শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯

ফার্মাসিষ্ট ও ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে না'গঞ্জের অনেক ফার্মেসী

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:৩৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে প্রায় ছয় শতাধিক ফার্মেসী পরিচালিত হচ্ছে ফার্মাসিষ্ট ছাড়াই। কোন ফার্মেসীতেই তাৎক্ষনিক ভাবে একজন রোগির প্রেসার কিংবা ডায়বেটিক রোগির চেক আপের কোন সরঞ্জাম নেই। আইন অনুযায়ী ড্রাগ লাইসেন্স প্রাপ্ত সকল ফার্মেসীতে ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামুলক। কিন্তু এসব ফার্মেসী গুলোতে ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ঔষধ বিক্রয় করে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, অধিকাংশ ফার্মেসিতেও নেই ড্রাগ লাইসেন্স। শহরের কালিরবাজার, চাষাড়াসহ বিভিন্ন ফার্মেসী গুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অবৈধভাবে বাজারজাত করা বিদেশী ঔষধ। ক্রেতাদের কাছ থেকে বিদেশী ঔষধ বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া জানালেন এসব ফার্মেসী গুলো নিয়ন্ত্রন করেন ঔষধ প্রশাসন। জেলার ঔষধ প্রশাসনের অফিস কোথায় অবস্থিত এসব ফার্মেসীতে সেবা বঞ্চিত অভিযোগকারীরা কেউ জানেনা।

বুধবার সকালে কালিরবাজারের রুবেল ফার্মেসীতে ঔষধ কিনতে আসা এক রোগি আবদুস সাত্তারের ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানালেন তার বাবা নিয়মিত ভাবে এ ফার্মেসীতে ঔষধ কেনেন। বুধবার সকালে তার বাবা ঔষধ কিনতে আসার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে মাটির মধ্যেই ফেলে রাখা হয়। পরে তারা খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গেলে দেখতে পায় প্রায় ৫০ মিনিট যাবত মাটিতে পড়ে আছে তার বাবা। এসময় তিনি রুবেল ফার্মেসীর লোকজনকে তার প্রেসার মাপার জন্য অনুরোধ করলে সে জানায় তার এখানে প্রেসার মাপার কোন সরঞ্জাম নাই। তখন ডায়বেটিক মাপার কথা বললে সেটাও তার কাছে নাই। অথচ সে ফার্মেসীতে ডায়বেটিকের সকল ঔষধ বিক্রি হয় বলে সাইনবোর্ড লাগানো আছে। এ ব্যাপারে সে ফার্মেসীর মালিককে জিজ্ঞাসা করে জানাতে পারে তার এখানে কোন ফার্মাসিষ্ট নাই।

একই অবস্থা শহরের অন্যান্য ঔষধের দোকান গুলোতে। শহরের চাষাড়া এলাকায় অবস্থিত লাজ ফার্মা, রনি ফার্মাতেও একই অবস্থা। ডিআইটিতেও সে রকম অবস্থা। শহরের এসব দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে বেশী দামে অবাধে বিদেশী ঔষধ। দেখার বা তদন্ত করার কেউ নেই। এ ব্যাপরে কালির বাজারে ঔষধ কিনতে আসা রনজন ভৌমিক জানালেন জেলা প্রশাসন বিভিন্ন যায়গায় অভিযান চালালেও কোন দিন ঔষধের ফার্মেসীতে কোন দিন ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়না। তিনি অভিযোগ করেন অধিকাংশ দোকানেই ঔষধ কোম্পানির এমআরপি’র অতিরিক্ত দামে ঔষধ বিক্রি করা হচ্ছে। আর বিদেশী ঔষদের নির্ধারিত কোন দাম নেই। যে যেভাবে পারছে দাম নিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিভিল সার্জন অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, এখন ঔষধ প্রশাসন আলাদা ভাবে ফার্মেসী গুলো দেখাশুনা করছে। তিনি জানান, অনেকেই মনে করেন সিভিল সার্জন এগুলো নিয়ন্ত্রন করে। অনেকে তাদের কাছে অভিযোগ করলেও তাদের কিছু করার নেই। তিনি স্বীকার করেন শহরের অধিকাংশ ফার্মেসিতেই ড্রাগ লাইসেন্স নেই এবং আইন অনুযায়ী ফার্মাসিষ্ট থাকার কথা থাকলেও কোন ফার্মেসীতেই ফার্মাসিষ্ট নেই।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া জানান, ঔষধ প্রশাসনের দায়িত্ব ফার্মেসী গুলো দেখাশুনা করা। তিনি ঔষধ প্রশাসনের সাথে কথা বলে মোবাইল কোর্ট চালানোর ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ