বুধবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

নারায়ণগঞ্জ এর নাগরিক সমস্যা ও সমাধান চিন্তা

সোমবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ১২:০৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

নারায়ণগঞ্জ এর প্রধানতম সমস্যা নিতাইগঞ্জ থেকে চাষাড়া মূল সড়ক, মানে বঙ্গবন্ধু সড়ক জুড়ে যানজট। প্রতিনিয়ত লাখো লোক শহরের উত্তর থেকে দক্ষিন প্রান্তে বিভিন্ন কাজে এই সড়কটি ধরে যাতায়াত করে। শহরে কোন গণপরিবহণ ব্যবস্থা না থাকায় শহরবাসীর প্রধানতম বাহন হচ্ছে রিক্সা। যানবাহনের অভাবে রিক্সার চাহিদা থাকে তুঙ্গে, তাই বৈধ রিকশার চেয়েও দশগুন বেশী চলে অবৈধ রিক্সা। নিতাইগঞ্জ থেকে চাষাড়া দুই কিলো রাস্তার রিক্সা ভাড়া কমপক্ষে ২৫/৩০ টাকা। আবার ২নং রেলগেট থেকে চাষাড়া কিংবা নিতাইগঞ্জ ১ কিলো রাস্তার ভাড়া ১৫ টাকা, কখনোবা ২০ টাকা। এত স্বল্প দুরত্বে এত বেশী ভাড়া সম্ভবত দেশের আর কোথাও নেই।

সারাদেশের রিক্সাওয়ালদের কাছে নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে রিক্সা চালানোর সবচাইতে পছন্দের জায়গা। চাহিদা আছে বিধায় রিক্সাও বাড়ছে, সেটা বৈধ-অবৈধ সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। দিনদিন জনসংখ্যা বাড়ছে, তাল দিয়ে বাড়ছে শহরে রিক্সার পরিমাণ। সমান তালে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানজট আর জনদুর্ভোগ। প্রতিদিন চাষাড়া গোলচত্বর, কালিরবাজার মোড়, ২নং রেলগেইট, ডি,আইটি মোড়, মন্ডলপাড়া, নিতাইগঞ্জ মোড়ে অসহনীয় জনদুর্ভোগে নাকাল হচ্ছে শহরবাসী। ছোট্ট একটা রাস্তায় হাজারো রিক্সা, ভ্যানগাড়ি, সিএনজি, প্রাইভেট কার, বাসের চলাচল করাতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে শহর কর্তৃপক্ষ কিন্তু সমস্যার পরিত্রানের কার্যকর কোন উপায় কেউ বের করতে পারছেন না।

আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানে আমি কিছু সুপষ্ট প্রস্তাব পেশ করতে চাই। যেহেতু নিতাইগঞ্জ থেকে চাষাড়ার দুরত্ব বড়জোড় ২/৩ কিলো তাই শহরবাসীকে রিক্সায় না চড়ে হাটার অভ্যাস করতে হবে আগে। স্বল্প দূরত্বে রিক্সার পরিবর্তে পায়ে হাটার অভ্যাস করাতে পারলেই অর্ধেক যানজট কমে যাবে। রিক্সার চাহিদা কমে গেলে শহরে রিক্সা প্রবেশও অনেকাংশে কমে যাবে। শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ এবং শারিরীক প্রতিবন্ধীরা বিশেষ ভাবে নিবন্ধিত রিক্সাতে চলাচল করবে বাকি সকলের জন্য হাটা বাধ্যতামূলক। এবার আসি মূল প্রসংগে, হাটা বাধ্যতামূলক করলেই জনগন হাটবে কেন? যেখানে ফুটপাত বেদখল হয়ে থাকে, ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে ভর্তি থাকে। 

লোকজনকে হাটাবান্ধব ফুটপাত করে দিতে হবে সবার আগে। ২ কিলো রাস্তার উভয় পাশে যদি ১ কিলোর মত রাস্তাকে, নির্দিষ্ট দুরত্বে কনভেয়ার ওয়াকয়ে তৈরি করে দেয়া যায়, তবে আমি হলফ করে বলতে পারি, লোকজন নিজের দামী গাড়ি রেখেও ফুটপাত দিয়ে হাটবে। ধারনাটা ক্লিয়ার করি, আমাদের জেলার অসংখ্য লোক পেশাগত, চিকিৎসা কিংবা ভ্রমনের জন্য বিদেশে যান। বিশ্বের বড় সকল বিমানবন্দরে নিশ্চয় স্বয়ংক্রীয় চলন্ত রাস্তা দেখেছেন। ঠিক চলন্ত সিড়ির মত, শুধু সেটা চলে আনুভূমিক ভাবে কিন্তু বিমানবন্ধরে চলে সমান্তরাল ভাবে। আমি নিজেও গত সপ্তাহে অফিসিয়াল কাজে, ব্যংককের সুবর্ণভুমি, জাপানের হেন্দায় এবং নারিতা বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছু কিছু লবি ১ কিলোমিটারে মত লম্বা।

কিন্তু লোকজনের সেই লবি ধরে হাটতে বিন্দুমাএ ক্লান্তি লাগছেনা। কারন কিছুদূর পরপরই স্বয়ংক্রিয় চলন্ত রাস্তা দেয়া আছে, যেখানে রাস্তার দূরত্ব অটোমেটিক অর্ধেক কমে যাচ্ছে। আমাদের নারায়ণগঞ্জেও বিবি রোডের দুইপাশ দিয়ে যদি আমরা সেরকম স্বয়ংক্রিয় চলন্ত রাস্তা করে দিতে পারি, তবেই লোকজন রিক্সা ছেড়ে হাটা ধরবে। এরকম ভাবনা কল্পনাপ্রসূত মনে হতে পারে, কিন্তু প্রযুক্তির যুগে পিছিয়ে থাকার উপায় নেই। আপনাকে প্রযুক্তি নির্ভর নগর গড়ে তুলতে, খরচ নিয়ে চিন্তা করলেও চলবে না। প্রাথমিক ভাবে অবকাঠামোগত ব্যয়টা অনেক বেশী মনে হলেও, সামগ্রিক চিন্তায় চলন্ত রাস্তার বিকল্প নেই।

সর্বোপরি দেশের সবচাইতে ধনী জেলা, একটা ব্যয়বহুল প্রযুক্তি নির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত দেখানোর সাহস করতেই পারে। চাষাড়া কেন্দ্রিক লোকসমাগম কমানোর উপর আলোচনা আরেক দিনের জন্য তোলা থাকলো। শুভ রাত্রী নারায়ণগঞ্জ বাসী।

লেখক: শহীদুল ইসলাম খাঁ.

সব খবর
মতামত বিভাগের সর্বশেষ