বুধবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৮

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা পুরাতন সড়কে যাত্রীদের ভোগান্তি চলছেই

শনিবার, ২৮ জুলাই ২০১৮, ২০:৩৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন সংকটে চরম ভোগান্তিতে আছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন রোড দিয়ে চলাচলকারী অসংখ্য যাত্রী সাধারণ। এই সড়ক দিয়ে চাষাড়া আসা কিংবা চাষাড়া থেকে ঢাকায় যাওয়া উভয় ক্ষেত্রে যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে সিটিং সার্ভিসের নামে চলা একমাত্র বাস হচ্ছে আনন্দ বাস। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবহনের কাউন্টার বন্ধ হওয়ায় এখন সেটিও লোকাল বাসের মত চলা শুরু করেছে। এখন রোডটিতে কোনো সিটিং সার্ভিস বাস নেই। মূলত আনন্দ বাস আর কয়েকটি লোকাল বাস ছাড়া এই সড়কে চলাচলকারী কোনো বাস নেই। ঢাকা থেকে পঞ্চবটি হয়ে চাষাড়া আসার জন্য একমাত্র ভরসা হচ্ছে আনন্দ বাস অথবা সিএনজি।

স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের ভোগান্তি আরো বেশি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেশ চোখে পড়ার মত। সড়কটি দিয়ে অটো চলাচল করলেও তা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্তই সীমাবন্ধ। আবার অটো রিকশা কলেজ রোডের মোড় পর্যন্ত। যে কারণে ভোগান্তি নিত্যদিনের।

সিএনজি চাষাড়া রেল গেইট পর্যন্ত ঢুকলেও এইজন্য সর্বনিন্ম ভাড়া গুনতে হয় ১০ টাকা। সিএনজি চালকদের ভাষ্যমতে সিএনজিতে উঠলেই ১০ টাকা। যত কাছেই নামেন তাতে কিছু যায় আসে না। এমতাবস্থায় অনেকটা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এই সড়কে চলাচল করছেন যাত্রীরা। অথবা কেউ কেউ পায়ে চলা রিকশার উপর নির্ভর করেন। কিন্তু তাতেও অতিরিক্ত ভাড়া। যাদের বাড়তি টাকা নেই, তারা পায়ে হেটেই গন্তব্যে পৌছাচ্ছেন।

এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা পঞ্চবটি, পুলিশ লাইন এলাকার যাত্রীদের এখন দাবি সড়কটিতে যাতে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হয়। পঞ্চবটি থেকে চাষাড়া পর্যন্ত যাতে ছোট যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি ভাড়ার দিকে যাতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।

হায়দার আলী নামে এক বাস যাত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আনন্দ বাস দিয়ে চলাচল করি। একে তো বাসের সংখ্যা কম। আবার এখন কাউন্টার নেই। নিজেদের ইচ্ছামত যাত্রী তুলে, টিকিট না থাকায় ভাড়া রাখে বেশি। কোনো তদারকি না থাকায় জিম্মি হয়ে আছি আমরা। অন্য কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে আনন্দ বাসেই চলাচল করতে হয়।

গাড়ি সংকটে ভূক্তভোগী পুলিশ লাইনের বাসিন্দা আয়শা খন্দকার বলেন, ছেলের কোচিং সেন্টার চাষাড়াতে। যে কারণে প্রতিদিন চাষাড়াতে যেতে হয়। এত অল্প রাস্তা। কিন্তু কোনো গাড়ি পাই না। পঞ্চবটি থেকে সব সিএনজি ভর্তি হয়ে আসে। এক ঘন্টা দাড়িয়ে থাকলেও বাসের দেখা পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন রিকশায় যাওয়া আসা করতে হয়। মাঝে মাঝে তো রিকশাও পাওয়া যায় না। ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হয়। এমপি সাহেবের কাছে দাবি জানাই যাতে আমাদের সমস্যা তিনি দেখেন। এর একটা স্থায়ী সমাধান যাতে তিনি করেন।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ