সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

‘নাসিক জায়গা নিয়েছে তাতে কী লাভ হয়েছে’ প্রশ্ন সেলিম ওসমানের

বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট ২০১৯, ২২:২৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘কাজ করতে কোন লজ্জা নাই। আলোচনা করতে কোন লজ্জা নাই। আলোচনার টেবিলে কোন সম্মান নাই, এই টেবিলে সবাই সবাইকে বন্ধু মনে করতে হবে। আলোচনা হোক, সেই আলোচনা হবে আত্মসমালোচনা। নাসিক আশেপাশের জায়গা নিয়েছে তাতে কী লাভ হয়েছে? ক্ষতি হয়েছে আমাদের?’

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় শহরের দেওভোগের মর্গ্যান স্কুল এন্ড গার্লস কলেজে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় আন্দোলন করার চিন্তা করবে না। তোমাদের আন্দোলন করতে হয়েছে? তোমাদের কেবল একটু জায়গা গেছে কিন্তু বিল্ডিং তো আছে। তোমরা পড়াশোনা করো। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিজেকে গড়ো।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বুড়া হয়ে গেছি, আমরা কষ্ট করেছি, এক সময় মুক্তিযুদ্ধ করেছি, দেশ আনতে পেরেছি, পতাকা আনতে পেরেছি, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে ঘোষণা দিতে পেরেছি। এখন মৃত্যুর আমাদের একটাই চাওয়া- তোমরা দেশের, নারায়ণগঞ্জের দায়িত্ব নেও। ঝগড়াঝাটি বা গীবত না আলোচনা, আত্মসমালোচনার মাধ্যমে তোমাদের স্কুলকে তোমরা গড়ে নিবে। তোমরাই একদিন দায় দায়িত্ব নিতে পারবে।’

সেলিম ওসমান বলেন, ‘যারা ভালো তাদের কাছে দায়িত্ব দিয়ে যাবো। তোমাদের কথা আমি শুনবো। তোমাদের কোন চাহিদা থাকলে সেসব আমি শুনবো। আনোয়ার ভাইয়ের কাছে অনুরোধ তিনি যেন প্রতি ক্লাসের ছাত্রীদের সাথে বসেন। তোমাদের (ছাত্রীদের) আলোচনাই তোমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

সংসদ সদস্য বলেন, ‘জেলা প্রশাসককে নিয়ে এসেছিলাম স্কুলে। তিনি স্কুল দেখে তো হতবাক। ওনার ধারণা এটা বোধহয় অপচয়। আসলে তা নয়। পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মানুষ যত ভালো পরিবেশ পাবে তত বেশি মনোযোগী হবে।’

স্কুলটির গভর্নিং বডির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, অধ্যক্ষ অশোক তরু, বিকেএমইএ এর সহ সভাপতি মনসুর আহমেদ, স্কুলটির গভর্নিং বডির সদস্য আহসান হাবীব, নাসিক ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নি প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, মর্গ্যান স্কুলের একটি ভবনের দেওয়ালের লাগোয়া আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনের সীমানা দেওয়ার নির্মাণ করা হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের জায়গায় স্কুলের একটি ভবন থাকায় সে ভবনটি ভেঙে দেওয়া হয়। এ নিয়ে স্কুলের ছাত্রীরা আন্দোলনে নামে। মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেন। পরে স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানের হস্তক্ষেপে আন্দোলন থেকে সরে আসে ছাত্রীরা। সেলিম ওসমান নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অনুদানও প্রদান করেন।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ