মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর, ২০১৯

প্রবাসীর জমি বিক্রি, এলডিপি নেতা কামাল প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা

শনিবার, ২ নভেম্বর ২০১৯, ২০:২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: প্রতারণার মাধ্যমে প্রবাসীর জমি বিক্রির অভিযোগে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল এলডিপির জেলা কমিটির নেতা কামাল প্রধানের নামে মামলা হয়েছে।

গত ৩১ অক্টোবর রাতে প্রবাসী আনিসুর রহমান বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার নং- ৪৫। মামলায় বন্দরের বাগবাড়ি এলাকার প্রধান বাড়ি এলাকার আবুল প্রধানের ছেলে কামাল প্রধান ও উপজেলার ৮৯ নং উইলসন রোড এলাকার মৃত হাজী সদর উদ্দিনের ছেলে আক্তারুজ্জামানসহ আজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় তিনি জানান, ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সালের ২৯ জুলাই প্রবাসের পরিশ্রম করে অর্জিত টাকায় বন্দর উপজেলার কুশিয়ারা মৌজাস্থ পৃথক তিনটি দলিল মূলে ১০, ৪ এবং ২ শতাংশ জমি ক্রয় করে আবার সৌদি আর চলে যান। দীর্ঘদিন পর ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে এসে জানতে পারেন কষ্টে অর্জিত টাকায় কেনা জমিটি কামাল প্রধান নামক ব্যক্তি একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নীর মাধ্যমে ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি আরও জানতে পারেন, কামাল প্রধানকে তিনি পাওয়ার অব অ্যাটর্নী দিয়েছেন। এতে তার স্বাক্ষর ও টিপ সই রয়েছে। পরবর্তীতে আক্তারুজ্জামানের কাছ থেকে কামালের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর কামাল প্রধানের বন্দর বাগবাড়ি এলাকার নিজ বাড়িতে গিয়ে এমন প্রতারণ কারণ কি, জানতে চাইলে অজ্ঞাত আরও কয়েকজন ব্যক্তিসহ ভয়ভীতি এবং মামলা মোকাদ্দমা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

এর আগে আনিসুর রহমান একই ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের কাছে এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন। এই অভিযোগের তদন্ত করতে পুলিশ সুপার নির্দেশ দেন জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীরকে।

এদিকে সম্প্রতি ওই কামাল প্রধান নিজেকে তিনটি পত্রিকার প্রকাশক উল্লেখ করে গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দাবি করেছেন, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই আলমগীর তাকে ডিবি কার্যালয়ে জোরপূর্বক ডেকে নিয়ে হুমকি ধামকি প্রদান করেছেন!

তবে, ডিবি পুলিশর এসআই আলমগীর এ ব্যাপারটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এসপি বরাবর আনিসুর রহমান নামক এক ব্যক্তি একটি অভিযোগ দেন। সেটির তদন্ত করতে দায়িত্ব দেওয়া হয় আমাকে। কিন্তু কামাল প্রধান কে, সেটি চিনতে পারছিলাম না। এর মধ্যে কোর্ট এলাকার একটি ক্যান্টিনে বাদি আনিসুর দেখিয়ে দেন উনিই কামাল প্রধান। তখন তাকে ঘটনাটা বলি এবং উভয় পক্ষকে বসে এর একটা সমাধান করার জন্য বলি। পরে তিনি নিজে সময় দিয়েছিলেন আসবেন বলে। কিন্তু তিনি না এসে পরের দিন পত্রিকাতে একটি সংবাদ প্রকাশ করান যার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বন্দর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কামাল প্রধানের বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। এর মধ্যে প্রতারণার অভিযোগে একটি কোর্ট পিটিশন রয়েছে। এছাড়াও আদালতে তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা রয়েছে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ