বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

নারায়ণগঞ্জেও ছেলে ধরা গুজব (ভিডিওসহ)

শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯, ২২:১৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ নগরীসহ জেলার আশপাশের এলাকায় তিন-চার দিন ধরে ‘ছেলে ধরা’ ও ‘শিশুদের গলা কেটে’ নেওয়ার গুজব ছড়াচ্ছে। গুজবে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গুজবের কারণে লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন দুই ব্যক্তি। বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মীরাও।

 

গত ১০ জুলাই নগরীর দুই নম্বর রেল গেইট এলাকায় নগরীর ব্যস্ততম সড়কে হঠাৎ দেখা যায়, তিন শিশুকে বকাঝকা করে রিকশায় নিয়ে যাচ্ছেন এক যুবক। বাচ্চাদের কান্না দেখে সন্দেহ হয় সাধারণ জনগণের। রিকশা থামিয়ে ভিড় জমায় আশেপাশের লোকজন। এক পর্যায়ে শিশু অপহরণকারী ভেবে যুবককে গণপিটুনি দেয় তারা। পরে উত্তেজিত জনতা ওই যুবক ও শিশুদের পার্শ্ববর্তী পুলিশ বক্সে নিয়ে গেলে জানা যায় আসল ঘটনা।

সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ওই তিন শিশু বাসায় না জানিয়ে শহরের ৫ নম্বর ঘাট এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে আসে। তখন এক শিশুর অভিভাবক তদের খুঁজে বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় না বলে আসার কারণে তাদেরকে বকাঝকা করে বাবা। তাই বাচ্চাদের কান্না দেখে এগিয়ে আসে আশেপাশের জনগণ। পরবর্তীতে অপহরনকারী ভেবে ধরিয়ে দেয় পুলিশের কাছে। সত্যতা যাচাইয়ের পর তাকে আমরা সসম্মানে ছেড়ে দেই।

এই গুজবের কারণেই সোনারগাঁয়ে ছেলে ধরা সন্দেহে মারধরের শিকার হন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে সোনারগাঁয়ের শম্ভুপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সোনারগাঁ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ জানান, দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে জনৈক রুবেলের বাড়ির সামনে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী (৫৫) এসে দাড়ায়। তখন রুবেলের স্ত্রী খালেদা বেগম ওই নারীর বাড়ি কোথায় জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, রংপুর। পরে খালেদা তাকে পাগল বলে বাড়ির সামনে থেকে চলে যেতে বললে সে চলে যায়।

এসআই আজাদ বলেন, কিছুক্ষণ পরে ওই এলাকার অতি উৎসাহী লোকজন ওই নারীকে ‘ছেলে ধরা’ গুজব রটিয়ে রোহিঙ্গা নারী আখ্যায়িত করে গণধোলাই দেয় এবং সমগ্র শম্ভুপুরা এলাকায় গুজব রটায় যে, ছেলে ধরা রোহিঙ্গা এক নারীকে আটক করা হয়েছে। উক্ত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানকালে জানা যায় যে, যাকে আটক করা হয়েছে সে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। তার স্থানীয় বাড়ি রংপুর। যে ৩ বছরের শিশু ছেলে সোহানকে অপহরণ চেষ্টার অপবাদ দেওয়া হয়েছিল সেই শিশুর মা বলেন, ওই নারী তার ছেলেকে দেখেও নাই, অপহরণ তো পরের কথা। মিথ্যা ও বিভ্রান্তকর তথ্য রটিয়ে একজন অসহায় মানসিক প্রতিবন্ধীকে ছেলে ধরা ও রোহিঙ্গা নারী অপবাদ দিয়ে গণধোলাই দেওয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও কষ্টদায়ক।

এদিকে এই গুজবের কারণে গণমাধ্যমকর্মীরাও পড়েছেন বিপাকে। বৃহস্পতিবার জানা যায়, ফতুল্লার পাগলা বাজার এলাকায় তিনটি গলা কাঁটা লাশ পাওয়া গেছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এমনকি থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা জানান, এমন কোন সংবাদ থানায় নেই, পুরোটাই ‘গুজব’। একই দিন শহরের বাপ্পী চত্বর এলাকায় দেহবিহীন দুইটি মাথা পাওয়া গেছে বলেও ‘গুজব’ ছড়ানো হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহে নগরের বিভিন্ন এলাকায় গুজব ছড়ায়, একটি চক্র শিশুদের মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নগরের বিদ্যালয়, লোকালয়, সর্বত্রই আলোচনা চলছে। তবে আলোচনায় সবাই জানাচ্ছে, তিনি শুনেছেন অমুক জায়গাতে ওই ঘটনা ঘটেছে। কেউ শিশু পাচার বা মাথা কেটে নেওয়ার ঘটনা নিজের চোখে দেখেননি। শুধু শুনেছেন। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ছড়ানো হচ্ছে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ