সোমবার ১৭ জুন, ২০১৯

পলিথিনে ডুবছে নারায়ণগঞ্জ শহর

মঙ্গলবার, ৪ জুন ২০১৯, ১৯:১৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব হয়ে গেছে পুরো শহর। শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে অপচনশীল পলিথিন। এসব পলিথিনের কারণে সড়কের পাশের ড্রেনগুলোর মুখ আটকে যাচ্ছে, পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। যার ফলে খানিক সময়ের বৃষ্টিতেই শহরের মূল সড়কগুলো ডুবে যাচ্ছে। আসছে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার হুমকিস্বরুপ এই পলিথিন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের মূল সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কজুড়ে নিষিদ্ধ পলিথিনের সমারোহ। এই পলিথিনের মাত্রা বেড়েছে ফুটপাতে ব্যবসা করা হকারদের জন্য। ঈদ উপলক্ষে যেসব পোশাক বিক্রি করছেন সেসব পোশাকের পলিথিনের প্যাকেটগুলো ফেলে দিচ্ছেন সড়কের উপর। যার ফলে পুরো সড়কে এখন পলিথিনে সয়লাব। চাষাড়ার সমবায় মার্কেটের সামনে দেখা যায় সড়কের পাশের ড্রেনের মুখ আটকে গেছে পলিথিনের কারণে। যার ফলে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো সড়কজুড়ে। এদিকে ঈদের কেনা-কাটা করতে আসা মানুষ পড়ছেন বিড়ম্বনায়। এছাড়া সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমে যাচ্ছে পানি।

গত সোমবার ও রোববারের অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই ডুবে যায় শহরের মূল সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক। এর মূল কারণ হচ্ছে এই পলিথিন। শহরময় পলিথিন থাকার কারণে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে সড়কে জমে যাচ্ছে হাটু সমান পানি। পানি সরে যেতেও অনেক সময় লাগছে। ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ নগরবাসী। এই পলিথিন আসছে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন নগরবাসী।

এ বিষয়ে হকারদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, রাতে এসে এক লোক এই পলিথিন নিয়ে যায়। আসলে এমনটা কিছুই ঘটে না। প্রতিনিয়ত হকারদের ফেলে রাখা এই পলিথিনগুলো রাস্তায় পড়ে থাকে। এমনকি সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা শহরের গৃহস্থালি আবর্জনা অপসারন করলেও এই পলিথিন সড়ক থেকে এই পলিথিনগুলো অপসারন করেন না তারা।

তবে শুধু হকাররাই নন পুরো শহরের প্রতিটি দোকানে ও কাচা বাজারগুলোতে দেদারসে ব্যবহার হচ্ছে এই পলিথিন। প্রশাসনের কোন উদ্যোগ না থাকাতে বিনা বাধায় চলছে পলিথিনের ব্যবহার। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে বেড়ে গেছে এর ব্যবহার।

তবে এই পলিথিনের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। গত ৩১ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে মেয়র বলেছিলেন, ‘আপনারা কি একটি জিনিস লক্ষ্য করেছেন, বঙ্গবন্ধু সড়ক আমাদের শহরের একটি মাত্র সড়ক যেখানে হকাররা বসে। রাতের বেলায় তারা যখন চলে যায় তখন রাস্তায় প্রচুর পরিমাণ পলিথিন পড়ে থাকে। যদি কখনো সুযোগ হয় রাত ১০টায় শহরে বের হয়ে দেখবেন পলিথিনের শহর, পলিথিনের নগরী।’ তবে এ বিষয়ে মেয়র আইভী ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নেননি কোন কার্যকরী উদ্যোগ।

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, পলিথিন অপচনশীল হওয়াতে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশ মানছেন না। প্রতিটি দোকানেই ব্যবহার রয়েছে পলিথিনের। হাইকোর্টের নির্দেশ তোয়াক্কা করছেন না কেউই। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেই কোন উদ্যোগ। যার ফলে ঠেকানো যাচ্ছে না পলিথিনের ব্যবহার। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ