শুক্রবার ২৯ মে, ২০২০

ফতুল্লায় আ’লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ২

রবিবার, ১০ মে ২০২০, ২১:৪৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

বামে নিহত কাদির মিয়া ডানে আটক ইব্রাহিম

বামে নিহত কাদির মিয়া ডানে আটক ইব্রাহিম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কাদির মিয়া (৬৫) নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

জানা যায়, কাদির মিয়া ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। নিহতের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, গত শনিবার (৯ মে) রাত ১১টার দিকে কুতুবপুরের পাগলা পশ্চিম রসূলপুর এলাকায় বায়তুল আমান জামে মসজিদ গলিতে তাকে পেটানো হয়। পরে রোববার সকালে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পেয়েছি। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার বিষয়টি পাওয়া গেলে মামলা দায়ের করা হবে।

নিহত কাদির মিয়ার পুত্র রাসেল জানান, শনিবার রাত ১১ টার দিকে তার বাবা কাদির মিয়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বায়তুল আমান জামে মসজিদের সভাপতি লাল মিয়ার বাসা থেকে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে নিজ বাসায় ফেরার পথে মারধরের শিকার হন। স্থানীয় ইব্রাহিম খান, তার ছেলে রাসেল, ফয়সাল, একই এলাকার মহিদুল, সোহাগ বেপারী, আবুল, মাহফুজ, ফরহাদ, নাইমসহ আরো কয়েকজন তার উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ নিহতের ছেলের।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মসজিদ কমিটি ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কমিটি নিয়ে বিরোধ রয়েছে রসূলপুরে। এ বিরোধে বিপক্ষ অবস্থানে আওয়ামী লীগ নেতা কাদির মিয়া ও ইব্রাহিম খান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাও ঘটে। হামলার অভিযোগ নিয়ে রোববার সকালে থানায়ও গিয়েছিলেন ইব্রাহিম খান ও তার ভাই। এদিকে কাদির মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তাদের আটক করে পুলিশ।

ইব্রাহিম মিয়ার পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, মসজিদ কমিটি ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কমিটিকে কেন্দ্র করে কুতুবপুরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু বাহিনীর লোকজন তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজনের পক্ষ নিয়েই এই হামলা চালানো হয়। হামলা সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজও তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ওসি বলেন, দুইপক্ষের মধ্যেই মসজিদ কমিটি ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কমিটি নিয়ে বিরোধ ছিল। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দুজনেরই রয়েছে। তবে হত্যার অভিযোগে ইব্রাহিম খান ও তার ভাইকে আটক করা হয়েছে। এটা হত্যা কিনা এবং শনিবার রাতে কি ঘটেছে সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগে শনিবার রাতে হামলার কথা উল্লেখ করা হলেও ওই রাতে পুলিশকে কিছুই জানায়নি বাদীপক্ষ। মৃত্যুর হওয়ার পর হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন কাদির মিয়ার পরিবারের লোকজন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ