বুধবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৮

ব্যাটারীচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক বিভ্রাট

প্রয়োজন উপযুক্ত নীতিমালা

শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:২৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আপনি নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। একবার ভাবুন চাষাড়া থেকে শিবু মার্কেট যাবেন কিংবা নবীগঞ্জ ঘাট। আবার এদিকে কলেজ রোডের মোড় থেকে জামতলা কিংবা মাসদাইরের দিকেও যেতে পারেন। বলুন তো কোন বাহনটির কথা সবার প্রথম আপনার মনে পড়ছে? রিক্সা কিংবা ইজিবাইক তাইতো! রিক্সা হয়তো ভেবেছেন কিন্তু উঠতে গেলে দেখবেন উঠে বসেছেন কোনো ব্যাটারীচালিত রিক্সায়। যেহেতু বেশীরভাগ সময়ে আমদের সকলেরই একটু তারা থাকে।

শহরের প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সা চলতে না দেয়া হলেও অগোচরে কিংবা প্রশাসনের কারোও কারোও সাথে আতাত করে চলছে এসকল বাহণ। আর এদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা কিংবা ইজিবাইক চালানোর জন্যে খুব বেশী প্রশিক্ষণের প্রয়োজনও হয় না বলে খুব সহজেই যে কোনো শিশু কিংবা তরুণ বেকার ছেলেরা রাস্তায় নেমে পরছে এসকল বাহন নিয়ে। অন্যদিকে এই বাহনগুলোর জন্যে এখন পর্যন্ত তৈরী হয়নি কোনো উপযুক্ত নীতিমালা। ফল সরূপ বাহণগুলোর অনিয়ন্ত্রিত গতি আর বেপরোয়া চালকদের জন্যে প্রায় সময় ঘটছে দূর্ঘটনা। আবার হয়তো হঠাৎ বিদ্যুৎ সংকট বেড়ে যাবার কারণটাও এই বিদ্যুৎচালিত বাহণগুলো।

এ প্রসঙ্গে সুশান্ত হাসান নামে এক ব্যাক্তি নারায়ণগঞ্জের গ্রুপ নারায়ণগঞ্জস্থানে করা তার একটি পোষ্টে ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক বিভ্রাট......’ শিরোনামে লিখেছেন-

সরাসরি পোস্ট পড়ুন

নারায়ণগঞ্জ বা বন্দরের কোন এক রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন, শাঁ করে গা ঘেঁষে বিদ্যুত্গতিতে বেরিয়ে গেল একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা, চলে বিদ্যুতেই। প্রতিদিন এমনই ঘটনা অহরহ ঘটছেই। একটা সময় রিকশা ছিল মূল বাহন। রাস্তাঘাট থাকতো নিরিবিলি। কিন্তু সেই চেনা দৃশ্য এখন আর নেই।

ইজি বাইকের ব্যাটারী চার্জ করার ফলে ব্যাটারিচালিত রিকশা আর ইজিবাইকের পাল্লা দিয়ে ঘটছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ছোট ছেলেরা ইজিবাইক চালায়। তাদের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। পুরো শহরটা ইজিবাইকের দখলে।

মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রিকশা প্রয়োজনীয় যানবাহন হলেও ব্যাটারিচালিত রিকশা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। এর নিয়ন্ত্রণহীন বেপরোয়া গতির কারণে অনেক এলাকায় হাঁটা দূরত্বের স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে হেটে স্কুলে যেতে পারে না।

এমনিতে আমরা বিদ্যুতের জন্য ভোগান্তিতে আছি। তারপর ইজিবাইকের কারণে লোডশেডিং আরও বেড়েছে। বাধ্যবাধকতা না থাকায় এখন যে কেউ ইজিবাইক চালাতে পারছে। ফলে বালক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত এখন ঝুঁকে পড়েছে ইজিবাইকের দিকে।

ইজি বাইকের দৌরাত্যে ও চালকদের বেপরোয়া ড্রাইভিং এর ফলে যাত্রীরা বিরক্ত বোধ করছে। ইতিমধ্যে ইজিবাইর ড্রাইভারদের বেপরোয়া চালানোর কারণে #বন্দরে দূর্ঘটনায় একজন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া নারীদের জন্য হুমকিস্বরুপ। নারী যাত্রীরা পেছন ফিরে যখন বসেন তাদের ওড়না চালকের পিছনে থাকা মোটরের সাথে লেগে আটকে মারাত্মকভাবে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে।

উপযুক্ত নীতিমালার আলোকে এ বাহনকে চলাচলের বৈধতা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে । তবে নীতিমালা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এক নিয়ম করে তাদের এই বেপরোয়া মনোভাব গতির নেশাকে কিভাবে কমানো যায় তার দিকে কি মনোযোগী হবেন কর্তৃপক্ষ????

সব খবর