মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২০

ফতুল্লায় মায়েদের নিয়ে সদর ইউএনও’র সমাবেশ

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:১১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: শতভাগ শিশু ভর্তি ও ঝরে পড়া রোধ নিশ্চিতকল্পে সদর উপজেলার ফতুল্লায় মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শতাধিক মায়ের উপস্থিতিতে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ৭৩নং ফতুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক।

অনুষ্ঠানে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাবিনা নার্গিস, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সালমা সুলতানা, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মীর ফয়সাল আলী, সালাউদ্দিন মুক্তি, হাবিবুর রহমান আজাদ, নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী, মাহাবুবুর রহমান খোকা, ফতুল্লা রিপোটার্স ক্লাবের সভাপতি রনজিৎ মোদক, সাধারণ সম্পাদক কাজি আনিসুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশে ইউএনও নাহিদা বারিক বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেখেন দর্শক সাড়িতে বসা এক মা কান্না করছেন। এ সময় ইউএনও বক্তব্য বন্ধ রেখে ঐ মাকে টেনে এনে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং মায়ের কান্নার কারণ জানতে চায়। পরে সেই মা কান্না কন্ঠে তার সমস্যার কথা জানান। তার দুটি সন্তানের লেখাপড়া করানোর ইচ্ছে থাকা সত্বেও সাধ্য না থাকার কারণে হতাশা হয়ে পড়েন। যার কারণে ইউএনওর বক্তব্য শুনে কান্না করেন। পরে মায়ের কান্নার কারণ জানতে পেরে ইউএনও নিজেও কেঁদে ফেলেন। তখন তিনি সেই মাকে একটি সেলাই মেশিন দেয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। আর তার দুই সন্তান যেন অর্থের অভাবে লেখাপড়া বন্ধ না করেন সেজন্য অনুরোধ করেন এবং সন্তানদের রেখাপড়া করার জন্য সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ইউএনও নাহিদা বারিক বারিক বলেন, প্রতিটি মায়ের উচিৎ তার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে এবং ঠিকমত লেখাপড়া করছে কিনা। সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করতে হলে সর্বপ্রথম মায়ের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। সন্তানের প্রতি মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে। আর লেখাপড়া ক্ষেত্রে স্কুলের শিক্ষকদের পাশাপাশি মায়েদের সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে। আর সব মায়েরা যেন তাদের সন্তানদের বাল্যবিবাহ না দেন সেদিকে সচেতন হতে হবে। এ সময় উপস্থিত মায়েরা তাদের সন্তানদের বাল্য বিবাহ না দেয়ার হাত তুলে ওয়াদা করেন।

এদিকে অনুষ্ঠান শেষে একই স্কুলের নির্মানাধীণ শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন ইউএনও নাহিদা বারিক। এ সময় ফতুল্লার ৪টি স্কুলের ১৪ জোড়া স্কুল বেঞ্চ বিতরণসহ স্কুলের বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার উদ্বোধন করেন তিনি।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ