সোমবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৮

প্রসঙ্গ ৮০ লাখ টাকা, আসামী পুলিশ, তদন্তে পুলিশ, অতপর...

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৪৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ বাণিজ্য ঘিরে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন এএসআই সাহাবুদ্দিন। তিনি ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক। পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরী দেয়ার কথা বলে বন্দরের কলাগাছিয়ায় কোচিং সেন্টার খুলে ২০জন চাকরী প্রার্থীর কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এ এস আই সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। কিন্তু পুলিশ ওই মামলা থেকে সাহাবুদ্দিনকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে আদালতে চড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দিয়েছে। তদন্তে নাকি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানিত হয়নি। তবে ভুক্তভোগিদের সূত্র বলছে, পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা পুলিশ তদন্ত করলে যা হবার তাই হয়েছে। এদিকে এ এসআই সাহাবুদ্দিনের সাথে সাথে অপর আসামী বাদশাকেও মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ রাশেদ মোবারক সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদ মোবারকের দাবি, মামলার দুইজন আসামী এএসআই সাহাবুদ্দিন ও বাদশাকে অভিযুক্ত করার মতো কোন ধরনের আনুষাঙ্গিক ডকুমেন্ট উপস্থাপন করতে পারেনি মামলার বাদিসহ অন্যরা। ঘটনার সঙ্গে এএসআই সাহাবুদ্দিন ও বাদশার কোন সম্পৃক্ততা না পাওয়া যাওয়ায় তাদেরকে অব্যাহতি দিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারী সকাল থেকে বিকেল অবধি ফতুল্লার পুলিশ লাইনসের মাঠে প্রথম ধাপে শারিরীক ফিটনেসের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই শারিরীক ফিটনেস পরীক্ষায় পুরুষ কনস্টেবল পদে হাজারো যুবক ও নারী কনস্টেবল পদে শতাধিক যুবতী অংশ নেয়। শারীরিক ফিটনেস পরীক্ষায় সর্বমোট ৬ শতাধিক উত্তীর্ন হন। তবে ওইদিন অর্থাৎ গত ২৪ ফেব্রুয়ারী শারীরিক পরীক্ষায় প্রতারণার শিকার হওয়া যুবকদের অনেকেই বাদ পড়লে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ২৫ ফেব্রুয়ারী সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। আটককৃতদের মধ্যে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের হাজরাদি চানপুর এলাকার মোতাহার হোসেন ভূইয়ার পুত্র স্বদেশ ভূইয়া বাদি হয়ে বন্দর থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিরা হলেন ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের নিশং এলাকার সাহাবুদ্দিন ও একই এলাকার মোশারফের পুত্র বাদশা। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে।

মামলায় স্বদেশ ভূইয়া উল্লেখ করেন, বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাইতুল্লাহ মসজিদের পূর্বপাশে গালাক্সি স্কুলের ভেতরে প্রতাশা নামে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ প্রদানের বিষয়ে একটি কোচিং সেন্টার খুলেন পুলিশের ঢাকার বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহাবুদ্দিন ও বাদশা। বাংলাদেশ পুলিশ কনস্টবল চাকুরী দেয়া কথা বলে স্বদেশ, সিয়াম, মোস্তাকিম, রায়হান, তৌহিদ, মারুফা আক্তার মলি, রুবেলসহ ২০ জন সদস্যদের কাছ থেকে ৪ লাখ করে টাকা হাতিয়ে নেয় বাদশা ও ঢাকা এসবির সহকারী উপ-পরিদর্শক সাহাবুদ্দিন। ওই মামলা দায়েরের পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহাবুদ্দিন ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে আসার পথে ফতুল্লার শিবুমার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ রাশেদ মোবারক। কিন্তু সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করলে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এবং বিষয়টি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও ওই সময় ডিবি অফিস থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের নানাভাবে তদবীর করা হয়। কিন্তু কয়েকটি মিডিয়া ঘটানাটি প্রকাশ করে দিলে ভিন্ন কৌশল নেয় পুলিশ। অসুস্থ্যতা দেখিয়ে এএস আই সাহাবুদ্দিনকে ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। যাতে মিডিয়াকর্মীরা তার নাগাল না পায়। দীর্ঘদিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর আদালত থেকে সাহাবুদ্দিন জামিন পান। জামিনে এসেই তিনি বাদী পক্ষ ও ভুক্তভোগি অভিযোগকারীদের সাথে দেনদরবার শুরু করেন। এবং সফলও হন। বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পথে রয়েছেন।

 

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ