রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

ফতুল্লার রাকিব হত্যার দায় স্বীকার করে গিয়ার মানিকের জবানবন্দি

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ১৩:০৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লায় ভাঙ্গারির দোকানের কর্মচারী রাকিব (২০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূলহোতা মানিক ওরফে গিয়ার মানিককে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে সে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) ভোরে ফতুল্লার পাগলা তালতলা এলাকা হতে গিয়ার মানিককে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আহম্মেদের আদালতে জবানবন্দি দেন।

গ্রেপ্তারকৃত গিয়ার মানিক চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানার শাহাপুর রামদাসের বাগ এলাকার আবুল কালামের ছেলে। সে পাগলা কুসুমবাগ ৩ নং গলির রেজাউল করিমের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করে।

ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মঈনুল হক জানান, রাকিবের সাথে গিয়ার মানিকের পূর্বের বিরোধ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে রাকিবকে মারার জন্য মানিকসহ আরো ৪/৫ জন মিলে রাস্তায় অবস্থান করে। রাতে রাকিবসহ তার বন্ধু আব্দুল্লাহ পাগলা হতে রিকশা যোগে বাড়িতে ফেরার জন্য রওনা দেয়। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গিয়ার মানিক ও তার সহযোগীরা পাগলার নন্দলালপুর রোডে অবস্থান করে। তখন রাকিবদের রিকশা গতিরোধ করে ধারালো ছোরা দিয়ে এলোপাথারী ভাবে রাকিবকে কুপিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। রাকিবকে হত্যা করার পরিকল্পনায় ছিলো ৫/৬ জন। আর হত্যার কিলিং মিশনে ছিলো গিয়ার মানিকসহ ৪ জন।

তিনি আরো জানান, রাকিব হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা নওশাদ বেপারী বাদী হয়ে গিয়ার মানিককে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। এ মামলার প্রধান আসামি গিয়ার মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়। আর শুক্রবার সন্ধায় মানিক হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। আর হত্যাকান্ডে আরো যারা জড়িত রয়েছে খুব শীঘ্রই তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে।

প্রসঙ্গত, রোববার গভীর রাতে ফতুল্লার পাগলা এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ফিল্মি কায়দায় এক বন্ধুকে তাড়িয়ে আরেক বন্ধু রাকিবকে (২০) কুপিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে যায় গিয়ার মানিকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

নিহত যুবক রাকিব ফতুল্লার নয়ামাটি মুসলিমপাড়া এলাকার মজিদ হাওলাদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া নওশেদ বেপারীর ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার নড়িয়ায়। সে ফতুল্লার নয়ামাটি এলাকায় কাদিরের ভাংগারির দোকানের কর্মচারী।

হত্যাকান্ডের সময় রাকিবের সঙ্গে থাকা তার বন্ধু আব্দুল্লাহ জানান, রাত সাড়ে ৩টার সময় পাগলা বাজার থেকে কেনাকাটা করে একটি রিকশায় রাকিবের সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন সে। এ সময় পাগলা রেলষ্টেশন এলাকায় আসলে একই এলাকার গিয়ার মানিক সহ ৪/৫ জন পথরোধ করে রিকশাটি আটকায়। তখন দুর্বৃত্তরা আব্দুল্লাহকে রিকশা থেকে নামিয়ে চোর চোর বলে ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর আব্দুল্লাহ এসে দেখতে পায় রাকিবের রক্তাক্ত মরা দেহ রাস্তায় পড়ে রয়েছে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ