সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নারায়ণগঞ্জের তিনটি এলাকা 'রেড জোন' ঘোষণা

রবিবার, ৭ জুন ২০২০, ২০:১৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: করোনাভাইরাস সংক্রমনের ‘রেড জোন’ চিহ্নিত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলার তিনটি এলাকা লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। রোববার (৭ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন। লকডাউন ঘোষিত এলাকাগুলো হলো- নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আমলাপাড়া, জামতলার একাংশ এবং ফতুল্লার ভূইগড়ের রূপায়ন আবাসিক এলাকা (রূপায়ন টাউন)। আবাসিক এলাকা তিনটিতে প্রায় তিন হাজার পরিবারের বসবাস বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সকালে জেলা প্রশাসক ও করোনা কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন তার কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘রূপায়ন সিটি, আমলাপাড়া ও জামতলা এলাকা লকডাউনের আওতায় থাকবে। এলাকাগুলো থেকে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনও ব্যক্তি বাইরে আসতে পারবেন না এবং বাইরে থেকে কোনও ব্যক্তি ওই এলাকায় যেতে পারবেন না।’

বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, জামতলার আব্দুল হামিদ সড়ক, আমলাপাড়া, রূপায়ন আবাসিক এলাকার প্রত্যেক প্রবেশ ও বাহিরের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পয়েন্টগুলোতে রয়েছে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান। বন্ধ রয়েছে সকল যান চলাচল ও দোকানপাট। এলাকা লকডাইনের পাশপাশি উক্ত এলাকায় সকল মসজিদের প্রত্যেকটিতে ৫ জনের বেশি নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

এলাকাবাসী জানান, দুপুরে হঠাৎ এলাকার মধ্যে পুলিশ ও আর্মি সদস্যদের প্রবেশ ঘটে। এ সময় তারা জানান, এলাকাটি লকডাউন করা হয়েছে। তারা এলাকার সকল প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় এবং সকলকে নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করতে বলেন। একই সঙ্গে পূর্বের মত প্রত্যেক মসজিদে ৫ জনের বেশি নামাজ পড়াতে মানা করেন তারা।

আমলাপাড়ার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, এই এলাকায় রোগী নাকি বেশি তাই আবারও লকডাউন করা হয়েছে। আছরের নামাজ পড়ার পর মসজিদে না আসার বিষয়ে বলা হয়েছে। ঘর হতে বের হতেও নিষেধ করা হয়েছে। আইন যেহেতু করেছে মানতে তো হবেই।

লকডাউন কার্যকরের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী বলেন, জেলার কিছু কিছু এলাকায় সংক্রমন অনেক বেশি। সে অনুযায়ী পাইলট প্রজেক্টের অংশ হিসেবে তিনটি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। এলাকাগুলোর প্রবেশ ও বাহিরের পথে চব্বিশ ঘন্টা পুলিশি পাহাড়া থাকবে। এই তিন এলাকায় প্রায় তিন হাজার পরিবারের বসবাস রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, কারো খাবার কিংবা জরুরি প্রয়োজন হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করবেন। সোমবার সকাল থেকে এই এলাকাগুলোতে কেউ প্রবেশ কিংবা বের হতে পারবেন না। সফলতার উপর ভিত্তি করে জেলার অন্যান্য এলাকাগুলোতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কর্মজীবীদের বিষয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘরে বসেই অফিস করতে হবে। কাউকে বের হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে অন্য কোথাও স্থানান্তর হতে হবে ওই কর্মজীবীদের।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ও করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনটি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। আমরা ম্যাপিং করছি। ধীরে ধীরে আরও এলাকা লকডাউন হতে পারে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ