সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

নারায়ণগঞ্জে শিথিল হতে পারে লকডাউন

মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২০, ২১:২৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: করোনার প্রাদুর্ভাবের কারনে নারায়ণগঞ্জে প্রায় মাসব্যাপী সরকারিভাবে ঘোষিত লকডাউন চলছে। এদিকে আগামী ১০ মে থেকে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্তে নারায়ণগঞ্জে শিথিল হতে পারে লকডাউন। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেনি স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার (৬ মে) জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় এ বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা।

করোনার এপিসেন্টার চিহ্নিত হওয়াতে গত ৮ এপ্রিল থেকে জেলাটি সরকারিভাবে লকডাউন। তবে কার্যত লকডাউন ছিল না নারায়ণগঞ্জে। শুরু থেকেই শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি থাকায় যানবাহন ও জনসাধারণের উপস্থিতি ছিল কম। বিপরীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল না থাকায় শহরতলীতে ছিল জনসমাগম। যার ফলে কমানো যায়নি করোনার সংক্রমন। প্রতিনিয়ত এই সংক্রমন বেড়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে কোভিড-১৯ পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১০৭৩ জন এবং মারা গেছেন ৫১ জন। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শহরের বাসিন্দা।

এরই মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল থেকে চালু নারায়ণগঞ্জের দুই শতাধিক পোশাক কারখানা। পাশাপাশি বেকারি, রি-রোলিং ফ্যাক্টরিও চালু হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক লাখ শ্রমিক কাজ করছে কারখানাগুলোতে। কারখানার ভেতর কথিত স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি থাকলেও যাতায়াত ও খাবার বিরতির সময় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জে ইপিজেডের দুই কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যার ফলে শ্রমিকদের মধ্যেও বাড়ছে করোনা সংক্রমন ভীতি। এদিকে সারাদেশের মতো করোনার এপিসেন্টার নারায়ণগঞ্জেও দোকানপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১০ মে থেকে মার্কেট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মার্কেট খুলে দিলে কার্যত লকডাউন থাকছে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, জেলায় করোনা প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে। আগামীকাল ওই কমিটির সভা আছে। লকডাউন তুলে নেওয়া হবে কিনা জানি না। তবে যেহেতু ১০ মে থেকে দোকানপাট খুলে দেওয়া হচ্ছে সুতরাং মার্কেট খুললে কীভাবে কাজ করতে হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিক কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা বলেন, ‘সরকারিভাবে লকডাউন ঘোষণার আগ থেকেই আমাদের পুলিশ, র‌্যাবসহ সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। মানুষকে ঘরে রাখার চেষ্টা করছি। কিছু দোকানপাট হয়তো খুলতে পারে। আমাদের যে করোনা প্রতিরোধ কমিটি আছে সে কমিটি সভায় বসবে। সেখানে লকডাউন তুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কারন মার্কেট খুলে ফেললে তো সবকিছুই স্বাভাবিক। লকডাউন তো তখন খাটে না। হয়তো অনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে লকডাউনের ঘোষণা আসলেও নারায়ণগঞ্জে ঘটেছে এর ব্যতিক্রম।
এই জেলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) মাধ্যমে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। লকডাউন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকেই আসবে কিনা জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা বলেন, ‘মিটিংয়ে আলোচনা হবে এ বিষয়ে। স্থানীয়ভাবেও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে। আবার লকডাউন শিথিল হলেও তখন কী কী করা যাবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মিটিংয়ে।’

 

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ