চায়নিজ নাগরিকরা বসবাস করতেন। তারাই মূলত ওই ক্যাসিনো পরিচালনা করতেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটিতে রয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অনুমতি ছাড়া ওই বাড়িতে প্রবেশ করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। এমন নির্দেশনা সম্বলিত একটি নোটিশ বোর্ডও টানানো রয়েছে ওই বাড়ির মূল গেটে। মূল গেটের পর আরেকটি নিশ্চিদ্র লোহার গেট। বাড়ির ভেতরে কি চলে তার কোন ধারণাই নেই এলাকাবাসীর। তবে এলাকাবাসীর মতে, বিভিন্ন সময় বড় বড় গাড়িতে করে বেশ কয়েকজন লোকের আসা-যাওয়া ছিল এই বাড়িতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী এক বাসিন্দা বলেন, এই বাড়িতে যে ক্যাসিনো বা জুয়া খেলা চলতো তা আমরা জানতাম না। তবে চায়নিজদের সাথে এই বাড়িতে অনেকেই আসা-যাওয়া করতো। তাদের দেখে হাই প্রোফাইলের লোকজনই মনে হতো।

ওই বাড়ির পাশ্ববর্তী এক দোকানি দিপু বলেন, দুপুরের দিকে দেখলাম অনেকগুলো গাড়ি আসলো। তারা বাড়ির ভেতর ঢুকলো। তারপর বেশ কিছুক্ষন তারা আর বের হলো না। এরপর দেখলাম ক্যারাম বোর্ডের মতো চারকোনা কয়েকটি বোর্ড নিয়ে বের হলো তারা। পরে জানলাম ওসব ক্যাসিনোর জিনিসপত্র। শুনলাম ব্যাটারি কারখানা থেকেও নাকি সেসব পাইছে।

বাড়ির নিরাপত্তা কর্মী পরিমল জানান, এই বাড়ির বাসিন্দারা সবাই চায়নিজ। তারা সকলেই ডংজিন লংজারভিটি ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডে কর্মরত। তাদের ছাড়া এই বাড়িতে ঢোকার অনুমতি কারোর নেই। এমনকি গেটের ভেতরে প্রবেশ করার এখাতিয়ার তারও নেই। কোন প্রয়োজন হলে গেটের পাশেই রয়েছে কলিং বেল, সেই কলিং বেলের মাধ্যমেই ডেকে কথা বলতে হতো পরিমলের।

তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, বেলা ১২টার দিকে কিছু লোক আসেন। তারা তাদের পরিচয় কাস্টমসের লোকজন বলে জানান। পরে ভেতরে ঢুকে যায়। পরে কিসব বোর্ড টোর্ড নিয়ে বের হয়ে আসলো।

এ বিষয়ে ওই বাড়ির মালিক শাহীন মিয়ার সাথে আলাপ করার জন্য নিরাপত্তা কর্মীর মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি উপর থেকে আর নিচে নেমে আসেননি।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ