সোমবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

না.গঞ্জে যার যে কারণে বাতিল হলো মনোনয়নপত্র

রবিবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৫৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে মোট ৬১ জন প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

রবিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া। এ সময় ঋণখেলাপি, এক ভাগ ভোটারের সমর্থন না থাকা, হলফনামায় উল্লেখিত তথ্যাদির ঘাটতিসহ নানা কারণে এদের প্রার্থীতা বাতিল করেছেন তিনি। তবে আগামী তিনদিনের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন বাতিলকৃত প্রার্থীরা।

যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা হলেন, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মো. রেহান আফজাল (স্বতন্ত্র), জাকের পার্টির মাহফুজুর রহমান। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে আবু হানিফ হৃদয় (স্বতন্ত্র)। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন (স্বতন্ত্র), এরশাদের পালিত কন্যা অনন্যা হুসাইন মৌসুমী (স্বতন্ত্র), বিএনএফ এর শাহাবুদ্দিন হোসেন ভূইয়া, গণফ্রন্টের সিরাজুল হক। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন (স্বতন্ত্র) ও তার ছেলে গোলাম মোহাম্মদ কায়সার (স্বতন্ত্র), জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ (স্বতন্ত্র), জাতীয় পাটির প্রার্থীর খোকা মোল্লা। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী প্রার্থীদের অন্তত নিজের পক্ষে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। নির্বাচনী আসনে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন না থাকায় নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেহান আফজাল ও জাকের পার্টির মাহফুজুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। একই কারণে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু হানিফ হৃদয়ের মনোনয়নপত্রও বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এই আসনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন না থাকায় ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচনী আসনে এক ভাগ ভোটারের সমর্থন না থাকায় প্রার্থীতা বাতিলের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেন। একই কারণে বাতিল হয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পালিত কন্যা স্বতন্ত্র প্রার্থী অনন্যা হুসাইন মৌসুমী। মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল করা কাগজপত্রের কয়েকটি স্থানে স্বাক্ষর না থাকায় বিএনএফ প্রার্থী শাহাবুদ্দিন হোসেন ভূইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদিকে ঋণখেলাপির দায়ে গণফ্রন্টের প্রার্থী সিরাজুল হকের প্রার্থীতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় ফৌজদারি মামলার পূর্ণ তথ্যাদি না থাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাউসার আহমেদ পলাশের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে ঋণখেলাপির দায়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। গিয়াসউদ্দিনের বিরুদ্ধে অগ্রনী ব্যাংকে ঋণখেলাপীর অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে গিয়াসউদ্দিনের ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মুহাম্মদ কায়সারের এক ভাগ ভোটারের স্বাক্ষরের সত্যতা না থাকায় প্রার্থীতার বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় ২’শ অথবা ৩’শ টাকার একটি স্ট্যাম্প সংযুক্ত না করার কারণে জাতীয় পাটির প্রার্থী সালাউদ্দিন খোকা মোল্লার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে বিএনপির প্রার্থী মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। খোরশেদ তাঁর স্ত্রী আফরোজা খন্দকার লুনার নামীয় প্রতিষ্ঠানের জামিনদার হয়েছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী বাছাইয়ে যাদের প্রার্থীতা বাতিল হবে তারা ইচ্ছে করলে প্রার্থীরতা ফিরে পেতে কমিশন বরাবর আবেদন করতে পারবেন। এজন্য তিনদিনের মধ্যে আবেদন জানাতে পারবেন। কমিশন তদন্ত্রে প্রার্থীতা বাতিল হলে শেষ আশ্রয় হিসেবে আদালতেও আপিল করা যাবে। তবে আদালত থেকে প্রার্থীতা বাতিল করা হলে তিনি নির্বাচনে আর অংশ নিতে পারবেন না।

সব খবর
মতামত বিভাগের সর্বশেষ