সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

পুলিশ ও সোর্সের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট সেজে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২৩:৫৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ম্যাজিস্ট্রেট সেজে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বন্দর থানার এক সোর্সের বিরুদ্ধে। আর এই কাজে তাকে  সহযোগিতার অভিযোগ দুই পুলিশের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।  

শনিবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বন্দরের সাবদী এলাকায় এমন অভিযোগে ওই সোর্সকে আটক করে স্থানীয় এলাকাবাসী। এ সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তা পাশ্ববর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

অভিযুক্তরা হলো, বন্দর থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল হক, আনোয়ার ও সোর্স শামীম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে বন্দর থানার এএসআই আমিনুল হক, আনোয়ার ও সোর্স শামীম ভ্রাম্যমান আদালতের কথা বলে বন্দরের সাবদী এলাকার নান্নুর মুদি দোকানে জরিমানা করে। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী ও আশেপাশের লোকজন বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তাদের কাছ থেকে সদুত্তর না পেয়ে ঘটনাস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সোর্স শামীমের উপর চড়াও হন এলাকাবাসী। তাকে মারধর করেন তারা। এ সময় এএসআই আমিনুল ও আনোয়ার পাশ্ববর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে বন্দর থানার ওসি ও অতিরিক্ত পুলিশ এসে এলাকাবাসীকে নিভৃত করেন এবং সোর্স শামীমকে পুলিশী হেফাজতে থানায় নিয়ে যান।

এদিকে আশেপাশের একাধিক দোকানি অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও সোর্স প্রায় সময়ই তাদের দোকানে আসেন এবং ভ্রাম্যমান আদালতের কথা বলে টাকা পয়সা নিয়ে যান।

এর আগে জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) কর্মরত ছিলেন এএসআই আমিনুল হক। গত বছরের ২৬ আগস্ট রাতে শহরের খানপুর এলাকার ‘মাই লাইফ’ ফাস্টফুডের দোকানিদের সাথে ডিবির সংঘর্ষের ঘটনায় ফাস্টফুডের মালিক জালাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা ইয়াসমিনের দায়ের করা মামলায় এএসআই আমিনুল হককেও আসামি করা হয়।

এ বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই দোকানে গাঁজা ও লায়ন নামে নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক পানীয় বিক্রি হয় এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে পুলিশের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত চালাতে হলে তো ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন। আসলে অভিযান চালালে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে আমি গিয়ে এলাকাবাসীকে নিভৃত করি এবং সোর্স শামীমকে পুলিশী হেফাজতে থানায় নিয়ে আসি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ওই দুই পুলিশ সদস্য ও সোর্সের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযানের কথা বলে দোকানিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওসি বলেন, এমন কোন অভিযোগ কেউ আমাদের কাছে করেনি। আমরা অভিযোগ পেলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পুলিশ সদস্যকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ