বুধবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৮

পুলিশের ব্যক্তিগত অপরাধের দায় জেলা পুলিশ বহন করবে না: এসপি

মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর ২০১৮, ২১:০১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: আনিসুর রহমান, বিপিএম, পিপিএম (বার) বলেছেন, কোনও পুলিশ সদস্যের মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, পুলিশের ব্যক্তিগত অপরাধের দায় জেলা পুলিশ বহন করবে না। অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। মাদকের ব্যাপারে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের লাউঞ্জ রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিমিয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় সাংবাদিকরা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র গ্রেপ্তার বাণিজ্যের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ। ডিবির লাগাম টেনে ধরা দরকার। জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে আমাকে লিখিত আকারে জানাতে বলবেন, আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।

সাংবাদিকরা আরো বলেন, ইদানীং দেখা যাচ্ছে পুলিশের কিছু সদস্য বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের পক্ষ নিয়ে নিরীহ মানুষের জমি দখলে সহযোগিতা করছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। সাংবাদিকরা আশঙ্কা করছেন, এসব বন্ধ না হলে জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।

জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, পানের দোকানদারও সম্পাদক হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে ভাড়া এনে এখানে পত্রিকা চালাচ্ছে। আমরা আপোষহীন, আমরা কাজ করতে ভালোবাসি। আমরা লিখতে গেলে আপন লোককেও ছাড় দেই না।

পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় আপনাকে চোখ কান খোলা রেখে কাজ করতে হবে। কারণ পুলিশের বদনাম করার জন্য পুলিশের ভেতর কিছু অসাধু সদস্য আছেন, যাকে বলে ‘ ডাল মে কুচ কালা হায়’।

মাহবুবুর রহমান মাসুম আরো বলেন, ডিবিতে পেশাদার সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষেধ। আবার কোন কোন সাংবাদিকের বাড়িতে মাসোহারা যায়। তারা ডিবিতে ঢুকতেও পারে। অনেক দালাল আছে, যারা ডিবির সাথে মিশে সোর্সের কাজ করে।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘পুলিশ সাংবাদিক যদি একসঙ্গে কাজ করে তবে সে জেলায় অপরাধ অনেক কমে আসবে।’ তিনি আরো বলেন, একটি অদৃশ পর্দা ও মীর জাফরদের ষড়যন্ত্রের কারণে জেলা পুলিশ প্রশাসনের সাথে সাংবাদিকদের দুরুত্ব তৈরী হয়েছিল। আজকের পর থেকে সেই অদৃশ্য পর্দা সরে গেল, এবং মীর জাফররা আর ষড়যন্ত্র করার আর সুযোগ পাবে না।

তিনি রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন,‘রাজনৈতিক নেতারা যদি কোনও অনুষ্ঠানে গিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে ১০/১৫ মিনিট করে কথা বলেন তবে এর প্রভাব সমাজে পড়বে। আগামী প্রজন্ম মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পাবে।’

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কবি হালিম আজাদ, আরিফ আলম দীপু, সিনিয়র সাংবাদিক বিমান ভট্টাচার্য, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাউদ মাসুদ, নাফিজ আশরাফ, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম, বিএফইউজের নির্বাহী কমিটির সদস্য আমির হুসাইন স্মীথ, সাংবাদিক আহসান সাদিক শাওন, শওকত আলী সৈকত, বুলবুল আহমেদ সোহেল প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন, ইমরান হোসেন সিদ্দিকী, নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম। প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য তমিজ উদ্দিন, হাফিজুর রহমান মিন্টু, নাহিদ আজাদ, মোস্তফা করিম, মাহফুজুর রহমান, বিল্লাল হোসেন রবিন, রফিকুল ইসলাম রফিক, লুৎফর রহমান কাকন, এম এ খান মিঠু, জুয়েল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, প্রনব রায়, দিপুক ভৌমিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর জেলা সংবাদদাতা গোলাম রাব্বানি ও দেশ টিভির জেলা প্রতিনিধি রাকিবুল হাসান প্রমুখ।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ