বৃহস্পতিবার ২৩ জানুয়ারি, ২০২০

না’গঞ্জে মাটি না শুধু মাথা দেখা যাবে: শামীম ওসমানের হুশিয়ারি

শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:২০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘খেলা যদি ওই পর্যায়ে যায় তাহলে ডাক দিলে ফতুল্লার নেতাকর্মীরা প্রস্তুত আছেন। নারায়ণগঞ্জে মাটিতে কিন্তু মাটি দেখা যাবে না, শুধু মাথা দেখা যাবে। ক্ষমতার দম্ভে বলি না। শামীম ওসমানের থাকাবস্থায় তার কর্মীদের আঘাত করে নারায়ণগঞ্জ শান্ত থাকবে এটা ভাবলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমার জীবন থাকতে একটা কর্মীর গায়ে আচড় দিয়ে নারায়ণগঞ্জে এক ঘন্টা কেউ আরামে ঘুমাতে পারবেন না। পরিষ্কার জানিয়ে দিলাম। আশা করি, আমার এই বক্তব্য হালকাভাবে নিবেন না।’

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ফতুল্লায় নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে দেয়া এক বক্তব্যে এ হুশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার কথা বলা উচিত। এই মামলা তারা খেয়েছে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে। আজকের থেকে ২২ মাস আগে নারায়ণগঞ্জে হকারদের সাথে সংঘর্ষ হয়েছিল মেয়রের। হকারদের সাথে মেয়রের সংঘর্ষ হয় এটা আমি কোথাও শুনি নাই। হকার তো সাধারণ গরীব মানুষ। গরীব মানুষকে নিয়ে মারধর করা এটা কোন রাজনীতিকের কাজ কিনা আমি জানি না। ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। আওয়ামী লীগের এক সময়ের তুখোর নেতা নিয়াজুল হেটে যাচ্ছিল, সে ঘটনার বিষয় জানতোও না। বিএনপি পরবর্তী সময়ে পারিবারিক চাপে রাজনীতি থেকে সরে যেতে হয়েছিল নিয়াজুলকে। এই নিয়াজুলের পরিচয় হচ্ছে, এই নিয়াজুলের বড় ভাই হচ্ছে নজরুল ইসলাম সুইট। নিয়াজুল গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিল রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম দেখে আছরের নামায পড়ার উদ্দেশ্যে গাড়ি থেকে নেমে যায়। যদি হামলা করতে যেতো তাহলে একা যেতো না, সাথে ২০-২৫ জন লোক থাকার কথা। রাজনীতি করা ছেলে যখন দেখেছে গরীব মানুষকে মারা হচ্ছে তখন সে প্রতিবাদ করেছিল। পরে তার উপর হামলা করা হলো। ভিডিও ফুটেজ দেখেন।’

সাংসদ বলেন, ‘এই মামলা হাইকোর্ট থেকে ২২ মাস নিলো না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আইজিপি, এসপি, ডিসি, ওসিকে বিবাদী করা হলো। এসব করে আমাদের নামে মামলা দেওয়া হলো।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও আড়াইহাজার পৌরসভার মেয়র সুন্দর আলী, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনার ২২ মাস ১৮ দিন পর আদালতে মামলা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর মডেল থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে গত বুধবার বিকেলে সিটি কর্পোরেশনের আইন কর্মকর্তা জি এম এ সাত্তার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের ৯ সমর্থকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৯০০-১০০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- ঘটনার দিন অস্ত্র প্রদর্শনকারী নিয়াজুল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ কর্মী নাসির উদ্দিন ওরফে টুন্ডা নাসির, যুবলীগ নেতা চঞ্চল মাহমুদ। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে তারা সবাই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ