সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯

নাম মাত্র মূল্যে বৈধতা পেলো চাষাঢ়ার সেই অবৈধ হাট

শনিবার, ১০ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৪৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নাম মাত্র মূল্যে বৈধতা পেয়েছে মূল শহরের চাষাঢ়ায় বসা অবৈধ কোরবানির পশুর হাট। দরপত্র আহ্বান ছাড়াই ৬ লাখ টাকা খাস আদায়ের মাধ্যমে হাটটিকে বৈধতা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। তবে হাটটি মূল শহরের মধ্যে হওয়ায় এই হাটে দরপত্র আহ্বান করলে আরো অনেক রাজস্ব আদায়ের সুযোগ ছিল।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কিংবা জেলা প্রশাসন কারোরই কোন অনুমোদন ছিল না। কোন দরপত্রও আহ্বান করা হয়নি কোরবানির এই পশুর হাটটির জন্য। তবুও গত ২ আগস্ট থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় আর্মি মার্কেটে নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস্ ক্লাবের শুটিং সম্পাদক কাজী ইমরুল কায়েস, তার সহযোগী ও ব্যবসায়ী কিছু নেতারা মিলে হাটটি বসান। হাটটি অবৈধ হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি সিটি কর্পোরেশন কিংবা জেলা প্রশাসনেই কেউই। কেবল একটি আবেদনের কাগজের জেরেই চলছিল অবৈধ হাটটি। পরে এ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এক পর্যায় হাটের বৈধতার জন্য চেষ্টা করেন ইমরুল কায়েস। বৈধতা চেয়ে আবেদনও জানান। তবে এই আবেদনের অনুমতি দেওয়া নিয়ে জেলা প্রশাসন ও নাসিকের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। অবশেষে নাম মাত্র খাস আদায়ের মাধ্যমে অবৈধ এই পশুর হাটটির বৈধতা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)।

শনিবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৪টায় নগরীর আর্মি মার্কেটে অবস্থিত হাটটি পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম এহতেশামুল হক। এ সময় সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ৬ লাখ টাকা খাস আদায়ের মধ্য দিয়ে পশুর হাটটির বৈধতা দেয় নাসিক।

এ বিষয়ে এহতেশামুল হক বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে এই হাটটির ইজারা দেওয়ার জন্য সম্মতি চেয়েছিলাম। কিন্তু সে সম্মতি না পাওয়ায় আমাদের আজ আসতে হয়। যেহেতেু হাট বসে গেছে এবং বেপারীরাও কোরবানির পশু নিয়ে চলে এসেছে তাই মানবিক কারণে আমরা তাদের অনুমতি দিয়েছি। আজ হাটের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা খাস আদায় করা হয়েছে।’

এদিকে শনিবার বিকেলে সরেজমিনে হাটের বেপারী ও দায়িত্বরত আনসারদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এই হাটে ইতিমধ্যে সহস্রাধিক গরু বিক্রি হয়েছে। অধিকাংশ গরুই বিক্রি হয়েছে লাখের উপরের দামে। বিক্রির পরও হাটে এখনো সাত শতাধিক পশু রয়েছে হাটে। আরো পশু আসছে বলে জানা গেছে।

এই হাটে হাসিল আদায় করা হচ্ছে ৫ শতাংশ করে। সে হিসেবে গড়ে প্রতি গরুর মূল্য ৭৫ হাজার টাকা ধরলেও ১ হাজার গরুতে ইতিমধ্যে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাসিল তুলেছে হাটের লোকজন। যদিও হাটের কাউন্টারে বসা লোকজন মাত্র ১০০-১৫০ গরু বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করেন।

কিন্তু হাট থেকে গরু কিনে বের হওয়ার সময় ক্রেতাদের হাতে থাকা রসিদে ভিন্ন তথ্য মেলে। দুপুর ২টার দিকে ছিদ্দিকুর রহমান নামে এক ক্রেতার হাতে থাকা রসিদের নম্বরের ঘরে ৬৬৭ লেখা দেখা যায়।

জামালপুর থেকে আসা বেপারী ফিরোজ জানান, আজকেই সারাদিনে ৫শ’ এর থেকে বেশি গরু বিক্রি হইছে। হাট বসার পর থেকে এ পর্যন্ত হাজার পেরিয়েছে বিক্রিত গরুর সংখ্যা।

একই কথা বললেন হাটে আনসারের দায়িত্বে থাকা মো. মজিবুর। তিনি বলেন, শহরের মধ্যে হাট হওয়াতে লোকজনের সমাগম বেশি। হাজার খানেক গরু বিক্রি হয়ে গেছে। এখনো অনেক গরু বাকি আছে। আরো আসবো বলে শুনলাম।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ