সোমবার ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

উত্তর-দক্ষিন বিরোধে ক্ষতিগ্রস্থ নারায়ণগঞ্জ যুবলীগ

সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: দীর্ঘদিনেও নারায়ণগঞ্জে যুবলীগের রাজনীতির বিভাজন শেষ হচ্ছে না। এমনকি বিভাজন কাটিয়ে ওঠার কোন উদ্যোগও নেই নেতাকর্মীদের মধ্যে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচিতেও বিভক্ত নেতাকর্মীরা। নেতায় নেতায় দ্বন্দ ও গ্রুপিংয়ের কারণে দলীয় কর্মসূচিগুলোও পালন হচ্ছে পৃথকভাবে। শহরের উত্তর ও দক্ষিন মেরু কেন্দ্রীক হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী যুব এই সংগঠনটি। দক্ষিনের গ্রুপটি সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঘিরে আর উত্তরের গ্রুপটি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে ঘিরে দলীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে দুই ধারায় বিভক্ত জেলা ও মহানগর যুবলীগ।

২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ছিলেন এমপি শামীম ওসমান ও তার প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী ছিলেন বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ওই নির্বাচনে জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির ও মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল ছিলেন আইভীর পক্ষে। আর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল ও মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু ছিলেন শামীম ওসমানের পক্ষে। মূলত এই নির্বাচনের পর থেকেই জেলা ও মহানগর যুবলীগের শীর্ষ নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত। উত্তর-দক্ষিন মেরুর বিভাজনে তারা পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে।

একই ধারাবাহিকতায় দলটির ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীও তারা পালন করেছে পৃথকভাবে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিন সকালে দুই নম্বর রেল গেইটে অবস্থিত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জেলা সভাপতি আব্দুল কাদির ও মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আলী রেজা উজ্জলের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক, আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে একই স্থানে সকালে মহানগর যুব লীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে শহরে বর্নাঢ্য র‌্যালি শেষে দুই নম্বর রেল গেইটের দলীয় কার্যালয়ে কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেন শামীম ওসমান সমর্থক নেতাকর্মীরা। তার এই আয়োজনে সঙ্গী ছিলেন মহানগর যুবলীগের সহ সভাপতি আমিনুর রহমান শাহীন, সদস্য গোলাম শরীফ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এমএ মান্নান, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লবসহ শামীম ওসমান সমর্থক নেতাকর্মী ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আয়োজনে ছিলেন না জেলা আওয়ামীলীগ ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল। জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ বাদলের সাথে সমন্বয়হীনতা ও বিরোধ থাকার কারণে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কোন কর্মসূচি ছিল না জেলা যুবলীগের।

গত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে (২০০৬ সালে) রাজনৈতিক ভাবে কোনঠাসা থাকা অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন আব্দুল কাদির ও সাধারণ সম্পাদক হন অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল।

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটি। জেলা যুবলীগের অনেক নেতাই বর্তমানে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পাওয়ায় অনেকটা নেতা শূণ্য হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী এই যুব সংগঠনটি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শীর্ষ নেতাদের উত্তর মেরু ও দক্ষিন মেরু কেন্দ্রীক রাজনীতি।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, নিজেদের মধ্যে বিভাজনের কারণে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী এই যুব সংগঠনটি এখন কাগুজে বাঘে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচিতে ছিল না বড় আয়োজন। দেখা মেলেনি সাবেক ও বর্তমান যুবলীগের অনেক নেতাদের। অনেকটায় নীরবেই পালন হল সরকারি দলের এই যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।

১/১১ এর সময় জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, সাধারণ সম্পাদক শহীদ বাদল, শাহ্ নিজাম, জাকিরুল আলম হেলালের ভূমিকা ছিল উল্লেখ করার মতই। তাদের সঙ্গে যোগ হয় শহর বর্তমানের মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু ও সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী রেজা উজ্জল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধ শুরু হয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দিয়ে। এতে দলীয় বিরোধের কারণে প্রার্থী হয় আব্দুল কাদির ও আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল। দু’জনই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আব্দুল কাদির ও শহীদ মোহাম্মদ বাদল দুজনই ছিলেন শামীম ওসমানের বলয়ে। উপজেলা পরিষদের বিরোধের পরেও শামীম ওসমানের সঙ্গে দেখা গেছে দুজনকে। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ছিলেন এমপি শামীম ওসমান ও প্রার্থী ছিলেন বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী। ওই নির্বাচনে আব্দুল কাদির ছিলেন আইভীর পক্ষে আবু হাসনাত শহীদ বাদল ছিলেন শামীম ওসমানের পক্ষে। এর রেশ ধরেই জেলা ও শহর যুবলীগের শীর্ষ নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত। উত্তর-দক্ষিণ মেরুর বিভাজনে তারা পৃথক ভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে থাকে। যা বর্তমানেও চলছে।

এদিকে এক সময়ের রাজপথে থাকা যুবলীগ নেতা শাহ্ নিজাম ও জাকিরুল আলম হেলাল যথাক্রমে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা এখন আর যুবলীগের সাথে সম্পৃক্ত নন। অন্যদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ নতুন কমিটি না হওয়াতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দও যুবলীগের কমিটিতে আসতে পারছেন না। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, সাফায়েত আলম সানিসহ অনেক নেতাই দীর্ঘদিন যাবৎ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবেই পরিচিত হয়ে আসছেন। এসব কারণে যুবলীগের নেতাদের মধ্যে গুটিকয়েক নেতা ছাড়া কাউকেই পাওয়া যায় না। তাদের মধ্যেও কোন্দল থাকার কারণে নারায়ণগঞ্জে অনেকটা নেতৃত্ব শূণ্য যুবলীগ। তবে সামনে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আশার আলো দেখছেন যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের সাথে সাথে নারায়ণগঞ্জে সম্মেলন করে নতুন কমিটির দাবি জানিয়েছেন তারা।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ