শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে দুই দফায় মোটা অংকের টাকা আদায় করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) মোমেন আলম।

পুলিশের আইজিপি বরাবর এমন অভিযোগ দায়ের করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জের বার্মাশিল্ড এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস। অভিযোগের অনুলিপি ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছেও প্রদান করেছেন তিনি।

রোববার (২০ অক্টোবর) দায়েরকৃত ওই অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই মোমেন আলম, কনস্টেবল কাবিউল ও সোর্স মিদুল গত ৮ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে আমার বাসায় ঢুকে সমস্ত জিনিসপত্র তছনছ করে নগদ ৩৭ হাজার টাকা ও আমার মেয়ের পায়ের একজোড়া রুপার তৈরি নুপুর নিয়ে তারা আমাকে বলে ‘একটু বাইরে আসেন’। আমি বাইরে আসলে তাদের প্রশ্ন করি, কী ব্যাপার? আমাকে বলে, সামনে একটি সিএনজিতে একজন লোক বসা আছে আপনি এই লোকটাকে চিনেন কিনা এই কথা বলার পর আমি সিএনজির সামনে গেলে তারা আমাকে টেনে হেছড়ে সিএনজিতে তুলে নাভানা সিটির পশ্চিম পাশের এক কোনায় নিয়ে আমাকে সিএনজিতে রেখে চড়-থাপ্পড় মেরে বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখিয়ে আমার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করে।

ভুক্তভোগী ইলিয়াস বলেন, আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে চালান দিবে বলে বলে হুমকি দেয়। আমি তাদের এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি আমার কথা শুনে আমাকে দুই কানে ও গালে চড়-থাপ্পড় মেরে বলে ‘জেলার এসপি ও থানার ওসি আমার পকেটে থাকে’। তাদের না জানিয়ে আমি কোনো কাজ করি না। পরে আমি মার সহ্য না করতে পেরে আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে ১ লাখ টাকা জোগাড় করে নিয়ে আসতে বলি।

পরে আমার স্ত্রী অনেক কষ্টে বিভিন্ন জায়গা থেকে ৭৫ হাজার টাকা জোগার করে নিয়ে তাদের হাতে দিলে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে আবার গত ১৭ অক্টোবর দুপুর ১টার সময় আমি আমার বন্ধু কাজী উকিলের অফিসে বসা ছিলাম এমন সময় এএসআই মোমেন আলম ও কনস্টেবল কাবিউল অফিসের ভিতরে গিয়ে আমাকে বলে আমি ইয়াবা ব্যবসা করি।

তখন তারা আমাকে ও বাবুকে হাতকড়া পরিয়ে চড়-থাপ্পড়, কিল ঘুষি মারতে থাকে তারপর বলে আমাকে কত টাকা দিবি বল। আমি টাকা দিতে না চাইলে আমাকে ও বাবুকে সিএনজিতে করে আবার নাভানা সিটির পূর্বের জায়গায় নিয়ে মারধর করতে থাকে। পরে তারা আমাদের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করে আমি টাকা কোথা থেকে দিব বললে তারা বলে আচ্ছা ৫০ হাজার টাকা কম দিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আয়।

আমি তাদের আমার কাছে কোন টাকা নেই জানালে পরে তারা আমাকে বলে ‘নগদ ১ লাখ টাকা পরে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দিস’। পরে আমি বাসায় ফোন করলে আমার স্ত্রী মানুষের কাছ থেকে ধার করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসে। টাকাটা তাদের হাতে দিলে তারা আমাকে ছেড়ে দিয়ে ২দিনের মধ্যে আর বাকি ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে আমাদেরকে ছেড়ে দিয়ে চলে যায়। যাওয়ার সময় আরো বলে আমি যেন এই ব্যাপারে কাউকে না বলি বললে আমাকে ইয়াাবা দিয়ে মামলা দিবে।

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোমেন আলম। তার দাবি, ‘ইলিয়াস নামে আমি কাউকে চিনি না। যদি এ নামে কাউকে ধরতাম তাহলে তাকে ছাড়তাম কেন? এসব মিথ্যা কথা।’

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানা এলাকা থেকে প্রথমে র‌্যাব, পরে নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মিঠু নামে এক ব্যক্তিকে ক্রস ফায়ার ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়ে আসে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই কামাল হোসেন ও এএসআই মোমেন আলম। পরে মিঠুর স্ত্রী দিলারার কাছ থেকে নগদ ২’লাখ ৭০’হাজার টাকা আদায় করে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ