মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল, ২০২০

পাওনা টাকা চাওয়ায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলার আসামি তারা!

শনিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:৩৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: পাওনা টাকা ফেরত না দেয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শহরের তিন ব্যবসায়ী। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মোলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মোলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী তিন ভাই জোবায়ের শিকদার, সুমন শিকদার, হোসেন শিকদার ও তাদের মা আছিয়া খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখি বক্তব্যে হোসেন শিকদার বলেন, আমার বাবা গম ব্যবসায়ী ছিলেন এবং দুইটি ময়দার মিলের মালিক ছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় আমরা তিন ভাই এ ব্যবসায় সাথে জড়িত। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৈয়দপুর গোগনগর ফকিরবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী হাছান ফকিরের কাছে আমরা তিন ভাই ব্যবসায়িক সংক্রান্ত লেনদেন বাবদ ৭০ লক্ষ টাকা পাওনা হই। যা তিনি পরিশোধ না করে উক্ত টাকার চেক সবাইকে আলাদাভাবে দিয়ে মার্কেট থেকে চলে যায়। যা তার নিজ দোকান মেসার্স ফাহিম এন্টারপ্রাইজ ও সৈয়দপুর ট্রেডার্স নামে। উক্ত চেকের মেয়াদ ৬ মাস পেরিয়ে গেলে তিনি ৩ মাস সময় নিয়ে স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে দেন যে, সে মরে গেলেও তার ওয়ারিশগণ তার সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা দিবে বলে আশ্বস্ত করে। তিন মাস পার হয়ে গেলে আমরা ওই চেকের মাধ্যমে ডিস-অনার মামলা দিয়ে থাকি। পরবর্তীতে বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হলে তার পরিবারের সম্মুখে সে ১ মাসের মধ্যে ৫৫ লাখ টাকা দিবে বলে জানায়। তারপর থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে সে জানায় আমার সম্পদ সবই এজমালি। পরিবারের অনেকের খামখেয়ালির কারণে জায়গাগুলো বিক্রি হচ্ছে না।

গত বছরের ৩রা ডিসেম্বর বিকেলে জানতে পারি হাছান সরকারের সাথে তার সম্পর্কিত আত্মীয় আরেক পাওনাদার মামুনের সাথে হাতাহাতি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের কিছুক্ষণের মধ্যেই আপোষ হয়ে যায়। এর পরে ১০ ডিসেম্বর জানতে পারি হাছান ফকির আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনার ৮ দিন পর হাছানের স্ত্রী আশা মনি পিংকি আমাদের ৩ ভাইয়ের নামে সদর থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনামূলক মামলা দায়ের করে। এজাহারে বলা হয়, আমরা ১০ বছর ধরে ব্যবসায়িক লভ্যাংশ নেই।

সম্মেলনে হোসেন শিকদার দাবি করেন, আমি ব্যবসাই শুরু করি ২০১৫ সালের শেষের দিকে আর হাছানের সাথে লেনদেন শুরু ২০১৮ তে। তাহলে ১০ বছর কিভাবে হয়? এছাড়া এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে গত ৩ ডিসেম্বর নাকি আমরা ৩ জন তাকে মেরেছি। কিন্তু ঐ দিন তার সাথে মারামারি হয়েছেই অন্যজনের সাথে সেখানে আমাদের নাম জড়ালো কিভাবে? তার পরিবারের সাথে আমরা বসতে চেয়েছি কিন্তু তার ভাই সুলতান ফকির বলছে যদি আমরা আমাদের পাওনা টাকার দাবী ছেড়ে দেই তাহলে তাহলে মামলা তুলে নিবো নয়ত জেলা খাটানোর জন্য যা কিছু করার প্রয়োজন তাই করবো।

তিনি বলেন, আমরা এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করছি। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি মহোদয়, চেম্বার অব কমার্স, এসপি ও ডিসির কাছে আবেদন জানাই যাতে আমাদের পাওনা টাকা ও হয়রানিমূলক মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ