শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২০

নারায়ণগঞ্জে তিন ‘রেড জোনে’ লকডাউন মানা হচ্ছে না

মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২০, ১৯:৩৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

সৌরভ হোসেন সিয়াম (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের এপিসেন্টার (কেন্দ্রস্থল) নারায়ণগঞ্জে লকডাউনের সেই পুরনো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সংক্রমন ঠেকাতে তিনটি আবাসিক এলাকায় ঘোষিত লকডাউন মানছে না কেউ। এলাকাগুলোর প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও থেমে নেই মানুষের অবাধ যাতায়াত। ফলে প্রশাসনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। এলাকা তিনটিতে কড়াকড়িভাবে লকডাউন কার্যকর করা গেলে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করার উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় প্রশাসনের।

দেশের প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় নারায়ণগঞ্জে। এরপর দ্রুত সংক্রমিত হয়ে পড়ে জেলাটি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত ৭ এপ্রিল রাতে সরকারিভাবে পুরো জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তবে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে গত ১০ মে দোকানপাট খুলে দেওয়ার পর লকডাউনে শিথিলতা আসে। এরপর গত ৩১ মে গণপরিবহন চালু ও সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর লকডাউন অকার্যকর হয়ে পড়ে। এদিকে সংক্রমন থেমে নেই। প্রতিদিন গড়ে একশো’রও বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে। গত চব্বিশ ঘন্টায় ১১১ জনের দেহে এই ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে গত রোববার (৮ জুন) সকালে জেলা প্রশাসক ও করোনা কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন তার কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা এবং অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের তিনটি এলাকাকে ‘রেড জোন’ উল্লেখ করে লকডাউন কার্যকরের ঘোষণা দেন। এলাকাগুলো হচ্ছে- ফতুল্লার ভূইগড়ের রূপায়ন সিটি, সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমলাপাড়া ও জামতলার একাংশ।

মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরেজমিনে এলাকাগুলোতে দেখা যায়, স্থানীয়রা লকডাউন মানছেন না। নানা অজুহাতে লকডাউন ভেঙ্গে বের হচ্ছেন তারা। ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় ঘোরাফেরা করছেন। আমলাপাড়া এলাকার প্রবেশপথগুলোতে পুলিশের অবস্থান থাকলেও মানুষের চলাচলে বাধা দিচ্ছেন না তারা। লকডাউন করা জামতলার হাজী আব্দুল হামিদ সড়কটিতে কোন পুলিশ সদস্য পাওয়া যায়নি। একই চিত্র ছিল ভূইগড়ের রূপায়ন টাউনের প্রবেশপথেও। এদিকে জেলা প্রশাসন ঘরে ঘরে ভ্যানে করে বাজার পৌঁছে দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিল সেটি কোথাও পালিত হয়নি।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমলাপাড়ার আরকে গুপ্ত রোডের প্রবেশপথে সদর মডেল থানা পুলিশের দুইজন সদস্যকে একটি বেঞ্চ বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের সামনে দিয়েই লোকজনের অবাধ যাতায়াত চলছে। একই চিত্র এই এলাকার কেসি নাগ সড়কের প্রবেশপথেও। বাঁশ দিয়ে বন্ধ করা সড়ক দিয়েই নুয়ে ঢুকলেন জসিম উদ্দিন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংকে টাকা জমা দিতে বের হয়েছিলেন। এখন বাসায় যাচ্ছেন।

এই পয়েন্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য রাসেল বলেন, নানা অজুহাত দিয়ে লোকজন বের হচ্ছেন। কোনভাবেই তাদের থামানো যাচ্ছে না। এক পারি লাঠি দিয়ে পেটাতে। মানুষ লকডাউন জিনিসটাই তো বোঝে না।

কথা হয় আমলাপাড়া এলাকার কেবি সাহা রোডের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন হারুনের সাথে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কনজারভেন্সি সুপারভাইজার মোশারফ বলেন, এই এলাকায় কেউ লকডাউন মানছে না। মানুষ ঢুকছে, বের হচ্ছে। পুলিশ তো শুধু বসে থাকে। তাছাড়া ভ্রাম্যমান যে বাজারের কথা প্রশাসন বলেছিল সেটা গত দুইদিনে আমরা দেখিনি।

লকডাউন ঘোষিত এলাকাগুলোর প্রবেশ ও বাহির পয়েন্টে চব্বিশ ঘন্টা পুলিশের অবস্থান থাকার কথা থাকলেও জামতলার হাজী আব্দুল হামিদ সড়কটিতে কোন পুলিশ সদস্যকে পাওয়া যায়নি। দারোয়ান শাহ্জালাল বলেন, রাতেও ছিল পুলিশ। কিন্তু সকাল থেকে তারা নাই। এই এলাকার কয়েকজন করোনা রোগী ছিল কিন্তু তারা তো সুস্থ হইয়া গেছে। এইখানে হুদাই লকডাউন দিছে। এইডার চেয়ে পাশের ধোপাপট্টি এলাকায় রোগী ও মৃত্যু বেশি ছিল।

ভূইগড়ের রূপায়ন টাউনের প্রবেশমুখে কথা হয় দারোয়ান ওমর আলীর সাথে। তিনি বলেন, সবই আগের মতো চলছে। বাইরের কেউ ভেতরে ঢুকতে না পারলেও ভেতরের সবাই নানা কাজে বাইরে বের হচ্ছে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ