রবিবার ২৯ মার্চ, ২০২০

ফতুল্লা ইউনিয়নে নির্বাচন নেই ২৮ বছর

বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফতুল্লা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নেই রয়েছে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়সহ নারায়ণগঞ্জ আদালত ও জেলা কারাগার, জেলা পরিষদ, এলজিআরডি ও উপজেলা পরিষদের কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। অথচ এই ইউনিয়নেই গত ২৮ বছর যাবৎ কোন নির্বাচন হচ্ছে না। যার ফলে ভোটাধিকারসহ নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়নবাসী। এমনকি নাগরিক সুবিধা পেতেও পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। অভিযোগ রয়েছে, পাতানো মামলা জটিলতার কারণেই দীর্ঘ বছর যাবৎ নির্বাচন হচ্ছে না ইউনিয়নটিতে। এদিকে মৃত্যু ও পদত্যাগের কারণে চেয়ারম্যানসহ পরিষদের ৭টি পদই রয়েছে শূণ্য।

জানা যায়, সর্বশেষ ১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে নূর হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চার বছরের মাথায় উচ্চ আদালতে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে ও বিপক্ষে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন চেয়ারম্যান নূর হোসেন ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড আব্দুল মালেক তাদের নিজেদের লোকেদের মাধ্যমেই মামলাটি দু’টি দায়ের করেন। উদ্দেশ্য ছিল- মামলা জটিলতায় নির্বাচন বন্ধ করে দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার। উদ্দেশ্য সফলও হয়। মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন চেয়ারম্যানসহ ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা। ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর নূর হোসেন চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পুরনো মামলা নতুন করে সামনে আসে।

এদিকে বিভিন্ন সময় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মৃত্যু ও পদত্যাগের কারণে বর্তমানে ইউপির ছয়টি পদ রয়েছে শূণ্য। ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২, ৩, ৫ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার নেই। চেয়ারম্যান পদটিও রয়েছে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে মারা গেছেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আক্কাস। ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রশিদ ২০০৭ সনের ১৭ জুন মারা গেছেন। পরের বছরের ৮ নভেম্বর মারা যান ২ নম্বর ওয়ার্চ মেম্বার মো. ছমির উদ্দিন। এদিকে গত বছরের ফেব্রুয়ারি ও জুলাই মাসে মারা যান ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার বরকত উল্লাহ প্রধান ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মালেক। ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর নূর হোসেন চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন ফতুল্লা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে প্রায় ৯ বছর যাবৎ দায়িত্বে রয়েছেন।

দীর্ঘ ২৮ বছর যাবৎ নির্বাচন না হওয়াতে ইউপির নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নবাসী। ২৮ বছর পূর্বে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ নেন না বলেও অভিযোগ তাদের। এমনকি এলাকাবাসী ভুলেও গেছেন শেষ কবে ইউনিয়নে নির্বাচন হয়েছিল। বিভিন্ন পদে জনপ্রতিনিধি না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নও ব্যাহত হচ্ছে।

জানা যায়, নূর হোসেন চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর ৯ বছর যাবৎ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন। এছাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আলী আকবর, ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার নজরুল ইসলাম (সেলিম), ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার হলেন মো. ইউসুফ মিয়া। ফতুল্লা ইউপির ৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্যের মধ্যে আছেন ২ জন। ২০১১ সালে নূর হোসেন চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পরপরই পদত্যাগ করেন ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য আমেনা বেগম। এদিকে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বাররা মারা যাওয়াতে তিন ওয়ার্ডের দায়িত্ব একাই সামলান সংরক্ষিত নারী সদস্য সুফিয়া। ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য সালমা।

তবে নির্বাচন চান ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন। তিনি বলেন, ‘পরিষদের অনেকেই মারা গেছে, পদ খালি। কিন্তু নির্বাচন হচ্ছে না। একটা নির্বাচন তো আর এতোদিন বন্ধ থাকতে পারে না। এটার কোন যৌক্তিকতা নাই। সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চাইলেই নির্বাচনটা হয়।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজিমউদ্দিন ভূইয়ার সঙ্গে আলাপে তিনি জানান, ‘ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন। নির্বাচন কেন হচ্ছে না সেটা খোঁজ নিবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই।’

তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জায়েদুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে আমরা পজেটিভ। কিন্তু এ নির্বাচন নিয়ে মামলা জটিলতা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি হলেই নির্বাচনের আয়োজন করা সম্ভব।’

তবে মামলা কী অবস্থায় আছে জানাতে পারেননি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক। তিনি বলেন, ‘মামলার কারণে ফতুল্লা ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে না। কিন্তু মামলা এখন কী অবস্থায় আছে তা জানি না।’

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ