বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯

পরিবেশ দূষণ: এক মাসে ১৩ প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ৪ কোটি জরিমানা

শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ২০:২১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত বাতাস নারায়ণগঞ্জ শহরে। দূষণ ও দখলের কারণে নদী ও খালগুলো মৃত প্রায়। নারায়ণগঞ্জে পরিবেশ দূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অপরিশোধিত কলকারখানার বর্জ্য মিশ্রিত বিষাক্ত কালো পানিতে সয়লাব নদী, খাল-বিল থেকে শুরু করে সকল জলাশয়। পরিবেশের এই ভয়াবহ দূষণে যুক্ত আছে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছে। জেলায় পরিবেশ দূষণবিরোধী অভিযানে গত এক মাসে ১৩ কারখানা থেকে সাড়ে চার কোটির টাকারও বেশি জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান ও জরিমানা আদায় কোনও কিছুই কমাতে পারছে না এ দূষণের মাত্রা।

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, দূষণের জন্য দায়ী কারখানা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত জরিমানা করা হচ্ছে। হুট করেই পরিবর্তন পাওয়া যাবে না। এর ফলাফল সুদূরপ্রসারী। তবে দূষণের জন্য দায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে, প্রধান দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং একাধিক অভিযানে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধনের দায়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করে। গত মাসে নারায়ণগঞ্জে মোট ৪ কোটি ৫৩ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৪৭ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইটিপি স্থাপন না করে এবং পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়ে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য সরাসরি বাইরে ছেড়ে পরিবেশ দূষণ করায় সিদ্দিরগঞ্জের গোদনাইলের ইব্রাহিম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডকে ১ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়। এছাড়া আগামী ছয় মাস ইটিপি নির্মাণাধীন থাকাকালে প্রতি মাসে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা করে দিয়ে যেতে হবে ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলস কর্তৃপক্ষকে।

ইটিপি তৈরির পরও তা বন্ধ করে রাখায় এবং অপরিশোধিত তরল বর্জ্য সরাসরি পরিবেশে ছাড়ায় আমানা গ্রুপের ফতুল্লার কুতুবপুরের ইউনিটি কম্পোজিট মিলস্ লিমিটেডকে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৩৬০ টাকা, আদমজী ইপিজেডের টেক্স জিপারস্ (বিডি) লিমিটেডকে ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৫২ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

একই দিন জেলার সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর, জৈনপুর, ছয়হিস্যা, চর ভাটিবন্দর এবং রতনপুর মৌজায় বিস্তীর্ণ কৃষি জমি, জলাভূমি এবং নিচু ভূমি অবৈধভাবে ভরাট করার দায়ে মেঘনা ইকোনমিক জোন লিমিটেডকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং এর পরিচালক রুবিনা ফেরদৌসী নারায়ণগঞ্জ ২টি কারখানাকে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কার্যক্রম সম্পাদনের মাধ্যমে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধনের দায়ে ক্ষতিপূরণ ধার্য করেন। উদয়ন বোর্ড এন্ড পেপার মিলস লিমিটেডকে চুয়াত্তর হাজার আটশত ও ফতুল্লার নন্দলালপুরের মেসার্স ভাই ভাই ডাইং এন্ড প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিজকে ছয় লক্ষ আট হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়।

২৬ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা এলাকায় পরিবেশ দূষণকারী ডাইং ও রি-রোলিং কারখানার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট উইং সাত প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট তিন কোটি আঠার লক্ষ উনপঞ্চাশ হাজার একশত পঁয়ত্রিশ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করে। ফতুল্লা এলাকায় ইটিপি ও ছাড়পত্রবিহীন পরিবেশ দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের ডাইং ও ওয়াশিং সৃষ্ট তরল বর্জ্য দ্বারা বর্জ্য নিকটবর্তী খালের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদীতে নির্গমনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধন করায় ফতুল্লার লামাপাড়ার রূপসী নীটওয়ার লিমিটেডকে এক কোটি সাতানব্বই লক্ষ আটষট্টি হাজার ছয়শত চল্লিশ টাকা, মেসার্স ফজর আলী ডাইং প্রিন্টিং এন্ড ফিনিশিংকে সত্তর লক্ষ তেত্রিশ হাজার চারশত চল্লিশ টাকা, জিএম ডাইং এন্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং প্রা. লি. কে চব্বিশ লক্ষ চল্লিশ হাজার ছিয়ানব্বই টাকা, বরকত ডাইং এন্ড প্রিন্টিং কে ছাব্বিশ হাজার এক হাজার চারশত চল্লিশ টাকা, মেসার্স আল ফাত্তাহ টেক্সটাইলকে উনিশ লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার দুইশত উনআশি টাকা, আল ফাত্তাহ ডাইংকে এক লক্ষ নব্বই হাজার দুইশত চল্লিশ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়। এছাড়াও পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন আল হামিদ রি-রোলিং মিলকে দুই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মঈনুল হক বলেন, দূষণের জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে আমরা অভিযান চালিয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা হচ্ছে। আমরা মূলত পরিবেশের প্রতি তাদের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তাগিদ দেই। তাদের উদ্যোগ দ্রুতই হবে সেটা না। এটা দৃশ্যমান হবে তবে সময়সাপেক্ষ। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ইটিপি কিংবা অন্যান্য বিষয়গুলোকে পজেটিভলি নিয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে, এটা না করে উপায় নেই। সুতরাং এটা একটা অগ্রগতি।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেসব প্রতিষ্ঠানে জরিমানা কিংবা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছি তাদের কিন্তু ছেড়ে দিচ্ছি না। আমরা মনিটরিং করছি। জরিমানার পরও তারা যদি কথা অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেয় তাহলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার বিধানও রয়েছে। সুতরাং ছাড় নেই কোনোভাবে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ