মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর, ২০১৯

নারায়ণগঞ্জেও পড়েছে শতভাগ ভোট

বুধবার, ১০ জুলাই ২০১৯, ১৩:৩৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: গত বছর ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সারাদেশের ২১৩টি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে জেলার ৫টি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের একটি কেন্দ্রেও শতভাগ ভোট পড়ার ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার ওয়েবসাইটে ভোটের কেন্দ্রভিত্তিক ফল প্রকাশ করলে এই তথ্য জানা যায়।

তবে প্রার্থীরা বলছেন, শতভাগ ভোট পড়া অস্বাভাবিক। কারণ, ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রবাসী। অনেকে মারা গেছেন। চাকরি সূত্রে অনেকে এলাকায় থাকেন না। তাছাড়া অনেকেই অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে পারেন না। কেউ কেউ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের কারণে ভোট দিতে পারেন না। তাই শতভাগ ভোট পড়া অসম্ভব বিষয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের রূপগঞ্জে মোট কেন্দ্র ছিল ১২৭। শতভাগ ভোট পড়া কেন্দ্র হল কেন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল ২৪৭৯। ৮ জন প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। নৌকা প্রতীকে গোলাম দস্তগীর গাজী পান ২০২৮ ভোট; নিকটতম প্রতিদ্বন্দি ধানের শীষের কাজী মনিরুজ্জামান পান ১১৭ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে হাতপাখা মার্কায় মো. ইমদাদুল্লাহ পান ৩৪ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকে মো. আজম খান ২ ভোট, কাস্তে প্রতীকে মো. মনিরুজ্জামান চন্দন পান ২ ভোট, গোলাপ ফুল মার্কার মাহফুজুর রহমান পান ১ ভোট এবং সিংহ মার্কায় হাবিবুর রহমান কোন ভোট পাননি। এই কেন্দ্রে ভোট বাতিল হয়েছে ২৯৫টি। বৈধ ২১৮৪ আর বাতিল ২৯৫ মিলিয়ে মোট ভোট পড়েছে ২৪৭৯; যা মোট ভোটারের সমান।

এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. ইমদাদুল্লাহ বলেন, ‘রাতের আঁধারে ভোট দেওয়ার কারণে হিসাব ছিল না। যেমনে মনে চাইছে দিয়ে দিছে ভোট। কোন কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়া অস্বাভাবিক। আর এই নির্বাচনে তো প্রার্থীরা ভোট দিতেই পারে নাই। আমি ভোটের দিন নিজে কেন্দ্রগুলোতে পরিদর্শনের জন্য গিয়ে ভোটের পরিস্থিতি যা দেখেছি তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই শতভাগ ভোট পড়ার ঘটনা প্রমাণ করছে যে, আগের রাতেই ভোট দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিনে ভোট জালিয়াতি হয়েছে বলে যে অভিযোগ ছিল তারই প্রমাণ মিলেছে।’

কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান চন্দন বলেন, ‘শতভাগ ভোট পড়া অস্বাভাবিক। যত সুষ্ঠ নির্বাচনই হোক না কেন শতভাগ ভোট কখনোই পড়ে না এবং পড়েনি। কারণ, ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রবাসী। অনেকে মারা গেছেন। কেউ কেউ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের কারণে ভোট দিতে পারেন না। তাই শতভাগ ভোট পড়া অসম্ভব বিষয়।’

শতভাগ ভোটার উপস্থিতি সম্পর্কে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, ‘এটি একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। কোনো নির্বাচনেই অতীতে কোনো কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে বলে আমার জানা নেই। নির্বাচন তো হওয়ার কথা ছিল ত্রিশ তারিখ তা হয়ে গেছে আগের রাতেই। এবং আমার ভোটটাও আমি দিতে পারি নাই। আমি নির্বাচনের দিন সাড়ে এগারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত আমার নির্বাচন কেন্দ্রে দাড়িয়ে ছিলাম এবং আমি ভোট দিতে পারি নাই। সুতরাং নির্বাচন যে সুষ্ঠ হয় নাই এই ব্যাপারে আমি কনফার্ম।’

তবে এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মতিয়ুর রহমানের মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ