শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২০

নারায়ণগঞ্জে করোনা দুর্যোগ উত্তরণ সমন্বয় কমিটি গঠন

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০, ১৯:২৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে ‘করোনা দুর্যোগ উত্তরণ সমন্বয় কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বিকে আহ্ববায়ক করে ৭৫ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে শহরের দুই নম্বর রেল গেইট এলাকায় জেলা বাসদ কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে এ সময় বর্তমান করোনা দুর্যোগে নারায়ণগঞ্জের বাস্তবতা ও অব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় অনেকেই ভিডিও কনফারেন্স ও টেলিফোনের মাধ্যমেও যুক্ত হন।

নবগঠিত করোনা দুর্যোগ উত্তরণ সমন্বয় কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হচ্ছেন- অ্যাড. এবি সিদ্দিক, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, অ্যাড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম, রথীন চক্রবর্তী, অসিত বরণ বিশ্বাস, আবদুস সালাম, ভবানী শংকর রায়, হাফিজুল ইসলাম, নিখিল দাস, অ্যাড. আওলাদ হোসেন, তরিকুল সুজন, হিমাংশু সাহা, মাহমুদ হোসেন, দুলাল সাহা ও জাহিদুল হক দীপু। সদস্য করা হয়েছে হালিম আজাদ, অ্যাড. মন্টু ঘোষ, আবদুর রহমান, নাসির উদ্দিন মন্টু, লক্ষ্মী চক্রবর্তী, আবু নাঈম খান বিপ্লব, শিবনাথ চক্রবর্তী, অ্যাড. জিয়াউল ইসলাম কাজল, অ্যাড. প্রদীপ ঘোষ বাবু, ধীমান সাহা জুয়েল, জহিরুল ইসলাম, শাহেদ কায়েস, রীনা আহমেদ, শাহানারা বেগম, পপি রানী সরকার, রাশিদা আক্তার, অমল আকাশ, বিমল কান্তি দাস, জাকির হোসেন, অঞ্জন দাস, শাহীন মাহমুদ, সেলিম মাহমুদ, কৃতি কনিকা, দীনা তাজরিন, ফারুক মহসিন প্রমুখ।

সভায় বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাড. এবি সিদ্দিক, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাড. মন্টু ঘোষ, জেলা সংগঠক বিমল কান্তি দাস, বাসদ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, সংগঠক আবু নাঈম খান বিপ্লব, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস, ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা সম্পাদক হিমাংশু সাহা, উদীচী জেলা সভাপতি জাহিদুল হক দীপু, সামাজিক সংগঠন সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল প্রমুখ।

সভায় নিম্ন লিখিত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

১। নারায়ণগঞ্জে দ্রুত করোনা পরীক্ষাগার স্থাপন করা।
২। নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন নূন্যতম ৫০০ নমুনা পরীক্ষা করা।
৩। নারায়ণগঞ্জ জেলায় করোনা চিকিৎসার জন্য প্রতি উপজেলায় ১০০ শয্যা সহ জেলায় চিকিৎসা সেবা ১০০০ শয্যায় উন্নিত করা।
৪। ডাক্তার, নার্সসহ চিকিৎসা কাজে নিয়োজিতদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আপতকালীন সংকট উত্তরণের জন্য জেলায় অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের জরুরি ভিত্তিতে কাজে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৫। জেলায় দ্রুত ‘আইসিইউ’ চালু করা এবং অন্তত ১০০ ভেন্টিলেটর মজুদ রাখা।
৬। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে (ভোটার তালিকা নয়) নারায়ণগঞ্জে নিম্নবিত্ত পরিবারসমূহের তালিকা করে তাদেরকে দ্রুত খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের যে তালিকা রয়েছে তাকে সময়োপযোগী করা।
৭। জাতীয় পরিচয় পত্রের ভিত্তিতে মধ্যবিত্তদের তালিকা করে রেশনিং এর মাধ্যমে তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৮। ১০ টাকা কেজিতে চাল ও স্বল্পমূল্যে খাদ্য সামগ্রী নারায়ণগঞ্জ শহর ও উপজেলাসমূহে প্রতিদিন নিয়ম করে বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা।
৯। গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত না করে গার্মেন্টস খুলে দেয়ার মতো আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা। গার্মেন্টস শ্রমিকদের চিকিৎসা ফ্যাক্টরীর মালিকদেরকেই নিশ্চিত করা। শ্রমিকদের জন্য মালিক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনে পৃথক চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা। সরকারি নির্দেশনা গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ মানছে কিনা, তা যথাযথ ভাবে তদারকি করা।
১০। অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের জন্য ত্রাণ বিতরণে সরকারি কমিটিতে শ্রমিক ফেডারেশনের নেত্ববৃন্দকে যুক্ত করা।
১১। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের নিয়মিত তদারকী অব্যাহত রাখা।
১২। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে মশক-নিধন কার্যক্রম বৃদ্ধি করা এবং প্রতিদিন নিয়ম করে তা অব্যাহত রাখা।
১৩। বিভিন্ন স্থানে করোনা আক্রান্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ কর্মী ও সাধারণ মানুষ যে ভাবে সামাজিক প্রতিরোধের শিকার হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের শক্ত অবস্থান গ্রহণ করা।

সব খবর
সংগঠন সংবাদ বিভাগের সর্বশেষ