শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

না’গঞ্জ বার নির্বাচন: নিরুপায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার

সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ২৩:২০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথমে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশের বিরোধীতা আর এখন ভোটগ্রহণের ভেন্যু নিয়ে বিতর্ক। তবে এসব ছাপিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা বললেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিনিয়র আইনজীবী এড. আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিরুপায়। আমাকে কাজ করতেও দিচ্ছে না আবার পদত্যাগও করতে দিচ্ছে না।’

গত ৯ জানুয়ারি বার্ষিক সাধারণ সভায় আইনজীবীদের হৈচৈ হট্টগোলের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। শুরু থেকেই সিনিয়র আইনজীবী এড. আখতার হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের বিরোধীতা করে আসছিল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ। পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও বারের চারবারের সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্যানেল নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। পরে সাংসদ শামীম ওসমানের মধ্যস্থতায় এই প্যানেল নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন বহাল রেখেছিল বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তবে এবার এই কমিশন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। নির্বাচনে ভোটগ্রহণের ভেন্যু পরিবর্তন করায় বিএনপির আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড. আখতার হোসেন।

বিএনপির আইনজীবীরা বলছেন, নির্বাচন হবে নির্মাণাধীন বার ভবনের নিচতলায়। গত এজিএমে এটাই বলা হয়েছিল। এজিএমেই এটা পাশও হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার কথা বলে সেই ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছে। ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টি মানছেন না তারা। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির আইনজীবীরা।

এ বিষয়ে বিএনপি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এড. সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, ‘এভাবে নির্বাচন পরিচালনা হয় না। একের পর এক বিতর্ক তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কোনোমতেই সুষ্ঠু হবে না।’

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড. আখতার হোসেন বলছেন, তাকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তার নাম ঘোষণার আগে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি। তিনি কমিশনে থাকতে না চাইলেও তাকে জোর করে রাখা হচ্ছে। পদত্যাগও করতে দেওয়া হচ্ছে না আবার কাজও করতে দেওয়া হচ্ছে না।

আখতার হোসেন প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘প্রথমে বলা হয়েছিল নতুন বিল্ডিংয়ের নিচতলায় ইলেকশন হবে। এজিএমে আমি ছিলাম না। ওইদিন আমার নাম ঘোষণা করার জন্য আমি বলি নাই, তারা নিজেরাই বলেছে। আমার মতামত না নিয়েই কমিশনে আমার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এখন পাঁচজন হয়েছে কমিশনে। ভেন্যু ঠিক করার সময় আমরা পাঁচজনই স্বাক্ষর দিয়েছি। আজকে আমরা বসার পর বলেছি, যেখানে আমরা পাঁচজনই স্বাক্ষর দিয়েছি সুতরাং বার ভবনের নিচতলাতেই নির্বাচন হবে।’

আখতার হোসেন বলেন, ‘সকালে আমি জেলা জজ সাহেবের সাথে বসছি। তারে বলেছি, কোর্টের ভিতরে ইলেকশন করার পর ক্ষতি হলে তার দায়িত্ব আমি নিতে পারবো না। পরে জজসাহেব বলেছেন, তাহলে বারের নিচতলাতেই করেন। এ নিয়ে কমিশনের অন্যদের সাথে বসছি। বিশেষ সভায় এ নিয়ে কমিশনের অন্যদের সাথে প্রায় এক ঘন্টা আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে। তারা বলছেন, পদত্যাগ করবেন। পদত্যাগ করলে তো ইলেকশনই হয় না। এখন বলেন আমি কী বিপদে পড়ছি? পরে আবারও জেলা জজের কাছে গেলাম। পরে জজ আদালতের কনফারেন্স রুমে নির্বাচন করার কথা বললেন তিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার কথায় ঠিক আছি। আমার কথায় কোন নড়চড় নাই। মুখে এক কথা বলে অন্য কাজ আমি করি না। কিন্তু আমি একা কী করবো? আমার করার কিছু নাই। এই হলো অবস্থা!’

কমিশনে থাকতে চাননি বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির এড. সাখাওয়াত সাহবেকে এবং সেক্রেটারি মোহাসীনকে ডেকে গ্রন্থাগারে বসে বলেছি, তলবি সভা ডাকো। আমি পদত্যাগ করবো। কিন্তু আমাকে পদত্যাগ করতে দিচ্ছে না আবার কাজও করতে দেয় না। আমি নিরুপায়। এই বিষয়গুলো সবার জানার দরকার আছে। এগুলো সত্য কথা, কোন মিথ্যা কথা নাই। আমি আর কখনও নির্বাচন কমিশনে আসবো না।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ