শুক্রবার ০৫ মার্চ, ২০২১

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মুকুল!

শনিবার, ২ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হতে সময় আছে এক বছর। মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য কোন প্রার্থীর প্রচারণা দেখা না গেলেও এগিয়ে আছেন বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সর্বস্তরের জনগণের ব্যনারে তাঁর নতুন বছরের শুভেচ্ছা পোস্টার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে বন্দর ও শহর এলাকা। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখেই নগরবাসিকে তার এই শুভেচ্ছা বলে জানিয়েছেন তার একাধিক কর্মী ও ঘনিষ্ঠরা।

দুইবার বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান থাকলেও আতাউর রহমান মুকুলের বাড়ি সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ডের কাবিলের মোড় এলাকায়। সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হওয়ার আগে বিএনপি সরকারের আমলে নিজের চাচাত ভাই সাবেক সাংসদ মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের সমর্থনে কদমরসুল পৌরসভার প্রশাসক ছিলেন তিনি। নিজের বিশাল কর্মীবাহিনী ছাড়া বন্দরের বেশ কয়েকজন বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলরও মুকুলের অনুগত বলে জানা গেছে। তাই বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন তিনি।

টানা তিনবার আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলেও বন্দর উপজেলা নির্বাচনে পরপর দুইবারই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রার্থীর খাতিরে নিজেকে কোরবানি দেয়ার গুঞ্জন ছিল তার বিরুদ্ধে। কারণ আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে অটল ছিলেন মুকুল। কিন্তু বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশীদ নৌকার চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার পরপরই নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন তিনি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বন্দরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকার পরেও দলীয় সিদ্ধান্তের অজুহাত দিয়ে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দুইবারের নির্বাচিত এই চেয়ারম্যান।

আতাউর রহমান মুকুলের এমন সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে বন্দর উপজেলা পরিষদের সামনে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় বিগত সময়ে চেয়ারম্যান ছিলেন আতাউর রহমান মুকুল। তার দলীয় পরিচয় বড় কথা নয় আমি জানি, সে আমার ভাই। সে বন্দরে জাতীয় ইলেকশনের সময় তিনি তার দলের থেকেও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এলাকার উন্নয়নকে। তাই আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। কে কোন দল করি বড় কথা নয়, উন্নয়ন সবাই মিলে করতে হবে।’ এমপি শামীম ওসমানের এই বক্তব্যের পরেই গুঞ্জন উঠে নৌকার জন্য বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুলের নিজেকে বিসর্জন দেয়ার বিষয়টি।

ক্ষমতাসীন দলের সাথে বিএনপি নেতা মুকুলের সখ্যতার গল্প নতুন না। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি দলীয় জোটের ধানের শীষের প্রার্থী এসএম আকরামকে সমর্থন না দিয়ে কাজ করেন মহাজোটের প্রার্থী এমপি সেলিম ওসমানের পক্ষে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণা করতেও দেখা গেছে তাকে। নিজ দলের প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করেছিলেন। যুক্তি দিয়েছিলেন, দল না উন্নয়নের পক্ষে তিনি।

মেয়র প্রার্থিতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আতাউর রহমান মুকুল প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাতে ফেস্টুন ব্যানার কর্মীরা লাগিয়েছে। আর মেয়র পদে নির্বাচনের বিষয়ে তো এখন কিছু বলা যাবে না। মেয়র নির্বাচনের তো দেরি রয়েছে অনেক। তবে দল মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচন করবো। এখনও এক বছর হাতে সময় রয়েছে। দেখা যাক কি হয়।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ