বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

পুজোর সাজে সেজেছে নারায়ণগঞ্জ নগরী

শুক্রবার, ৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে নগরীতে শুরু হয়েছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজা উপলক্ষে বাহারি রংয়ের আলোয় নতুন সাজে সেজেছে পুরো নগরী। পূজাকে সামনে রেখে নগরীর সর্বত্র সাজ সাজ রব।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) দুর্গা দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা দিয়ে অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। এরপর থেকেই মন্দিরে ঢাকের বাজনার পাশাপাশি চলছে ধর্মীয় গান ও পূজা অর্চনা।

পুরাণে আছে, অশুভ অসুর শক্তির কাছে পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছিলেন। চারদিকে অশুভের প্রতাপ। এই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে একত্র হলেন দেবতারা। অসুর শক্তির বিনাশে অনুভূত হলো এক মহাশক্তির আবির্ভাব। দেবতাদের তেজোরশ্মি থেকে আবির্ভূত হলেন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা। সনাতন বিশ্বাস ও বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোটকে (ঘোড়ায়), গমনও হবে ঘোটকে।

শুক্রবার সকাল থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার পঞ্চমীর দিন সন্ধ্যার পর মন্ডপগুলোর আলোকসজ্জায় আলোকিত হয়ে উঠে পুরো নগরী। যা দেখতে পুজোর আগেই ভিড় করে বিনোদনপ্রেমী মানুষ।

অতীতে নিপূণ কারুকার্যের প্রতিমা আর সাজসজ্জাতেই দুর্গোৎসবের সীমাবদ্ধতা থাকলেও বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে প্রতিটি ক্ষেত্রে। তাই পূজার আড়ম্বড়তা বাড়াতে প্রায় প্রতিটি মন্ডপে চোখ ধাধানো লাইটিং, বাহারি আলোর ঝলকানির আয়োজন করা হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বাহারি আলোকসজ্জায় ঝলমলে হয়ে ওঠে নগরীর প্রতিটি সড়ক। বিশেষত নগরীর বিবি রোড এলাকা, দেওভোগ এলাকা, আমলাপাড়া এলাকাসহ বহুতল ভবনে রকমারি আলোকসজ্জা, বাহারি তোরণ আর লাইটিং চোখে পরার মতো।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা বলেন, জেলার ২০৫টি পূজা মন্ডপে মহাষষ্ঠীতে দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। মন্ডপগুলোর আলোকসজ্জা ও তোরণের মাধ্যমে সমগ্র নারায়ণগঞ্জ উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্ততি গ্রহণ করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। এছাড়াও আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জানা গেছে, এবারের পূজায় প্রত্যেকটি পূজামন্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা মনিটর করা হবে। র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আয়োজক কমিটির বিশেষ পোশাক পরিহিত আলাদা কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে। থাকবে গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্য। এছাড়াও পূজা উপলক্ষে পুরো শহরে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা চলমান থাকবে। প্রতিমা বিসর্জনের দিন নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিসর্জনস্থলে পৌঁছে যাতে সুশৃঙ্খলভাবে বির্সজন দেয়া হয় সে ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র সাজ্জাদ রোমন জানান, মানুষের নিরাপত্তার জন্য পূজামন্ডপগুলোতে প্রচুর সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রত্যেকটি মন্ডপে থাকবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ