বুধবার ০১ এপ্রিল, ২০২০

নারায়ণগঞ্জে ‘হুজুগে’ বেড়েছে ভোগ্যপণ্যের দাম

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২০, ২২:৩৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ও গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে এবং দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকার জন্য অনেকেই বাজারে ছুটছেন নিত্যদিনের খাদ্যপণ্য মজুদ করতে। খাদ্য মজুদের জন্য নগরবাসীর ঝুঁকছেন বেশি বেশি পণ্য কেনার দিকে। ফলে কিছুদিনের ব্যবধানে পণ্য চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। এরই সুযোগ নিচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী বাড়িয়ে দিয়েছেন পণ্যের দাম। উৎপাদন, সরবরাহ ঠিক থাকা সত্ত্বেও গত একসপ্তাহে বৃদ্ধি পেয়েছে চাল, ডাল, আলু, পেয়াজ, খুচরা তেল, লেবু, মাংস, আদা, রসুনের দাম। যার ফলে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। বলছেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কিছু মানুষ ‘হুজুগে’ খাদ্যপণ্য মজুদ করছে কিন্তু এটা করতে গিয়ে আরো বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে। এই ‘হুজুগে’ মানুষদের জন্য সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি হয়েগেছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে নগরীর প্রধান পাইকারি ও খুচরা বাজার দিগুবাবুর বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পুরো বাজারজুড়ে সবজিসহ সকল খাদ্যপণ্যের বাহার। পর্যাপ্ত পরিমাণে মিলছে সবকিছু। তবু অধিকাংশ পণ্যের দাম চড়া। জানা যায়, গত তিনদিনের ব্যাবধানে প্রতি বস্তা চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। একই সঙ্গে লেবু, আলু ও পেঁয়াজের দামে এসেছে বড় ব্যবধান। তবে স্বাভাবিক রয়েছে সবজির দাম।

বাজারের সর্বশেষ তথ্যমতে, লতা চাল ৩৮ টাকা কেজি এবং ১ হাজার ৯০০ টাকা বস্তা (৫০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে। তিনদিন আগেও যা ১ হাজার ৭৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মিনিকেট চাল ৫২ টাকা কেজি এবং ২ হাজার ৬০০ টাকা বস্তা (৫০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে। তিনদিন আগেও যা ২ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। নাজিরশাইল চাল ২ হাজার ৬০০ টাকা বস্তা (২৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে। যা তিনদিন আগেও ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এবং বাসমতি চাল ৬০ টাকা কেজি এবং ১ হাজার ৬০০ টাকা বস্তা (২৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে তিনদিন আগেও যা প্রতি পাল্লা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকায়। সে পেঁয়াজ আজ ৩২০ টাকা পাল্লায় বিক্রি হচ্ছে। তিনদিন আগে প্রতি পাল্লা আলু বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায় আজ সে আলু বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। আদা ১৪০ টাকা কেজি, রসুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, খুচরা সয়াবিন তেলের দাম ৯৫ টাকা।

অন্যদিকে কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে মাংসের দাম। ব্রয়লার মুরগী ১২০ টাকা কেজি, লেয়ার মুরগী ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, ফেরন মুরগী ২২০ টাকা কেজি, কক মুরগী ২৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে দাম বেড়েছে গরুর মাংসেরও। প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মুরগী বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, ‘সবকিছুই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সে তুলনায় মাংসের দাম সীমিতই আছে। ৫ থেকে ১০ টাকাই বৃদ্ধি পেয়েছে।’

নিত্যপণ্যে এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির তেমন কোনো কারণ বলতে পারেননি বিক্রেতা খোরশেদ মন্ডল। তিনি বলেন, ‘চাহিদা বাড়ছে তাই দামও বাড়ছে। দাম তো আর আমরা বাড়াই নাই। আমারা কিনতে গিয়াই দেখি দাম বেশি। তাই বেশি দিয়াই বেঁচতাছি। তবে বিক্রি ভালো হচ্ছে। আগে এক বস্তা পিয়াইজ বেঁচতে সারাদিন লাগতো এখন ১ ঘন্টা লাগে।’

মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে করোনা ভাইরাসকে দুষলেন আরেক বিক্রিতা রমিজ উদ্দিন। বৃদ্ধ এই বিক্রেতা বলেন, ‘দেশে কিসের করোনা আইসে, এর লইগা মানুষ পাগলের মত চাইল, ডাইল কিনতাসে। এগোর লইগাই জিনিসের এত দাম। এত বেশি বেশি কিনলে দাম তো বাড়বোই।’

বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে সোনিয়া মল্লিক বলেন, ‘যেটার দাম জিজ্ঞাস করি সেটার দামই বেশি। এমন অবস্থায় আমরা কি কিনবো। কিছু মানুষ হুজুগে খাদ্যপণ্য মজুদ করছে কিন্তু এটা করতে গিয়ে আরো বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে। এই হুজুগে মানুষদের জন্য সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি হয়ে গেছে। সাধারণ গরিব মানুষ যা একটু খেয়ে পরে বাঁচতো এদের জন্য এখন সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রেতা বলেন, ‘বাজারে সবকিছুই আছে। কোনো কিছুর ঘাটতি নেই। সর্বারহও দেখা যাচ্ছে অনেক। তবু পণ্যের এত দাম। বিক্রেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই মূল্যবৃদ্ধি করেছেন। কেনো প্রশ্ন করলে বলে, নিলে নেন, না নিলে যান। প্রশাসনও এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। বাজারে তাদের কোনো মনিটরিং নেই। ফলে বিক্রেতারা যা ইচ্ছে করছে।’

সব খবর
অর্থনীতি বিভাগের সর্বশেষ