মঙ্গলবার ১৮ জুন, ২০১৯

নৌকার জন্য নিজেকে কোরবানি দিলেন বিএনপির মুকুল!

শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ২১:৩৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার পরও টানা দুইবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল। বন্দরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকার দরুন এবারের নির্বাচনেও এগিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ সময়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রার্থীর খাতিরে নিজেকে কোরবানি দিলেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে অটল ছিলেন মুকুল। কিন্তু বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশীদ নৌকার চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার পরপরই বেঁকে বসেন তিনি। দলীয় সিদ্ধান্তের অজুহাত দিয়ে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দুইবারের নির্বাচিত এই চেয়ারম্যান।

ক্ষমতাসীন দলের সাথে বিএনপি নেতা মুকুলের সখ্যতার গল্প নতুন না। বরং এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে পাল্টা উত্তর দেন, ‘আমি বিএনপিকে বেঁচে খাই না বরং বিএনপি আমাকে বেঁচে খায়।’ অথচ বিএনপির সমর্থনেই দুইবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, আছেন মহানগর বিএনপির কমিটিতেও। বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে দেখা না মিললেও ক্ষমতাসীন জোটের অনুষ্ঠানগুলোতে ঠিকই দেখা মেলে এই নেতার। তার এমন কর্মকান্ডে দলের থেকে বেশি বিশ্বস্ত দেখা যায় ওসমান পরিবারের প্রতি এমনও মন্তব্য করেন একাধিক বিএনপি নেতা। যার সর্বশেষ উদাহরণ মেলে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।

গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় জোটের ধানের শীষের প্রার্থী এসএম আকরামকে সমর্থন না দিয়ে কাজ করেন মহাজোটের প্রার্থী এমপি সেলিম ওসমানের পক্ষে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণা করতেও দেখা যায় তাকে। নিজ দলের প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করেছিলেন। যুক্তি দিয়েছিলেন, দল না উন্নয়নের পক্ষে তিনি। মোক্ষম সময়ে পল্টি মারা নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমান করেছেন বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও। ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ট নেতা এমএ রশীদ মনোনয়ন পাবার পরপরই দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান তিনি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন আইভী ঘনিষ্ট প্রার্থী সুফিয়ান পেলে তার অবস্থান ভিন্ন হতো বলেও আলোচনা রয়েছে।

এদিকে আতাউর রহমান মুকুলের এমন সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। গত ২১ মে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে বন্দর উপজেলা পরিষদের সামনে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় বিগত সময়ে চেয়ারম্যান ছিলেন আতাউর রহমান মুকুল। তার দলীয় পরিচয় বড় কথা নয় আমি জানি, সে আমার ভাই। সে বন্দরে জাতীয় ইলেকশনের সময় তিনি তার দলের থেকেও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এলাকার উন্নয়নকে। তাই আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। কে কোন দল করি বড় কথা নয়, উন্নয়ন সবাই মিলে করতে হবে।’ এমপি শামীম ওসমানের এই বক্তব্যই প্রমান দেয় নৌকার জন্য বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুলের নিজেকে বিসর্জন দেয়ার বিষয়টি।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ