শনিবার ১৭ আগস্ট, ২০১৯

না’গঞ্জে এসে ‘মা’কে নিয়ে কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক যা বললেন

শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিত্রনাট্যকার আনিসুল হক তাঁর মায়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমার মা সব সময় দুঃখ করতেন। তার পাঁচ বাচ্চার মধ্যে একটি বাচ্চা মানুষ হয়নি। সেটা হচ্ছি আমি। তার পাঁচ বাচ্চার মধ্যে ২জন ডাক্তারি পড়তে, ২ জন ইঞ্জিনিয়ারিং ও ছোট ছেলে ইংরেজি সাহিত্য পড়তে গিয়েছিলো। আমি আর ইঞ্জিনিয়ারিং করিনি, লেখালেখির মধ্যে চলে আসি। আমি মাঝখানে বিসিএস পরীক্ষাও দিয়েছিলাম। টিকে এক মাস চাকরিও করেছিলাম। তারপর পালিয়ে আসি। আমি তখন ভোরের কাগজে কাজ করতাম। আমার সঙ্গে আমার স্ত্রীও কাজ করতেন। একদিন আমি তাকে বললাম তোমারও আর বয়স নাই, আমারও বয়স নাই এসো আমরা বিয়ে করে ফেলি। তিনি বললেন, আমার বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে ডাক্তারের সঙ্গে। নি¤œপক্ষে ইঞ্জিনিয়ার না হলে বাবা-মা তোমার সঙ্গে আমাকে বিয়ে দেবে না। কি আর করার, বিয়ে করার জন্য আমাকে বিসিএস দিতে হলো। এক মাস চাকরি করতে হলো। এর মধ্যে যেহেতু আমার বিয়ে হয়ে গেলো আর আমি পালিয়ে এলাম। আজকে আমি আমার মা স্মরণ করছি এ কারণে, আজ মা বেঁচে থাকলে আমি তাকে এখানে নিয়ে আসতে পারতাম, দেখাতে পারতাম। তোমার যে ছেলেটা মানুষ হয়নি সে ছেলেকেও লোকে ডেকে ডেকে পুরষ্কার দেয়।’

শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় চাষাড়া সুধীজন পাঠাগারের আয়োজনে অধ্যাপক নুরুল হক সাহিত্য পুরষ্কার ২০১৮ ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের অধ্যাপক নুরুল হক সাহিত্য পুরষ্কারটি পেয়েছেন আনিসুল হক।

আনিসুল হক বলেন, ‘রংপুরে একটি পাবলিক লাইব্রেরি আছে। তবে সেখানে কেউ বই পড়তে যেতো না। যে কয়জন যায় তারা পত্রিকা পড়তে যেতো। সুধীজন পাঠাগারে যা উদ্যোগ সেটা নুরুল হক সাহেবের হোক আর আপনাদের হোক দুটি ভীষন ভালো কাজ। একটি হচ্ছে আপনার বই পৌছে দেন, পাঠক সৃষ্টি করেন, পাঠকের হৃদয়কে আলোকিত করেন। এর থেকে মহৎ কাজ তো আর কিছু হতে পারে না। মানুষের পিছনে, শিক্ষার পিছনে বিনিয়োগ হচ্ছে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। এটা আমার জন্য একটি বড় সম্মান।’

সুধীজন পাঠাগারের পরিচালক কাশেম জামালের সভাপতিত্বে ‘অধ্যাপক নুরুল হক সাহিত্য পুরষ্কার ২০১৮ ও বৃত্তি প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ড. এসএম জাবেদ আহমেদ।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ