বুধবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

পরিবহন ধর্মঘটে শহর জুড়ে বাসস্ট্যান্ড, ভোগান্তি

সোমবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৮, ২০:০৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ-চিটাগাং রোড এই দুই রুটে রোজ প্রায় ৫ শতাধিক বাস চলাচল করে। কিন্তু সারাদেশে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘট থাকার কারণে দুই রুটেই বাস চলাচল বন্ধ। বাস চলাচল বন্ধ থাকার কারণে বাস রাখতে হয়েছে বাস টার্মিনালে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাস রাখার জায়গা রয়েছে মাত্র ৩৬টির। সেখানে ৫ শতাধিক বাসের জায়গা দেয়া অসম্ভব। এমন অবস্থায় বাসগুলো এলোপাথারিভাবে সড়কের উপরই রেখে দেয়া হয়েছে বন্ধন, উৎসব, বাধন, আনন্দ, শীতলক্ষ্যা, বন্ধুসহ বিভিন্ন কোম্পানীর বাস। রাস্তায় বাস রাখার কারণে শহরে জুড়ে মনে হচ্ছে বাসস্ট্যান্ড। এতে ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নবাব সিরাজউদ্দোল্লা রোডের নারায়ণগঞ্জ কলেজের সামনের সড়কের একটি লেন দখল করে সারিবদ্ধভাবে রেখে দেয়া হয়েছে বাস। একইভাবে এস এ মালেহ রোডের দুই পাশের রাস্তা দখল করে রেখে দেয়া হয়েছে বাস। অন্যদিকে একই সড়কের ৫ নম্বর ঘাটের দিকে যাবার রোডটিতে এলোপাথারিভাবে বাস রেখে সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাস রাখা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী সড়কটিতেও। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনের সড়ক যেখান দিয়ে বন্দর ঘাট ও কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনালে যাতায়াত করা হয় তার পুরোটাই বাস রেখে দখল করা হয়েছে। সংকীর্ন একটু ফাঁক রাখা হয়েছে যেখান দিয়ে কেবল একলেনে রিকশা চলাচল করতে পারে। একে তো পরিবহন ধর্মঘট থাকার কারণে মানুষের ভোগান্তির কোন অন্ত নেই তার উপর রাস্তা দখল করে বাস রেখে দেয়াতে নগরবাসীর ভোগান্তি পৌছেছে চরমে।

জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবি আদায়ের জন্য সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও পালিত হচ্ছে ৪৮ ঘন্টার পরিবহন ধর্মঘট। সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সকল বাস ও গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে এলোপাথারিভাবে রাস্তা দখল করে বাস রাখাতে সড়কগুলো দিয়ে রিকশা, প্রাইভেট কার ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তি পোহাচ্ছে সাধারণ জনগণ।

কামরুল হাসান একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজে মুন্সিগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ এসেছিলেন সকালে। পরিবহণ ধর্মঘট হওয়ায় নৌ-পথেই ফিরবেন। কিন্তু টার্মিনাল ঘাটে যাওয়ার সময় শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়কের দীর্ঘ যানজটের মাঝে পড়েন। কামরুল হাসান প্রশ্ন করে বলেন, ‘এটা কি বাস রাখার জায়গা? এভাবে রাস্তায় বাস রেখে মানুষকে হয়রানি করার কোনো মানেই হয় না। প্রশাসন কি এসব দেখে না?’

নারায়ণগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী শারমিন বলেন, ‘এতো প্রতিদিনের সমস্যা। বাসের কারণে ঠিক মতো হাটাও যায় না। আজ তো আরো করুণ অবস্থা। ২০ মিনিট ধরে বসে থাকার পর ১ নম্বর রেলগেট পার হতে পেরেছি।’

মনিরুল হক ও তার স্ত্রী হালিমা বলেন, ‘আমরা রিকশায় যাচ্ছিলাম। ১৫ মিনিট রিকশায় বসে থাকার পর রিকশা চালক আমাদের বলল আপনারা হেটে চলে যান। আমি আর যাব না। রাস্তায় তো জ্যাম, মানুষ কিভাবে চলাফেরা করবে? এদের কেই কিছু বলে না কেন? রাস্তা তো পার্কিং এর জায়গা হতে পারে না।’

এ বিষয়ে নারায়নগঞ্জ সড়ক পরিবহন শ্রমিক কমিটির সভাপতি সভাপতি খাজা ইরফান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি প্রেস নারায়লগঞ্জকে বলেন, ‘সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘট চলছে। তাই বাস বন্ধ। এখন বাস রাখার জায়গা তো নাই। বাস রাখবো কোথায়? তাই উপায় না পেয়ে রাস্তার উপরই রাখা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাস টার্মিনালে বাস রাখার জায়গা খুবই সামান্য। আমরা একাধিবার প্রশাসনের কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছি আমাদের জন্য ভালো স্থান দেয়ার জন্য কিন্তু আমাদের প্রস্তাবনা মানা হয়নি। তাই বাস রাখার স্থান না পেয়ে বাধ্য হয়ে সড়কের মধ্যেই বাসগুলো পার্ক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা এবং মালিকরা নিরুপায়।’

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ