বুধবার ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

ফতুল্লায় মোস্তফার বাড়িতে দিনমজুরকে নির্যাতনের অভিযোগ

শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লায় রুবেল নামে এক দিনমজুরকে অপহরণ করে আওয়ামী লীগ নেতা ও ফতুল্লা থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামালের নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে৷

এ ঘটনায় শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) রাতে মোস্তফা কামালের ভাতিজা মো. রুবেলকে (৩৫) প্রধান আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতের স্ত্রী মোসা. ফারজানা বেগম।

অভিযুক্ত রুবেল মোস্তফা কামালের বড় ভাই আবুল হোসেনের ছেলে৷ এছাড়া সাইফুল (৪০) ও সাব্বিরসহ অজ্ঞাত আরো ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷

নির্যাতনের শিকার রুবেলের স্ত্রা ফারজানা বেগম জানান, মোস্তফা কামালের বড় ভাই আবুল হোসেনের ছেলে অভিযুক্ত মো. রুবেল আমার দেবর সুমনের ভায়রা। প্রায় ৫ মাস পূর্বে দেবরের স্ত্রীর চিকিৎসার কাজে অনিযুক্ত রুবেলের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নেন। কিন্তু সময় মত পরিশোধ না করে গ্রামের বাড়ি চলে যায়। এ ঘটনায় সুমনের কাছে টাকা না পেয়ে টার্গেট করে আমার স্বামীকে৷ গত ১৬ অক্টোবর রাত ৯টায় অভিযুক্ত রুবেল, সাইফুল ও সাব্বিরসহ ৮ থেকে ১০ জন লোক বাসায় আসে। পরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কথা বলে অস্ত্রের মুখে একটি মাইক্রো গাড়িতে করে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় লামাপাড়ার মেট্রো গার্মেন্টেসের সামনে ১০ তলা (মোস্তফা কামালের নির্মানাধীন) বাড়ির ছাদে। সেখানেই রুবেলকে আটকে রেখে বাড়িতে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়। টাকা পরিশোধ না করায় চলে নির্মম নির্যাতন।

ফারজানা বলেন, পরদিন ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় বাড়ীওয়ালা তামিম মাস্টারের মধ্যস্ততায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রুবেলকে। এরপর খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে প্রেরণ করা হয় ঢাকায়। এখনও রুবেল ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

অভিযোগের পরেই ফতুল্লা থানা থেকে একটি টিম বাদীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে মোস্তফা কামালকে বিষয়টি সমাধানের জন্য দায়িত্ব নিতে বলেন।

আওয়ামী লীগ নেতা ও ফতুল্লা থানা কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল জানান, এখনে আসলে আমার কিছু না। আমার সাথে বড় ভাইয়ের ছেলে রুবেলের সাথে আমাদের তেমন কোন সম্পর্ক নেই। তাছাড়া রুবেলের সাথে ভুক্তভোগীর পারিবারিক সর্ম্পক। গতকাল (শুক্রবার) পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে বাসায় এসেছিলেন। পরে আমাকে সমাধানের দায়িত্ব দিয়ে গেছে। আমি আমার ব্যবসায়ীক কাজে ব্যস্ত। তাই সমাধান করতে একটু সময় লাগবে।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, ঘটনাস্থলটি মোস্তাফা কামালের নির্মাণাধীন বাড়ি। বিষয়টি নিয়ে আমার একজন এসআই তদন্ত গিয়েছিল। ভুক্তভোগী অভিযুক্তের আত্মীয়। পারিবারিকভাবে মিমাংসা করার জন্য প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যদি তারা বিচার না পায় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ