শনিবার ৩০ মে, ২০২০

নারায়ণগঞ্জ কত দূরে?

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২০, ১৬:১১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে করোনা পরীক্ষার জন্য পূর্ণাঙ্গ পিসিআর ল্যাব ও আনুসাঙ্গিক বিষয় নিয়ে লিখেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ আলী রীয়াজ। প্রথম আলো থেকে নিয়ে ঈষৎ সংক্ষিপ্ত করে পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল।

ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের দূরত্ব কত? মানচিত্রের হিসাবে ২৩ কিলোমিটার। সেই নারায়ণগঞ্জেই করোনা পরীক্ষার জন্য পূর্ণাঙ্গ পিসিআর ল্যাব নেই। এটা জানা গেল ১৬ এপ্রিল একজন চিকিৎসকের কাছে। বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ, একই দিনে নারায়ণগঞ্জে আক্রান্ত দুজনকে শনাক্ত করে আইইডিসিআর।

বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ১৮ মার্চ; নারায়ণগঞ্জে প্রথম ব্যক্তি মারা যান ৩০ মার্চ। সেই নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালের চিকিৎসক মো. শামসুদ্দোহা সঞ্জয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভিডিও কনফারেন্সে বললেন, সেখানে পিসিআর ল্যাব নেই। প্রধানমন্ত্রী তাতে বিস্মিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিস্ময়ে কাজ হয়েছে, এখন সেখানে পিসিআর ল্যাব স্থাপন হবে বলে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ যে হট স্পট হয়ে উঠেছে, তা তো আগেই জানা গিয়েছিল। দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জকে চিহ্নিত করেছিল আইইডিসিআর। কিন্তু সেখানে কোনো পিসিআর ল্যাব নেই, সেটা কি কারও জানা ছিল না? ৩০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছিলেন, সেখানে ল্যাব স্থাপন করা হোক। ৫ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি এলাকা জরুরি ভিত্তিতে লকডাউন করে কারফিউ জারি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তখন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেছিলেন, ‘পরিস্থিতি অবশ্যই খারাপ।’ শামীম ওসমান একসময় জোর গলায় বলেছিলেন যে তাঁর ‘দৃঢ় বিশ্বাস’, বাংলাদেশের ওপরে ‘করোনার ধাক্কা আসবে না’। কারণ, কোনো দেশের ‘রাষ্ট্রনায়ক যদি আল্লাহওয়ালা হয়, তবে সেই দেশের ওপরে আল্লাহর রহমত থাকে’। সেই শামীম ওসমান ৯ এপ্রিল বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এমন অবস্থায় ঢাকায় গিয়ে করোনার টেস্ট বা নমুনা পাঠিয়ে অপেক্ষা করার সময় নেই। এ ছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করলেও পরীক্ষার অভাবে তা শনাক্ত করে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।’ তারপরও সেখানে যে একটি ল্যাব নেই, সেই খবর কেউ জানেন না! যাঁরা এই দায়িত্বে আছেন, তাঁরাও জানেন না! যাঁরা ‘সব প্রস্তুতি আছে’ বলে জনগণকে ‘আশ্বস্ত’ করেছেন, তাঁরাও জানেন না।

শুধু যে নমুনা পরীক্ষা বা চিকিৎসা নিয়েই কানে তুলা দেওয়া হয়েছে, তা নয়। সারা দেশের মানুষ যে রুটিরুজির সমস্যায় পড়েছেন, তা মোকাবিলায়ও সমন্বিত পদক্ষেপের অভাব স্পষ্ট। দারিদ্র্যপীড়িত মানুষ যে ক্ষুধা মোচনের জন্য,বেঁচে থাকার জন্য এখন পথে নামতে বাধ্য হচ্ছেন, তা শোনার কেউ আছেন কি না, সেটাই এখন প্রশ্ন। সরকার কারও কথা শোনার তাগিদ বোধ করছে না। এই সংকট ভয়াবহ জাতীয় সংকট, কিন্তু ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের মধ্যে এই বোধ আছে বলে মনে হয় না। সংকট কেবল প্রস্তুতির অভাব নয়, করোনাভাইরাসের বিস্তার নয়, শুনতে না চাওয়া, শুনতে না পাওয়াও এখন একটি বড় সংকট।

আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো

সব খবর
মতামত বিভাগের সর্বশেষ