শুক্রবার ০৫ জুন, ২০২০

নারায়ণগঞ্জের ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ, বিপদে রোগীরা

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০, ১৫:৫১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে জেলাটিকে করোনা ক্লাস্টার বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাটিকে সরকারিভাবে লকডাউন ঘোষণা করে চিকিৎসাসহ জরুরি পরিসেবা চালু রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শহরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ রোগীরা। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষুব্দ মানুষ। ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের এমন আচরণ অমানবিক বলেও মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।

বৃহস্পতিবার ( ৯ এপ্রিল) শহর ঘুরে দেখা যায়, মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রেস ক্লাব গলির শাখা, সেন্ট্রাল মেডিকেল সার্ভিসেস, সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্রাইম জেনারেল হসপিটালসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে রাখা হয়েছে। একদিকে করোনা নিয়ে মানুষের আতঙ্ক অন্যদিকে এসব বন্ধ থাকাতে সাধারণ রোগীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। সাধারণ রোগের জন্য রক্ত, ইউরিন পরীক্ষা, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাফি করা যাচ্ছে না। তাছাড়া করোনা ছাড়াও অন্য রোগের জন্য ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি হতে পারছেন না তারা।

তবে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের লোকজন বলছেন, বেসরকারি এসব ক্লিনিকে যারা চিকিৎসা দেন তারা বেশিরভাগই ঢাকা কিংবা অন্যান্য জেলা থেকে এসে চিকিৎসা দিতেন। তারা কেউ কেউ করোনা আতঙ্কের কারণে নারায়ণগঞ্জে আসতে চান না আবার অনেকেই যানবাহন সংকটের কারণে এখানে আসতে পারেন না। যার ফলে তারা ক্লিনিকগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে জানা যায়, শহরে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসাপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল এই দু’টি হাসপাতাল রয়েছে। এই দু’টির মধ্যে ৩শ’ শয্যাকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসা শুরু হলে অন্য রোগীর চিকিৎসা বন্ধ থাকবে হাসাপাতালটিতে। যার ফলে রোগীদের চাপ পড়বে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে। এদিকে এই হাসপাতালের একজন চিকিৎসক-নার্সসহ চারজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। যার ফলে গত কয়েকদিন হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার জীবানুমুক্ত করার পর সকল বিভাগের কার্যক্রম চালু হয়েছে। তবে এখনও জরুরি বিভাগের চারজন চিকিৎসক কোয়ারেন্টিনে আছেন। যার ফলে চিকিৎসক সংকট রয়েছে হাসপাতালটিতে। এদিকে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো বন্ধ হওয়ার কারণে আগামীতে চিকিৎসা সেবায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।

নারায়ণগঞ্জের চিটাগাংরোড শিমরাইলে ‘মা’ বেসরকারি হাসপাতালে ঢাকার বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের অন্তত ১৫ জন ডাক্তার নিয়মিত বসতেন। কিন্তু এখন একজনও আসেন না। জরুরি কোনো অপারেশন করতে হলে ডাক্তারদের ফোন করে ডেকে আনতে হচ্ছে। রোগী সম্পর্কে জেনে তার পর ডাক্তার আসছেন। জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের রোগী দেখছেন না। হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ হোসেন বলেন, ১৫-২০ দিন আগে থেকে কোনো ডাক্তার আসছেন না। জরুরি প্রয়োজনে ফোন করলে আসছেন। তবে জ্বর বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের ফোনে ওষুধ দিচ্ছেন। একই এলাকায় ‘সুগন্ধা হাসপাতাল’ নামে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক কবির হোসেন বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২০ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বসতেন। এখন তিন জন বসেন।

নারায়ণগঞ্জের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতেন। সেখানে এখন রোগীশূন্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এখানে ঢাকার প্রায় সব সরকারি হাসপাতালের অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক নিয়মিত রোগী দেখতেন। প্রতিদিন ৩০ জন চিকিৎসা দিতেন। এখন সেখানে পাঁচ-ছয়জন ডাক্তার বসেন।

একই চিত্র শহরের ল্যাবএইড, মেডিনোভা, মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের। এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন স্বাভাবিক সময়ে যে ডাক্তার বসতেন এখন তার ২০ ভাগ ডাক্তারও আসছেন না। শুধু বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নয়, সরকারি হাসপাতালগুলোয়ও ডাক্তারের উপস্থিতি নগণ্য।

বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো খোলা রাখার দাবি জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, আসলে নারায়ণগঞ্জে করোনা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কিন্তু কোন পরিকল্পিত কাজ এখানে হচ্ছে না। এতবার দাবি তোলার পরও একটি পরীক্ষাগার এখানে হচ্ছে না। বিকল্প কোনো স্থান নির্বাচন না করে ৩শ’ শয্যার একটি হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসার জন্য ঠিক করা হলো। ফলে এই হাসপাতালের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলো। বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল সব বন্ধ। এখন এই রোগীরা যাবে কোথায়? ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো চব্বিশ ঘন্টা খোলা রাখার দাবি আমি জানাই।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ