রবিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৯

পূজা শুরু, দুই ভোগান্তিতে নগরবাসী

সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ২০:৩৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। পূজোর প্রথম দিনেই নগরজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। সকাল থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত পর্যন্ত এই জট চোখে পড়ার মতো। তারউপর ফুটপাত জুড়ে হকারদের রাজত্ব। ফলে দুই কারণে পূজারী তথা নগরবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে।

সোমবার (১৫ অক্টোবর) বিভিন্ন সময় নগরীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত নগরীর মূল সড়কে দীর্ঘ যানজট। এরপর বিকেল ৫টার দিকে সড়কে ফের যানজট তৈরী হয়। এবং সন্ধ্যর দিকে তা চরম মাত্রায় পৌছায়। অন্যদিকে ফুটপাতে হকারদের রাজত্ব। নেই পা ফেলার জায়গা। পূজা উপলক্ষে অন্যান্য সময়ের তুলনায় অধিক হকার তাদের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। ফুটপাতের দুইপাশে সারিসারি হকার আর মাঝ দিয়ে শরু হাটার পথ। এই শুরু পথেই গ্রহকরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পণ্য দেখছেন, কেনাকাটা করছেন। অনেকটা ধাক্কাধাক্কি করেই পথ চলছেন পথচারীরা। ফুটপাত দিয়ে হাটার পথ না পেয়ে অনেকে আবার সড়ক দিয়েই হাটছেন। সড়কে নেমেও হাটতে পারছেন না পথচারীরা। কেননা সড়কের পাশেই অবৈধ পাকিং। সারিসারি গড়ী দাঁড়িয়ে আছে আর তার পাশেই রিকশা। অবৈধ পার্কিং এখন যেন আরো বেশী। অনেকেই কেনাকাটা করতে এসে রাস্তার পাশে গাড়ী দাড় করিয়ে কেনাকাটা করছেন। আর তার ওপর নগরীর বিভিন্ন মোড়ে অবৈধ স্ট্যান্ড। রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়েই যাত্রী ওঠানাম করাচ্ছেন গাড়ী চালকরা।

শাহীদা রহমান একজন গৃহিনী। তার মেয়ে চাষাড়া বেইলী স্কুলের একজন শিক্ষার্থী। বাড়ি আমরাপাড়ায় হওয়ায় প্রতিদিন মেয়েকে হেটেই স্কুলে পৌছেদেন এবং নিয়ে যান। শাহীদা রহমান বলেন, ‘বছরের অন্যান্য সময় নগরীর ফুটপাতে তেমন হকার থাকে না। থাকলেও তা সহনীয় মাত্রায়। সকালে হকার একদমই বসতো না, বসলেও বিকেলে। কিন্তু বিভিন্ন উৎসবে এ চিত্র বদলে যায়, যেমনটা এখন। আজ ফুটপাত দিয়ে তো হাটাই যাচ্ছিল না। অনেক কষ্ট করে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ কলেজের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী শুভ বলেন, ‘পূজোর কেনাকাটায় সবাই ব্যস্ত সময় পার করছে। যেখানে একজন হকার বসতেন এখন বসছে ৫জন। ফুটপাতে ভীড়ের কারণে পকেটমারের উদ্রোপও বেড়েছে। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কখন যে চুরি হচ্ছে বুঝাই যায় না। এরই মধ্যে আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেকের পকেটমারের শিকার হতে হয়েছে।’

মিজানুর রহমান একজন অবসর প্রাপ্ত প্রাইমারী শিক্ষক। চিকিৎসার জন্য পপুলার হাসপাতালে এসেছেন। মিজানুর রহমান বলেন, ‘৫ মিনিটের রাস্তা পার করতে ১৫ মিনিট লাগল, এতো ভীড়। এভাবে ফুতপাট দখল করে রেখেছে যে হাটার জায়গাও নেই। এটা ফুটপাট, মার্কেট নয়। ফুটপাত হাটার জন্য, ব্যবসার জন্য নয়। এদের এখানে বসতেই দেয়া ঠিক না। যতোটা না অসুস্থ্য ছিলাম এই ভীড়ের মধ্যে হাটতে গিয়ে আরো বেশি অসুস্থ্য হয়ে পরেছি। প্রশাসনের হকারদের প্রতি আরো কঠোর হওয়া উচিত।’

রেশমি সরকার ও তার স্বামী অজয় সরকার পূজোর কেনাকাটা করতে এসছেন। কেনাকাটার জন্য এক মার্কেট অন্য মার্কেট যাবেন কিন্তু ফুটপাত দিয়ে হাটার পথ না পেয়ে সড়কের মাঝ দিয়েই হাটছেন। অজয় সরকার বলেন, ‘ফুটপাত দিয়ে হাটার বিন্দুমাত্র জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হাটছি। কিন্তু রাস্তার পাড় দিয়েও হাটতে পারছি না, এত্তো গাড়ী পার্ক করা। তাই ঝুকি নিয়ে রাস্তার মাঝ দিয়েই হাটছি।’

ফুটপাতের অবৈধ দখলের ফলে অতিষ্ঠ মার্কেটের দোকানীরাও। দোকানের সামনে হকার বসায় গ্রাহকরা তাদের পণ্য দেখতে পায় না। দোকানে প্রবেশ করতেও বিরম্বনায় পরেন। সামেয় প্লাজার একজন দোকানী বলেন, ‘আমরা বেশি টাকা দিয়ে দোকান নেই আর দোকানের সমানে হকাররা বসে পরে। হকার পেড়িয়ে গ্রাহকরা ভিতরে আসতে চান না। দোকানের পণ্যের মতো দেখতে নিম্নমানের পণ্য হাতের কাছে পেয়ে কেউ শো-রুমে প্রবেশই করে না। যার ফলে আমাদের কিছু গ্রাহক কমে যায়। তবে যারা ভালো পণ্যে চান তারা কষ্ট করে হলেও ভিতরে আসেন। তবে আমরা অবশ্যই চাইবো ফুটপাত হকার মুক্ত থাকুক।’

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ