সোমবার ০১ জুন, ২০২০

নারায়ণগঞ্জে লকডাউন করেও জনগণকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না

বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০, ২১:৩০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: লকডাউনের ঘোষণাও ঘরে রাখা যাচ্ছে না নারায়ণগঞ্জবাসীকে। যানচলাচল প্রায় বন্ধ থাকলেও পাড়া-মহল্লাগুলোতে এখনও চলছে আড্ডাবাজি। এমনকি শহরের নিতাইগঞ্জ, ফতুল্লা বাজারসহ বিভিন্ন বাজারেও মানুষের উপস্থিতি করোনা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একদিকে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে না অন্যদিকে পাড়া-মহল্লাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল না থাকাতেই এমনটা হচ্ছে বলে মনে করছে সচেতন মহল। তবে প্রশাসনে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, তারা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে মানুষকে ঘরে রাখার জন্য চেষ্টা করছেন, প্রয়োজনে আরও কঠোর অবস্থান নেবেন তারা।

রাজধানীর পর করোনার সবচেয়ে বড় প্রকোপ এই নারায়ণগঞ্জে। এই জেলায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৬ জন। জেলাটিকে করোনা ক্লাস্টার বলে চিহ্নিত করেছেন দেশের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। করোনার সংক্রমনের এই ধারায় এই মুহুর্তেই লাগাম টানা না গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে শুধু জেলা নয় সারাদেশবাসীকেই।

এমন বিবেচনা মাথায় রেখেই গত মঙ্গলবার রাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন করার সরকারি ঘোষণা দেয়। ঘোষণার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলার অলিগলিতে মাইকিং করা হয়। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মানুষকে যার যার ঘরে থাকার আহবান জানানো হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে মানুষের উপস্থিতি তেমন একটা দেখা যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে শহরে মানুষের উপস্থিতি বেড়ে যায়। তবে সকলকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখিন হতে হয়। তবে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা যায় শহরের নিতাইগঞ্জ বাজার, ফতুল্লা বাজারসহ কয়েকটি স্থানে। সেখানে অন্যান্য দিনের মতোই মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। তাছাড়া অলিগলিগুলোতে বিনা কারণে মানুষের উপস্থিতি ও আড্ডাবাজি থামানো যায়নি।

কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, কেউ সারাক্ষন ঘরে থেকে বিরক্ত হয়ে গেছেন তাই একটু বাইরে বেরিয়েছেন। কেউ আবার অজুহাত তৈরি করে রেখেছেন। করোনায় নারায়ণগঞ্জের বর্তমান পরিস্থিতি উপলব্ধিই করতে পারছেন না তারা। অনেকেই লকডাউনের বিষয়টি পুরোপুরিভাবে মানছেন না এবং মানুষের মধ্যে পূর্ণ সচেতনা সৃষ্টি হয় নি। নানা অজুহাতে বাইরে বের হচ্ছেন অনেকেই।

তবে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, মানুষের চলাফেরা রোধ করতে জনপ্রতিনিধিসহ জেলা প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছেন। কেউ লকডাউন ভঙ্গ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ