শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

পরিত্যক্ত স্কুল ভবন যখন আতঙ্কের কারণ

রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২০:২৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নের গোয়ালবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির পূর্ব পাশে রয়েছে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি পরিত্যক্ত একতলা ভবন। পরিত্যক্ত এই ভবনটি এখন এলাকাবাসী, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আতঙ্কের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ দিন যাবৎপরিত্যক্ত থাকায় কক্ষ তিনটি পরিণত হয়েছে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে। বদ্ধ ও অন্ধকার এই কক্ষগুলোতে ময়লা আবর্জনার পাশপাশি সর্বক্ষণই জমে থাকে বৃষ্টির পানি। ফলে জন্ম নিচ্ছে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা। হুমকির মুখে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

জানা যায়, প্রতিদিন প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করে এই বিদ্যালয়টিতে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রতিদিন বিদ্যালয়টিতে আসেন শত শত অভিভাবক। এছাড়া বিদ্যালয়টি একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে গোয়ালবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ফটক পেরিয়ে প্রবেশ করতেই দেখা যায় প্রশস্ত খেলার মাঠ। পুরো বিদ্যালয়ে মোট তিনটি ভবন রয়েছে। যার মধ্যে পূর্ব পাশের ভবনটি প্রায় এক বছর যাবৎপরিত্যক্ত। পরিত্যক্ত ভবনটি ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি কক্ষে ময়লা আবর্জনায় ভরা। সর্বত্র জমে রয়েছে বৃষ্টির পানি। যেখানে প্রতিনিয়ত জন্ম নিচ্ছে হাজার হাজার মশা।

ঈদ-উল-আযহার টানা ছুটির পর আজ প্রথম কার্যদিবসে বিদ্যালয়ে এসেছে শিক্ষার্থীরা। যাদের সিংহভাগ শিশুর বয়স ১০ বছরের নিচে। ক্লাস শুরু হওয়ার পূর্বে বিদ্যালয়ে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছে শিক্ষার্থীরা। এমনকি পরিত্যক্ত ভবনের আশেপাশেও। এমন সময় ভবনের দিকে যেতে সন্তানকে বাধা দেন একজন অভিভাবক।

বাধা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে অভিভাবক হামিদা রহমান বলেন, ‘সারা দেশে ডেঙ্গুর ছড়াছড়ি। সন্তানকে নিয়ে সারাক্ষণই আতঙ্কে থাকি। এই ভবনটি পুরো ময়লা, আবর্জনায় ভরা। তার উপর সব সময় পানি জমে থাকে, মশা জন্মায়। শিক্ষকদের এ বিষয়ে জানিয়েছি কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবর্তমানে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক রুবিনা জেসমিন বলেন, ‘এই ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে অনেকদিন যাবৎ। আমরা ভবনটি ভেঙ্গে নতুন ভবন তৈরি করার জন্য আবেদন জানিয়েছি। যতদিন না ভবনটি ভাঙ্গা হচ্ছে ততদিন আমরা এ বিষয়ে কিছু করতে পারছি না।’

বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান শ্যামল বলেন, ‘ভবনটি ভাঙ্গার জন্য আমরা তিনবার আবেদন জানিয়েছি। এখনো এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি। আমরা কক্ষগুলো বন্ধ করে রেখেছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় কিছু ছেলে কক্ষগুলো খুলে দেয়। খুলে দেয়ার পর থেকেই সেখানে ময়লা ফেলা শুরু হয়। আর ভবনটি আশেপাশের জমি থেকে নিচু হওয়ায় সব সময়ই পানি জমে থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অভিভাবক এবং এলাকাবাসী যেহেতু অভিযোগ দিয়েছে সেহেতু আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো। প্রয়োজন পড়লে নিজেদের অর্থায়নে কক্ষগুলো পরিষ্কার করবো।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিরুল হকের মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ