মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২০

নারায়ণগঞ্জে ১১ মাসে ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের সংখ্যা ১৫১

সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৪৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে চলতি বছরের গত ১১ মাসে যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, গণধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৫১। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নারী শ্রমিক, শিশু, ছাত্রী, গৃহপরিচারিকাসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নারী।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় নগরীর নবাব সলিমুল্লাহ্ রোডে জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। এ সময় নারী নির্যাতনের এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহসভাপতি আঞ্জুমান আরা আকসির, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক এড. হাসিনা পারভীন ও লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানারা বেগমসহ মহিলা পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতেই চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে নারী নির্যাতনের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এড. হাসিনা পারভীন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের সংরক্ষিত জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার তথ্যের ভিত্তিতে পরিসংখ্যানে বলা হয়, চলতি বছরে নারায়ণগঞ্জে এ পর্যন্ত নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার ৪৭ জন। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬ জনকে। নারী ও শিশু হত্যার ঘটনা ১৪টি, যৌতুকের জন্য স্বামী কর্তৃক হত্যার ঘটনা ৪টি। উত্যক্তকরণের শিকার ২২ জন। অপহরণের ঘটনা ৬টি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ৪৩ জন, গৃহ পরিচারিকা নির্যাতনের শিকার ৪ জন। স্বল্পশিক্ষিত গৃহিনী থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবী নারীও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। পূর্বের বছরগুলোর তুলনায় নারী নির্যাতনের মাত্রা বেড়েছে বলেও যোগ করেন হাসিনা পারভীন।

‘সামাজিক অবক্ষয় ও অনাচারের কারণেই নারী নির্যাতন ক্রমাগত বাড়ছে’- মন্তব্য করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী বলেন, দেশে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী নারী হলেও রাষ্ট্রব্যবস্থা কোন পদ্ধতিতে চলছে সেটা খেয়াল করতে হবে। নারীকে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে রেখে রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে পারলেই কেবল নারী নির্যাতনের মাত্রা কমানো সম্ভব। এর জন্য সরকারকে সর্বপ্রথম এগিয়ে আসতে হবে। দেশে নারী নির্যাতন দমন আইন থাকলেও তা সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। বিচার ব্যবস্থাও দীর্ঘসূত্রিতায় চলে যাচ্ছে। সারাদেশে নারী নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোর পরিসংখ্যান চালিয়ে সেসব দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মহিলা পরিষদ একটি বেসরকারি সংগঠন। আমাদের নানা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও আমরা নারীদের পাশে দাড়াই। নির্যাতনের শিকার নারীদের ন্যায় বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তার সাথে থাকি। শিশুদের রক্ষা করা যেমন প্রশাসনের তেমনি আমাদের নগরবাসীরও দায়িত্ব। আমরা অন্ধকার, অনাচার মুক্ত সমাজব্যবস্থা চাই।

নারায়ণগঞ্জে মহিলা পরিষদের গত এক বছরের কর্মতালিকা তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। সর্বশেষ নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ